“ক’টা আসন জিতলেন?” মোদীকে মোক্ষম জবাব দিয়ে মোদীর রাজ্যেই খাতা খুলল হাত শিবির!

“ভোট তো ব্যালটে হয়েছিল, ক’টা আসন জিতলেন?”—বুধবার রাতেই বিধান পরিষদের নির্বাচন নিয়ে কংগ্রেসকে নিশানা করে সোশ্যাল মিডিয়ায় এমনটাই রসিকতা করেছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। কিন্তু বৃহস্পতিবার সকালে ভোটগণনা শেষ হতেই চিত্রটা সম্পূর্ণ বদলে গেল। ২৮টি আসনের লড়াইয়ে কংগ্রেসের ঝুলিতে একটিমাত্র জয় এলেও, সেই জয়টিই এখন জাতীয় রাজনীতির সবচেয়ে বড় চর্চার বিষয়। কারণ, এই আসনটি আর কোথাও নয়, খোদ রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সঙ্ঘের (RSS) সদর দফতর নাগপুর এবং মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফড়ণবিশের নিজের এলাকা।

মোদীর কটাক্ষ ও নাগপুরের ‘মহা-টুইস্ট’

বুধবার ৪ রাজ্যের ২৮টি বিধান পরিষদের আসনে ভোটগণনা চলাকালীন কংগ্রেসের ফলাফল শূন্য থাকায় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী সহ বিজেপি শিবির ব্যাপক উল্লাস শুরু করে। সোশ্যাল মিডিয়ায় নাম না করে রাহুল গান্ধীকে কটাক্ষ করে প্রধানমন্ত্রী লেখেন, ‘পিকচার অভি বাকি হ্যায়…’ জাতীয় স্তরে যখন কংগ্রেসের ভরাডুবি নিয়ে হাসাহাসি চলছে, ঠিক তখনই বৃহস্পতিবার সকালে নাগপুর গ্র্যাজুয়েটস আসনে চমকপ্রদ ফলাফল সামনে আসে।

  • কাকে হারাল কংগ্রেস? নাগপুরের এই মর্যাদার লড়াইয়ে কংগ্রেস প্রার্থী অভিজিৎ ওয়াঞ্জারি বিজেপি প্রার্থী সুধাকর কোলেকে ৩ হাজার ২৭১ ভোটে পরাজিত করেছেন।

  • রাজনৈতিক তাৎপর্য: RSS-এর খাসতালুকে এবং কেন্দ্রীয় মন্ত্রী নীতিন গড়কড়ির নিজ এলাকায় বিজেপির এই পরাজয় গেরুয়া শিবিরের কাছে বড় ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে।

মহারাষ্ট্র ও অন্যান্য রাজ্যের সার্বিক ফলাফল

যদিও সামগ্রিক দিক থেকে মহারাষ্ট্রে মোট ৫টি আসনের মধ্যে শাসক জোট দুটি এবং বিরোধী ‘মহা বিকাশ আঘাড়ি’ (MVA) ৩টি আসনে জয়লাভ করেছে, তবুও নাগপুরের এই জয় কংগ্রেস শিবিরের মনোবল অনেকটাই বাড়িয়ে দিয়েছে।

অন্যদিকে, কর্নাটকের ফলাফল কংগ্রেসের জন্য কিছুটা উদ্বেগের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কারণ, সেখানে বিরোধী হিসেবে নয়, বরং খোদ ক্ষমতাসীন দল হিসেবেই নির্বাচনে লড়েছিল কংগ্রেস। পাশাপাশি উত্তরপ্রদেশ, বিহার ও মহারাষ্ট্রে কংগ্রেসের সার্বিক ফল খুব একটা আশানুরূপ না হলেও, স্থানীয় রাজনৈতিক সমীকরণ এবং আঞ্চলিক দলগুলির প্রভাব এই নির্বাচনে বড় ভূমিকা পালন করেছে।

বিশ্লেষকদের মতামত

বিধান পরিষদের এই নির্বাচনগুলিতে সাধারণ ভোটারদের পরিবর্তে নির্দিষ্ট পেশার নথিভুক্ত ভোটাররা (যেমন শিক্ষক বা স্নাতক) ভোট দেন। ফলে এখানে জাতীয় রাজনীতির চেয়ে প্রার্থীদের ব্যক্তিগত প্রভাব এবং স্থানীয় সমীকরণ বেশি কার্যকরী হয়। তা সত্ত্বেও, খোদ সঙ্ঘের গড়ে বিজেপির এই ধাক্কা এবং মোদীর কটাক্ষের ঠিক পরেই কংগ্রেসের এই কামব্যাক রাজনৈতিক মহলে আলোড়ন ফেলে দিয়েছে।

উপসংহার:

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর উপহাসের জবাবে কংগ্রেসের এই একটিমাত্র জয় কীভাবে বিজেপি দুর্গের ভিত নাড়িয়ে দিল, এখন সেটাই হয়ে উঠেছে রাজ্য ও জাতীয় রাজনীতির প্রধান আলোচনার বিষয়।