এ কী কাণ্ড! মহারাষ্ট্রের সরকারি স্কুলে পড়ুয়া সেজে বসল অন্য স্কুলের ছাত্ররা? মিলল মদের বোতলও!

নিট প্রশ্নফাঁস কাণ্ডে তৎকালীন কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলন করে দেশজুড়ে আলোচনায় আসা ‘ককরোচ জনতা পার্টি’র প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দিপকে এ বার সরাসরি নজরে রেখেছেন রাজ্যের স্কুল শিক্ষা ব্যবস্থাকে। সম্প্রতি ‘স্কুল ঠিক করো’ অভিযানের অংশ হিসেবে মহারাষ্ট্রের লাতুর জেলার আওসা এলাকার একটি সরকারি জেলা পরিষদ স্কুলে আচমকা পরিদর্শনে যান তিনি। আর সেই পরিদর্শনেই স্কুলের অন্দরে লুকিয়ে থাকা একের পর এক চাঞ্চল্যকর ও বিস্ফোরক তথ্য প্রকাশ্যে এনেছেন সিজেপি প্রতিষ্ঠাতা।
পরিদর্শনের সময় স্কুলের পরিকাঠামো নিয়ে চরম অসন্তোষ প্রকাশ করেন অভিজিৎ। তাঁর সরাসরি অভিযোগ, স্কুলে পড়ুয়াদের পানের জন্য পর্যাপ্ত সুপেয় জলের কোনো ব্যবস্থাই নেই। এমনকি শৌচাগারের বেহাল ও নোংরা দশা দেখে তিনি প্রশ্ন তোলেন। তাঁর আরও দাবি, তিনি স্কুল চত্বরে পা রাখার ঠিক আগেই তড়িঘড়ি শৌচাগার পরিষ্কার করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। পাশাপাশি মিড-ডে মিলের জন্য তক্ষুনি নতুন থালা আনা হয়েছিল বলেও অভিযোগ করেন তিনি। অভিজিতের দাবি, তাঁর আসার খবর আগে থেকেই ফাঁস হয়ে যাওয়ায় সবকিছু সাজিয়ে-গুছিয়ে দেখানোর মরিয়া চেষ্টা চালিয়েছিল স্কুল কর্তৃপক্ষ। সবচেয়ে চাঞ্চল্যকর বিষয় হলো, স্কুল চত্বর থেকে একটি মদের বোতল উদ্ধার হয়েছে বলেও দাবি করেছেন তিনি, যা শিক্ষাঙ্গনে বেআইনি কার্যকলাপের ইঙ্গিত দেয়।
যদিও অভিজিতের এই সমস্ত বিস্ফোরক অভিযোগ একেবারের উড়িয়ে দিয়েছেন সংশ্লিষ্ট স্কুল কর্তৃপক্ষ। স্কুলের প্রধান শিক্ষক পাল্টা সাফাই দিয়ে জানিয়েছেন, একই ভবনে মারাঠি মাধ্যম ও উর্দু মাধ্যম—এই দুটি আলাদা স্কুল পরিচালিত হয়। তাই বাইরে থেকে পড়ুয়া এনে বসানোর যে অভিযোগ করা হচ্ছে, তা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। সেদিন উপস্থিত সমস্ত ছাত্রছাত্রী ওই নির্দিষ্ট স্কুলেরই নিয়মিত পড়ুয়া। মিড-ডে মিলের থালা বদল সংক্রান্ত অভিযোগও পুরোপুরি খারিজ করে প্রধান শিক্ষক জানান, নতুন কোনো থালা আনা হয়নি, বরং দীর্ঘদিন ধরে ব্যবহার করা পুরনো থালাতেই ছাত্রছাত্রীরা খাবার খেয়েছে।
তবে স্কুলের ছাদ চুঁইয়ে জল পড়া এবং পর্যাপ্ত বেঞ্চের অভাবের মতো দীর্ঘমেয়াদী সমস্যাগুলির কথা উল্লেখ করে নিজের অবস্থানে সম্পূর্ণ অনড় রয়েছেন অভিজিৎ দিপকে। তীব্র কটাক্ষ করে তিনি বলেন, ‘একজন মন্ত্রীর কুকুরও পড়ুয়াদের চেয়ে অনেক ভালো সুযোগ-সুবিধা পায়!’ এই ঘটনার পর মহারাষ্ট্রের স্কুলশিক্ষামন্ত্রী দাদাজি ভুসের পদত্যাগের দাবি জানানোর পাশাপাশি স্থানীয় দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্লক শিক্ষা আধিকারিকদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিও তুলেছেন সিজেপি প্রতিষ্ঠাতা। আগামী দিনে লাতুর জেলার সরকারি ও পুরসভা পরিচালিত স্কুলগুলিতে পানীয় জল, শৌচাগার, নিরাপত্তা, মিড-ডে মিল ও সরকারি প্রকল্প সহ মোট ১০টি গুরুত্বপূর্ণ দিক খতিয়ে দেখতে বিস্তারিত সামাজিক অডিট বা সোশ্যাল অডিট চালানোর ঘোষণা দিয়েছে এই সংগঠন।