অষ্টম বেতন কমিশন নিয়ে মেগা আপডেট! বার্ষিক ইনক্রিমেন্ট দ্বিগুণ হলেই হাতে আসবে লাখ লাখ টাকা?

অষ্টম বেতন কমিশন গঠন এবং এর সুপারিশ কার্যকর হওয়া নিয়ে দেশের কোটি কোটি কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মচারী ও পেনশনভোগীদের মধ্যে জল্পনা তুঙ্গে। সম্প্রতি মুম্বইয়ে অষ্টম বেতন কমিশনের উচ্চপর্যায়ের গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। এই বৈঠকে কর্মচারী প্রতিনিধি, বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠন এবং কমিশনের আধিকারিকরা অংশ নিয়েছিলেন। মূলত কর্মচারীদের বেতন কাঠামো, পেনশন, বিভিন্ন ভাতা এবং কর্মক্ষেত্রের পরিবেশ উন্নত করার বিষয়গুলো নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। আগামী দিনে কী ধরনের পরিবর্তন আসছে, তা নিয়ে এখন থেকেই হিসেব কষতে শুরু করেছেন ওয়াকিবহাল মহল।
দেশজুড়ে চলা বিভিন্ন বৈঠকের আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে বার্ষিক ইনক্রিমেন্ট বা মূল বেতন বৃদ্ধির হার। বর্তমানে নিয়ম অনুযায়ী কর্মচারীদের বার্ষিক বেতন বৃদ্ধির হার মাত্র ৩ শতাংশ। কিন্তু সাম্প্রতিক বৈঠকে এই হার বাড়ানোর জোরালো দাবি উঠেছে। কর্মচারী সংগঠনগুলির যুক্তি, বর্তমান ৩ শতাংশ হারে ২০১৬ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে মূল বেতন সামান্য ৩০ শতাংশের বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে, যা ক্রমবর্ধমান মুদ্রাস্ফীতির বাজারে অত্যন্ত নগণ্য। সংগঠনের মতে, বার্ষিক বৃদ্ধির হার বাড়ানো হলে ভালো বেতনবৃদ্ধির জন্য দীর্ঘ ১০ বছর অপেক্ষা করতে হবে না এবং বেতন কমিশনের উপর নির্ভরশীলতাও অনেকটাই কমবে।
কেন্দ্রীয় কর্মচারীদের প্রধান সংগঠন এনসি-জেসিএম (NC-JCM) তাদের আনুষ্ঠানিক স্মারকলিপিতে বার্ষিক বৃদ্ধির হার ৬ শতাংশ করার পক্ষে জোরালো সওয়াল করেছে। একই পথে হেঁটে এইউডিএফ (AIDEF) এবং এফএনপিও (FNPO)-র মতো প্রভাবশালী সংগঠনগুলিও ৬ শতাংশ ইনক্রিমেন্টের সুপারিশ করেছে। অন্যদিকে, অল ইন্ডিয়া এনপিএস এমপ্লয়িজ ফেডারেশন (AINPSEF) আরও এক ধাপ এগিয়ে ৭ শতাংশ বার্ষিক বৃদ্ধির দাবি জানিয়েছে। তাদের মতে, ৭ শতাংশ হার কার্যকর হলে মাত্র ৭ থেকে ৮ বছরের মধ্যেই কর্মচারীদের মূল বেতন দ্বিগুণ হয়ে যেতে পারে, যা বিশেষ করে নিম্ন পদের কর্মীদের জন্য বিরাট আর্থিক স্বস্তি আনবে।
বর্তমান কাঠামো অনুযায়ী লেভেল ৯-এর প্রাথমিক মূল বেতন ৫৩,১০০ টাকা, লেভেল ১০-এ ৫৬,১০০ টাকা এবং লেভেল ১১-র ক্ষেত্রে তা ৬৭,৭০০ টাকা। যদি আগামী দিনে ২.২৮ ফিটমেন্ট ফ্যাক্টর এবং ৫ থেকে ৭ শতাংশ বার্ষিক ইনক্রিমেন্টের হার কার্যকর হয়, তবে তার হিসেব হবে চমকপ্রদ। অনুমান করা হচ্ছে, ১০ বছরের মেয়াদে লেভেল ৯, ১০ ও ১১-র কর্মীরা যথাক্রমে প্রায় ৩৪ লক্ষ, ৩৬ লক্ষ এবং ৪৩ লক্ষ টাকা পর্যন্ত অতিরিক্ত মূল বেতন হাতে পেতে পারেন। তবে এটি সম্পূর্ণভাবে একটি আনুমানিক হিসাব। প্রকৃত ইনক্রিমেন্ট এবং বেতনের সঠিক চিত্র পেতে কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষ থেকে কমিশনের চূড়ান্ত প্রতিবেদন প্রকাশের বিজ্ঞপ্তি জারির জন্য অপেক্ষা করতে হবে।