এবার লাইব্রেরি থেকে চিরতরে বিদায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বই! মন্ত্রী গৌরীশঙ্কর ঘোষের বড় ঘোষণা

‘এপাং ওপাং’, ‘হাম্বা হাম্বা’ থেকে ‘টর্নেডো’—প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের লেখা কবিতার বইগুলি বরাবরই নানা বিতর্ক ও সমালোচনার কেন্দ্রে থেকেছে। তৃণমূল কংগ্রেস সরকারের আমলে রাজ্যের বিভিন্ন স্কুল ও সরকারি গ্রন্থাগারগুলিতে এই বইগুলি বাধ্যতামূলকভাবে রাখার যে নির্দেশিকা জারি করা হয়েছিল, তা নিয়েও বিস্তর জলঘোলা হয়েছিল। তৎকালীন বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলো এই নির্দেশিকাকে কার্যত রাজনৈতিক প্রোপাগান্ডা বলে কটাক্ষ করেছিল। তবে রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের পর সেই চিত্র পুরোপুরি বদলে গেল। গ্রন্থাগার দফতর ও জনশিক্ষা প্রসারের দায়িত্ব নিয়েই নতুন মন্ত্রী গৌরী শঙ্কর ঘোষ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের লেখা বই লাইব্রেরি থেকে সরিয়ে দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করলেন।

দফতরের দায়িত্ব গ্রহণ করেই মন্ত্রী গৌরী শঙ্কর ঘোষ জানিয়েছেন, বাংলার সংস্কৃতিকে তার আপন মহিমায় ফিরিয়ে আনতে এবং ‘সোনার বাংলা’ গঠনের লক্ষ্যে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের লেখা বইগুলি গ্রন্থাগার থেকে বাতিল করা অত্যন্ত জরুরি। মন্ত্রী বলেন, “রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, কাজী নজরুল ইসলাম, বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়দের সাহিত্য পড়েই আমরা বড় হয়েছি এবং বাংলার সংস্কৃতিকে সমৃদ্ধ করেছি। আগামী প্রজন্মকে যদি সত্যিকার অর্থে সোনার বাংলার যোগ্য নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে হয়, তবে মনীষীদের লেখাই আমাদের সিলেবাস বা লাইব্রেরির মূল সম্পদ হওয়া উচিত।”

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের লেখা বইয়ের তীব্র সমালোচনা করে মন্ত্রী অভিযোগ করেন যে, বিগত সরকারের আমলে এই বইগুলি পড়ানো বা গ্রন্থাগারে রাখার ফলেই বাংলার সংস্কৃতির অপূরণীয় ক্ষতি হয়েছে। গৌরীশঙ্কর ঘোষ বলেন, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের লেখা বইয়ের প্রভাবে বাংলার মানুষ কর্মসংস্থানহীনতা, পরিযায়ী শ্রমিক সমস্যা, নারী নিরাপত্তাহীনতা এবং গণতন্ত্রের অভাবের মতো পরিস্থিতির সম্মুখীন হয়েছে। তাঁর বই পড়ে বাংলার সংস্কৃতির মান যে তলানিতে ঠেকেছে, তা আজ আর গোপন নেই। আমরা সেই অপসংস্কৃতির বৃত্ত ভেঙে বেরিয়ে আসতে চাই। আমরা রবীন্দ্রনাথ, নজরুল ও স্বামী বিবেকানন্দের সংস্কৃতি ফিরিয়ে আনতে বদ্ধপরিকর।”

মন্ত্রীর সাফ বার্তা, রাজ্যের কোনো গ্রন্থাগারেই এবার থেকে কোনো ‘অপ্রয়োজনীয়’ বই থাকবে না। লাইব্রেরিগুলি পুনরায় সাজানো হবে বিবেকানন্দ, রবীন্দ্রনাথ, বঙ্কিমচন্দ্র ও নজরুলের মতো কালজয়ী সাহিত্যিকদের বই দিয়ে। যে বইগুলো পড়ে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম বাংলার পুরনো ও সমৃদ্ধশালী সংস্কৃতির সঙ্গে পরিচিত হতে পারবে, সেগুলোর ওপরই এখন জোর দিচ্ছে নতুন সরকার। মন্ত্রীর এই সিদ্ধান্তকে রাজ্যের সাংস্কৃতিক পরিমণ্ডলে ‘শুভবুদ্ধির উদয়’ বলে দাবি করছে ক্ষমতাসীন দলের কর্মী-সমর্থকরা। লাইব্রেরিকে রাজনীতির উর্ধ্বে তুলে ধরে ফের মনীষীদের চারণভূমিতে পরিণত করার এই প্রয়াস আগামী দিনে রাজ্যের পাঠকদের মধ্যে কেমন সাড়া ফেলে, এখন সেটাই দেখার বিষয়।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy