মারাঠি না জানলে আর চলবে না! মহারাষ্ট্রে অটো-ট্যাক্সি চালকদের জন্য কড়া নিয়ম চালু করল সরকার

মহারাষ্ট্র সরকারের পক্ষ থেকে রাজ্যের বাণিজ্যিক অটো-রিকশা ও ট্যাক্সি চালকদের জন্য মারাঠি ভাষায় কার্যকরী জ্ঞান থাকা বাধ্যতামূলক করার পর থেকেই তীব্র চাঞ্চল্য ও কৌতূহল তৈরি হয়েছে। চালক এবং যাত্রীদের মধ্যকার দৈনন্দিন যোগাযোগ আরও মসৃণ ও সহজতর করে তোলার উদ্দেশ্যেই এই কঠোর নীতি কার্যকর করা হয়েছে। নিয়মটি সঠিক ও যথাযথভাবে বাস্তবায়নের লক্ষে রাজ্য পরিবহন বিভাগ বৃহস্পতিবার থেকে দেশজুড়ে এক বিশেষ পরিদর্শন অভিযান শুরু করেছে। এই অভিযানের প্রথম ধাপে মারাঠি ভাষায় পর্যাপ্ত দক্ষতা বা জ্ঞান না থাকার অপরাধে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে মোট ১,২৬৮ জন বাণিজ্যিক চালককে তাৎক্ষণিকভাবে কারণ দর্শানোর নোটিশ জারি করা হয়েছে।

বিশেষ করে দেশের অর্থনৈতিক রাজধানী মুম্বাই ও তার পার্শ্ববর্তী সংলগ্ন মেট্রোপলিটন এলাকাগুলোতে অত্যন্ত কড়া নজরদারি ও তল্লাশি অভিযান চালিয়েছে পরিবহন দপ্তরের বিশেষ দলগুলো। শুধুমাত্র মুম্বাই মেট্রোপলিটন অঞ্চল বা এমএমআর (MMR) এর ভেতরেই প্রায় ৩,৯৯৫ জন অটো ও ট্যাক্সি চালকের ভাষা সংক্রান্ত দক্ষতা পরীক্ষা করা হয়েছে। এর মধ্যে ঠিক ৬০৪ জন চালকের দৈনন্দিন ব্যবহারের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবহারিক মারাঠি দক্ষতার যথেষ্ট অভাব দেখতে পান আধিকারিকরা। ফলস্বরূপ, তাৎক্ষণিক পদক্ষেপে তাঁদের প্রত্যেককেই কড়া নোটিশ পাঠানো হয়েছে।

মুম্বাই মহানগর বাদেও মহারাষ্ট্রের অন্যান্য জেলাগুলোর পরিস্থিতিও প্রায় একই রকম। রাজ্যের বাকি অংশগুলোতে মোট ৪,২২২ জন চালককে যাচাই বা স্ক্যান করা হয়েছিল, যার মধ্যে আরও ৬৬৪ জন চালক নিয়মভঙ্গের দায়ে নোটিশের আওতায় এসেছেন। সার্বিক এই পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে রাজ্যের পরিবহন মন্ত্রী প্রতাপ সারনাইক একটি বিশেষ স্পষ্টীকরণ দিয়ে জানিয়েছেন যে, প্রশাসন সাধারণ চালকদের প্রতি কোনো রকম অমানবিক আচরণ করছে না বরং তাঁদের এই ভাষাটি শিখে নেওয়ার জন্য পর্যাপ্ত সময় ও সুযোগ দেওয়া হচ্ছে।

তবে এই ছাড় মানেই আইনকে ফাঁকি দেওয়ার কোনো সুযোগ নেই তা পরিষ্কার করে দিয়েছেন মন্ত্রী। আগামী ২০২৬ সালের ৩০শে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত এই বিশেষ পরিদর্শন ও সচেতনতামূলক অভিযান নিরবচ্ছিন্নভাবে চলবে। মন্ত্রী অত্যন্ত জোরালোভাবে সতর্ক করে দিয়েছেন যে, নির্ধারিত এই সময়সীমা পার হওয়ার পরেও যদি কোনো বাণিজ্যিক চালক এই সরকারি নিয়ম লঙ্ঘন করতে ধরা পড়েন, তবে তাঁদের বিরুদ্ধে অত্যন্ত কঠোর আইনি ও প্রশাসনিক শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। নিয়ম এড়ানোর বা ফাঁকি দেওয়ার কোনো পথ খোলা থাকবে না।