‘ও আমাদের ভরসা ছিল’, ছেলের নামে আতঙ্কবাদী তকমা! চিকিৎসকের মৃত্যু নিয়ে কী বলছে পুলওয়ামায় উমরের পরিবার?

দিল্লির লাল কেল্লা সংলগ্ন এলাকায় গাড়ি বিস্ফোরণ-কাণ্ডে তদন্তকারীরা এখন চিকিৎসক ডাঃ উমর মহম্মদকেই মূল অভিযুক্ত হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। এই ভয়াবহ বিস্ফোরণে অন্তত আট জনের মৃত্যু হয়েছে। পুলিশ সূত্রে খবর, জম্মু ও কাশ্মীরের পুলওয়ামার বাসিন্দা এই চিকিৎসক একটি বৃহত্তর সন্ত্রাস মডিউলের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। মনে করা হচ্ছে, এই বিস্ফোরণে তাঁরও মৃত্যু হয়েছে। তবে দেহ উদ্ধার বা বিস্তারিত তথ্য নিয়ে গোয়েন্দা তরফে এখনও নিশ্চিত কিছু জানা যায়নি।
‘হোয়াইট কলার টেরর মডিউল’-এর যোগ:
তদন্তকারী সংস্থার প্রাথমিক রিপোর্ট বলছে, সোমবার রাতে লাল কেল্লার কাছে যে সাদা রঙের গাড়িটিতে বিস্ফোরণ হয়েছিল, সেটি চালাচ্ছিলেন ডাঃ উমর। তদন্তে স্পষ্ট ইঙ্গিত, বিস্ফোরণে তিনি নিজেও প্রাণ হারান। গোয়েন্দারা মনে করছেন, উমর ফরিদাবাদ-ভিত্তিক একটি সন্ত্রাস মডিউলের অংশ ছিলেন, যা পুলিশ মহলে ‘হোয়াইট কলার টেরর মডিউল’ নামে পরিচিত।
এই মডিউলে চিকিৎসক-সহ বহু পেশাদার মানুষ জড়িত ছিলেন, যাঁদের ধরতে সম্প্রতি একাধিক রাজ্যে যৌথ অভিযান চালিয়ে কয়েক জন সন্দেহভাজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাঁদের কাছ থেকে শিল্পে ব্যবহৃত উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন বিস্ফোরক অ্যামোনিয়াম নাইট্রেট ফুয়েল অয়েল (ANFO)-সহ বিপুল পরিমাণ অস্ত্র উদ্ধার হয়েছে।
জইশ-ই-মহম্মদ যোগ ও পরিবারের দাবি:
সূত্রের দাবি, এই নেটওয়ার্কের সঙ্গে কুখ্যাত জঙ্গি সংগঠন জইশ-ই-মহম্মদ (JeM)-এর যোগ পাওয়া গিয়েছে। লাল কেল্লার মতো পর্যটনকেন্দ্রে হামলার উদ্দেশ্য ছিল বড়সড় নাশকতা ঘটানো।
এই ঘটনার পরই পুলওয়ামায় ডাঃ উমরের পরিবারের সদস্যদের জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেছে পুলিশ। পরিবারের দাবি, তাঁরা উমরকে শুধুমাত্র পড়াশোনায় মনোযোগী একজন চিকিৎসক হিসেবেই চিনতেন। পরিবারের এক সদস্যের আক্ষেপ, “আমরা ভেবেছিলাম, এখন ও কিছু করবে আমাদের জন্য। ও-ই ছিল ভরসা। বড় ডাক্তার হলে দারিদ্র কিছুটা কমত।”
বর্তমানে দিল্লি পুলিশ ও এনআইএ (NIA) যৌথভাবে এই বিস্ফোরণের কারণ ও নেটওয়ার্কের ব্যাপ্তি যাচাই করছে। তদন্তকারীদের অনুমান, এই বিস্ফোরণ ভারতে সক্রিয় এক নতুন ধরনের সন্ত্রাস মডিউলের কার্যকলাপের অংশ।