ভুটানে ভয়াবহ বিপর্যয়! উত্তরবঙ্গে ১০ হাজার বাসিন্দাকে জরুরি সরানোর নির্দেশ

ভুটানে বড়সড় প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের জেরে চরম সংকটে উত্তরবঙ্গ! প্রতিবেশী রাষ্ট্র ভুটানের শিনতাফু লেক ফেটে গিয়ে হুড়মুড়িয়ে নেমে আসছে হিমবাহের বিধ্বংসী জলরাশি। এর ফলে কালচিনি, আলিপুরদুয়ারসহ সমগ্র উত্তরবঙ্গের বেশ কয়েকটি জেলায় তৈরি হয়েছে প্রবল বন্যা পরিস্থিতি। দার্জিলিং, আলিপুরদুয়ার ও জলপাইগুড়ি জেলা জুড়ে ইতিমধ্যেই জারি করা হয়েছে হাই অ্যালার্ট। সবচেয়ে আশঙ্কাজনক পরিস্থিতি আলিপুরদুয়ারের সংকোষ নদী অববাহিকায়, যেখানে প্রশাসন নির্দেশিত ‘লাল সতর্কতা’ (Red Alert) জারি রয়েছে।
যুদ্ধকালীন তৎপরতায় ১০ হাজার মানুষকে স্থানান্তর!
পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝে চরম ক্ষিপ্রতায় উদ্ধারকাজে নেমেছে স্থানীয় প্রশাসন। আলিপুরদুয়ারের পুলিশ সুপার অমিত কুমার শ জানিয়েছেন, ইতিমধ্যেই প্রায় ৪,০০০ থেকে ৫,০০০ মানুষকে উদ্ধার করে নিরাপদ আশ্রয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে এবং সব মিলিয়ে ১০,০০০-এরও বেশি মানুষকে সরিয়ে নিয়ে যাওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে। স্থানীয় স্কুলভবনগুলিকে জরুরি ত্রাণশিবির হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে।
ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় জরুরি পরিষেবা পৌঁছে দিতে নেমেছে:
SDRF ও সিভিল ডিফেন্সের সক্রিয় দল
NDRF-এর বিশেষ উদ্ধারকারী বাহিনী
ত্রাণ শিবিরে পর্যাপ্ত শুকনো খাবার, পানীয় জল ও শৌচাগারের ব্যবস্থা
[ উত্তরবঙ্গে ত্রাণ ও উদ্ধারের চিত্র ]
সরিয়ে নেওয়া মানুষ : ████████████████████ 10,000+
জরুরি ত্রাণশিবির : স্থানীয় সমস্ত স্কুলভবন
প্রধান ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চল: সংকোষ নদী অববাহিকা (লাল সতর্কতা)
জলের তোড়ে ভেসে আসতে পারে কংক্রিট ও বর্জ্য!
প্রশাসনের হাতে আসা সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, জলের তীব্রতা বর্তমানে সামান্য কমলেও বিপদ কাটেনি বললেই চলে। আগামী কয়েক ঘণ্টার মধ্যে সংকোষ নদী দিয়ে বিপুল পরিমাণ জল প্রবাহিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
বিপদের বড় পূর্বাভাস: প্রশাসন থেকে সতর্ক করে জানানো হয়েছে, ধেয়ে আসা এই জলের সঙ্গে প্রচুর পরিমাণে মরা মাছ, বিশাল কাঠের গুঁড়ি এবং কংক্রিটের মারাত্মক ধ্বংসাবশেষ ভেসে আসতে পারে। তাই সাধারণ মানুষকে নদী তীরবর্তী এলাকায় না যাওয়ার কড়া পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
কী ঘটেছিল ভুটানে?
ঘটনার সূত্রপাত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায়। ভুটানের উচ্চ পার্বত্য অঞ্চলে অবস্থিত শিনতাফু লেকটি হঠাৎ করেই ফেটে (Glacial Lake Outburst) প্রকাণ্ড আকারে জল বাইরে বেরিয়ে আসে। মুহূর্তের মধ্যে সাইরেন বাজিয়ে আশেপাশের এলাকাবাসীকে সতর্ক করা হলেও, সেই বিপুল পরিমাণ হিমবাহের জল নিচের দিকে ধেয়ে আসতে শুরু করে এবং সীমান্ত পেরিয়ে ভারতের উত্তরবঙ্গে তাণ্ডব চালানের পরিস্থিতি তৈরি করে।
তবে পুলিশ সুপার সাধারণ মানুষকে আশ্বস্ত করে জানিয়েছেন, “আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই, পরিস্থিতি সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। আমরা ভুটানের প্রশাসনের সঙ্গে প্রতি মুহূর্তে যোগাযোগ রাখছি। পুলিশ, জেলাশাসক এবং বিডিও টিম একযোগে কাজ করছে।” আগামী কয়েক ঘণ্টার পর্যবেক্ষণের পরই স্পষ্ট হবে উত্তরবঙ্গের এই জল-বিপর্যয় ঠিক কতটা মারাত্মক মোড় নেয়।