এয়ার ইন্ডিয়াতেই বড়সড় কোপ! নিয়ম ভাঙলে আর রেহাই নেই, কড়া হুঁশিয়ারি CEO ক্যাম্পবেল উইলসনের

এয়ার ইন্ডিয়ার চিফ এক্সিকিউটিভ অফিসার তথা ব্যবস্থাপনা পরিচালক ক্যাম্পবেল উইলসন সম্প্রতি সংস্থার একটি অন্তিম টাউনহলে অংশ নিয়ে নিয়ম ও বিধি লঙ্ঘনকারীদের বিরুদ্ধে নিজের চরম ক্ষোভ ও হতাশা প্রকাশ করেছেন। কর্মীদের সরাসরি সতর্ক করে তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেন, “কেউ নজরদারি না করলেও সবসময় সঠিক কাজটিই করা উচিত।” সংস্থার অন্দরে কোনো ধরনের অনিয়ম চোখে পড়লে অবিলম্বে তা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে রিপোর্ট করার জন্য সমস্ত কর্মীকে তিনি জোরালো আহ্বান জানিয়েছেন।
ক্যাম্পবেল উইলসন অত্যন্ত কড়া সুরে সতর্ক করে জানান যে, এয়ার ইন্ডিয়াতে এখন থেকে যেকোনো ধরনের নিয়ম ভাঙার ঘটনা আর কোনোভাবেই সহজভাবে বা নমনীয়ভাবে বরদাস্ত করা হবে না। এই ধরনের অনিয়মের বিরুদ্ধে এয়ার ইন্ডিয়া প্রশাসন এখন অনেক বেশি আক্রমণাত্মক ও কঠোর অবস্থান নিয়েছে এবং ভবিষ্যতে অভ্যন্তরীণ নজরদারি ও যাচাইকরণের পরিধি আরও বহুগুণ বাড়ানো হবে। তবে তাঁর মূল পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, এয়ার ইন্ডিয়ার প্রকৃত সমস্যা শুধুমাত্র নির্দিষ্ট কিছু নিয়মকানুনের অভাব নয়, বরং সামগ্রিক কাজের সংস্কৃতি এবং কর্মীদের মধ্যে আত্মশৃঙ্খলার চরম ঘাটতি। সংস্থার নিরাপত্তা এবং পেশাদারিত্বের মান সর্বোচ্চ স্তরে নিশ্চিত করতে কর্মীদের নিজেদের অভ্যন্তরীণ দায়িত্ববোধ থেকেই সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার ওপর তিনি সর্বাধিক জোর দিয়েছেন।
এই প্রশাসনিক কঠোরতার অংশ হিসেবেই এয়ার ইন্ডিয়ার সমস্ত পাইলটদের জন্য ইতিমধ্যেই বাধ্যতামূলক স্ক্রিনিং বা বিশেষ স্বাস্থ্য পরীক্ষা প্রক্রিয়া শুরু হয়ে গিয়েছে। সংস্থার অভ্যন্তরে নিরাপত্তা ও পেশাদারিত্বের মানকে আরও বেশি শক্তিশালী এবং ত্রুটিহীন করতে এয়ার ইন্ডিয়া সমস্ত গ্রুপ পাইলটদের এই বাধ্যতামূলক স্ক্রিনিংয়ের আওতায় আনার যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সংস্থার পক্ষ থেকে পাইলটদের উদ্দেশে পাঠানো এক বিশেষ অভ্যন্তরীণ বার্তায় স্পষ্ট জানানো হয়েছে যে, দায়িত্ব পালনের আগে বা সেসময়ে নিষিদ্ধ কোনো পদার্থ বা ক্ষতিকর ওষুধ গ্রহণ করা হয়েছে কি না, তা নিখুঁতভাবে যাচাই করতেই এই স্ক্রিনিং করা হচ্ছে।
এয়ার ইন্ডিয়ার দাবি, ভারতীয় বিমান নিয়ন্ত্রক সংস্থা ডিজিসিএ (DGCA)-র সমস্ত কঠিন নিয়মকানুন ও নির্দেশিকা তারা ইতিমধ্যেই নিখুঁতভাবে মেনে চলে। এই নিয়মগুলি ইউরোপ ও আমেরিকার মতো বিশ্বের অন্যান্য প্রধান বিমান চলাচলকারী দেশের কঠোর মানদণ্ডের সঙ্গেও সম্পূর্ণ সামঞ্জস্যপূর্ণ। তা সত্ত্বেও, লক্ষাধিক যাত্রী ও বৃহত্তর সমাজের অবিচল আস্থা বজায় রাখতে নিয়ন্ত্রক সংস্থার নির্ধারিত ন্যূনতম নিয়মের পরিধির বাইরেও এক ধাপ এগিয়ে গিয়ে এই অতিরিক্ত পদক্ষেপ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সংস্থার তরফে আরও জানানো হয়েছে যে, এই বিশেষ পরীক্ষা সম্পূর্ণ বাধ্যতামূলক এবং এটি নির্ধারিত ১৩ অগাস্ট ২০২৬ তারিখ থেকেই কার্যকর করা হয়েছে। গুরুগ্রাম অ্যাকাডেমিতে প্রশিক্ষণের পাশাপাশি, ফ্লাইটের পরবর্তী ফ্লাইট ব্রিফিং সেন্টার, এয়ার ইন্ডিয়ার নিজস্ব অফিস কিংবা সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বেসে নির্ধারিত নির্দিষ্ট জায়গায় এই স্ক্রিনিং প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হচ্ছে।
এয়ার ইন্ডিয়া কর্তৃপক্ষের মতে, এই অভিনব উদ্যোগ শুধুমাত্র কাঠামোগত নিয়ম মেনে চলার আনুষ্ঠানিকতার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। বিমান চলাচলের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা ও পেশাদারিত্বের মান বজায় রাখার পাশাপাশি সম্মানিত যাত্রী, অংশীদার এবং বৃহত্তর সমাজের আস্থা আরও বেশি সুদৃঢ় করতেই এই পদক্ষেপ। পরিশেষে, পাইলটদের উদ্দেশে পাঠানো সংস্থার বার্তায় তাঁদের বিগত দিনের পেশাদারিত্ব, নিষ্ঠা এবং এয়ার ইন্ডিয়ার ব্র্যান্ডের প্রতি মানুষের আস্থা বজায় রাখার জন্য আন্তরিক ধন্যবাদ জানানো হয়েছে। পাশাপাশি, কোনো বিষয়ে সংশয় বা জানার প্রয়োজন হলে সংশ্লিষ্ট চিফ পাইলট অথবা বেস ম্যানেজারের সঙ্গে দ্রুত যোগাযোগ করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।