আদালতের নির্দেশে ফের স্বস্তি! সন্দীপ ঘোষের পর এবার জামিন পেলেন আরজি করের ঘনিষ্ঠ ভেন্ডার সুমন হাজরা!

আট থেকে তলা—আরজি কর মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালের ভয়াবহ চিকিৎসক খুন ও ধর্ষণ কাণ্ডের পাশাপাশি আর্থিক দুর্নীতি মামলায় নতুন করে আইনি মোড় দেখা গেল। গত সপ্তাহেই সুপ্রিম কোর্ট থেকে আর্থিক কেলেঙ্কারির এই মামলায় জামিন পেয়েছিলেন প্রতিষ্ঠানের বিতর্কিত প্রাক্তন অধ্যক্ষ সন্দীপ ঘোষ। আর এবার সন্দীপ ঘোষের সেই সুদিনের রেশ কাটতে না কাটতেই কলকাতা হাইকোর্ট থেকে শর্তসাপেক্ষে জামিন পেলেন তাঁর অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ এবং হাসপাতালের প্রাক্তন ভেন্ডার সুমন হাজরা। এই দুই অভিযুক্তের পরপর জামিন পাওয়ার ঘটনায় চিকিৎসকমহল এবং সাধারণ মানুষের একাংশের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের আগুন জ্বলে উঠেছে। আদালতের এমন রায়ের পর জুনিয়র ডাক্তারদের সংগঠন এবং নিহত অভয়ার বাবা-মা প্রকাশ্যেই তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন এবং বিচার ব্যবস্থার গতিপ্রকৃতি নিয়ে প্রশ্ন তুলে ফের নতুন করে রাজপথে নামার হুংকার দিয়েছেন।
সিবিআই সূত্রে জানা গিয়েছিল, আরজি কর হাসপাতালের চিকিৎসা সরঞ্জাম সরবরাহ থেকে শুরু করে বিভিন্ন বড় ও ছোট টেন্ডার পাইয়ে দেওয়ার ক্ষেত্রে বিপ্লব সিংহ এবং সুমন হাজরা নামের দুই ভেন্ডার একচেটিয়া সুবিধা ভোগ করতেন। হাসপাতালের আর্থিক অনিয়ম ও দুর্নীতির মূল কাণ্ডারী সন্দীপ ঘোষের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত ছিলেন এই সুমন হাজরা। গত ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বর মাসে সিবিআই এই দুর্নীতির অভিযোগে তাঁদের গ্রেফতার করেছিল। দীর্ঘ দু’বছর ধরে তাঁরা জেলবন্দি ছিলেন। তবে কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি তীর্থঙ্কর ঘোষের একক বেঞ্চে এই মামলার শুনানিতে এক চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে। আদালতের সূত্র জানাচ্ছে, আরজি করের এই আর্থিক দুর্নীতির মামলায় মোট ১৪৭ জন সাক্ষীকে চিহ্নিত করা হলেও গত দুই বছরে মাত্র ৮ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ করা সম্ভব হয়েছে। বিচার প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার দূরদূরান্তেও কোনো সম্ভাবনা না থাকায় এবং ট্রায়ালের অতিরিক্ত দীর্ঘসূত্রিতার কথা বিবেচনা করেই বিচারপতি সুমন হাজরার শর্তসাপেক্ষে জামিন মঞ্জুর করেছেন।