ওয়াকফ আইনে আংশিক স্থগিতাদেশ সুপ্রিম কোর্টের, কীসের উপর নিষেধাজ্ঞা?

ওয়াকফ আইন (Waqf Act) নিয়ে একটি বড় রায় দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট। প্রধান বিচারপতি বি আর গভাই এবং বিচারপতি এ জি মসিহ-র বেঞ্চ ওয়াকফ আইনের কিছু বিতর্কিত ধারার উপর স্থগিতাদেশ জারি করেছে। এর ফলে ধর্মীয় এবং ব্যক্তিগত স্বাধীনতার বিষয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ রায় এসেছে।
যেসব ধারার উপর স্থগিতাদেশ:
সুপ্রিম কোর্টের এই রায়ে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ যে অংশগুলোর উপর স্থগিতাদেশ দেওয়া হয়েছে, সেগুলো হলো:
৫ বছরের ধর্ম পালনের শর্ত: ওয়াকফে সম্পত্তি দান করার জন্য কোনো ব্যক্তিকে পাঁচ বছর ধরে ইসলাম ধর্ম পালন করতে হবে—এমন শর্তে স্থগিতাদেশ দেওয়া হয়েছে। যতদিন সরকার এই বিষয়ে নতুন কোনো নিয়ম না করবে, ততদিন এই শর্ত কার্যকর হবে না।
সরকারি সম্পত্তি যাচাইয়ে সরকারি অফিসার: সরকারি জমি ওয়াকফ সম্পত্তি হিসেবে অধিগ্রহণ করা হয়েছে কিনা, তা যাচাই করার জন্য সরকারি অফিসার নিয়োগের সিদ্ধান্তেও স্থগিতাদেশ দিয়েছে আদালত।
অমুসলিম সদস্যের শর্ত: কেন্দ্রীয় স্তরের ওয়াকফ কমিটিতে অন্তত ৪ জন অমুসলিম এবং রাজ্যস্তরের কমিটিতে ৩ জন অমুসলিম সদস্য রাখার শর্তেও স্থগিতাদেশ দেওয়া হয়েছে।
অমুসলিম অফিসারের নিয়োগ: নতুন ওয়াকফ কমিটিতে যে সরকারি অফিসার নিয়োগ হবেন, তাকে অবশ্যই অমুসলিম হতে হবে—এই ধারার উপরও স্থগিতাদেশ দেওয়া হয়েছে।
রেভিনিউ রেকর্ড যাচাইয়ে ক্ষমতা: সরকারি অফিসার ওয়াকফ বোর্ডের রেভিনিউ রেকর্ড খতিয়ে দেখার এবং পরিবর্তন করার ক্ষমতা রাখতে পারবেন, এমন একটি সংস্থানের উপরও স্থগিতাদেশ জারি করেছে শীর্ষ আদালত।
সম্পূর্ণ আইনের উপর স্থগিতাদেশ নয়:
আদালত স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, পুরো ওয়াকফ আইনকে চ্যালেঞ্জ জানানো হলেও সম্পূর্ণ আইনের উপর এখনই কোনো স্থগিতাদেশ দেওয়া হচ্ছে না। বরং, কিছু ধারা যা বিশেষভাবে মৌলিক অধিকারকে বাধাগ্রস্ত করছে, সেগুলোর ওপরই স্থগিতাদেশ দেওয়া হয়েছে। সুপ্রিম কোর্ট মনে করে, আইন প্রণয়নের ইতিহাস এবং প্রতিটি ধারার ভিত্তি বিবেচনা করে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।