এবার রাজ্যের সব মাদ্রাসায় বাধ্যতামূলক ‘বন্দে মাতরম’! নবান্নের কড়া নির্দেশে কী বদল এল?

পশ্চিমবঙ্গের শিক্ষাঙ্গনে জাতীয়তাবোধ ও দেশপ্রেমের প্রসারে এক গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নিল রাজ্য সরকার। এবার থেকে রাজ্যের সমস্ত মাদ্রাসায় ক্লাস শুরুর আগে প্রার্থনা সভায় ‘বন্দে মাতরম’ গাওয়া বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। বিকাশ ভবনের মাদ্রাসা শিক্ষা দপ্তরের পক্ষ থেকে এই সংক্রান্ত একটি নির্দেশিকা জারি করা হয়েছে। এই নির্দেশিকা অনুযায়ী, রাজ্যের প্রতিটি মাদ্রাসা, এসএসকে (SSK) এবং এমএসকে (MSK)-তে প্রতিদিনের প্রার্থনাসভায় ‘বন্দে মাতরম’ গাওয়া আবশ্যিক করা হয়েছে।

মাদ্রাসা শিক্ষা দপ্তরের পরিচালকের স্বাক্ষরিত এই নির্দেশনার অনুলিপি ইতিমধ্যেই সমস্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট, জেলা শিক্ষা আধিকারিক এবং পশ্চিমবঙ্গ মাদ্রাসা শিক্ষা পর্ষদের কাছে পাঠানো হয়েছে। সরকারি বিজ্ঞপ্তিতে স্পষ্ট জানানো হয়েছে যে, যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমোদনের পরেই এই সিদ্ধান্ত কার্যকর করা হয়েছে। সরকারি ও সরকার-পোষিত স্কুলগুলোর ধাঁচেই মাদ্রাসাগুলিতেও এই নিয়ম চালু করতে নির্দেশ দিয়েছেন শিক্ষা দপ্তরের আধিকারিকরা।

শিক্ষাঙ্গনে জাতীয় সঙ্গীত এবং জাতীয় স্তোত্রের গুরুত্ব বৃদ্ধি করতে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছেন। গত বৃহস্পতিবার বিধানসভায় মুখ্যমন্ত্রী ঘোষণা করেছিলেন যে, রাজ্যের সমস্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে দেশপ্রেমের চেতনা জাগিয়ে তুলতে প্রার্থনা সভায় ‘বন্দে মাতরম’ গাওয়া বাধ্যতামূলক করা হবে। মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, তিনি স্বয়ং এই পুরো প্রক্রিয়াটির তদারকি করবেন। স্কুল শিক্ষা দপ্তরের তরফে গত ১৩ মে স্কুলপ্রধানদের উদ্দেশে পাঠানো চিঠিতেও এই একই বার্তা দেওয়া হয়েছিল।

উল্লেখ্য, এতদিন রাজ্যের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে প্রধানত জাতীয় সঙ্গীত ‘জন গণ মন’ গাওয়া হতো। পরবর্তীতে তৃণমূল সরকারের আমলে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘বাংলার মাটি বাংলার জল’ গানটিকে রাজ্য সঙ্গীতের মর্যাদা দেওয়া হয়েছিল এবং বিভিন্ন সরকারি অনুষ্ঠানে তা গাওয়ার প্রচলন ছিল। তবে সরকার বদলের পর সেই রীতির পরিবর্তন হয়েছে। বর্তমান সরকারের নতুন নিয়ম অনুযায়ী, এখন প্রতিটি সরকারি অনুষ্ঠান ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রার্থনাসভায় ‘বন্দে মাতরম’ গাওয়ার ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে।

বর্তমানে রাজ্যের সরকারি ও সরকার-পোষিত স্কুলগুলিতে গরমের ছুটির কারণে পাঠদান বন্ধ রয়েছে। স্কুল শিক্ষা দপ্তরের নির্দেশিকা অনুযায়ী, আগামী ১ জুন যখন স্কুল খুলবে, তখন থেকেই এই নতুন নিয়ম কঠোরভাবে কার্যকর করা হবে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলির প্রধানদের এই নির্দেশিকা মেনে চলার জন্য বিশেষ বার্তা দেওয়া হয়েছে। জাতীয় স্তোত্র গাওয়ার এই নতুন নিয়ম শিক্ষা দপ্তরের অধীনস্থ সব কটি স্তরের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানেই সমানভাবে প্রযোজ্য হবে। রাজ্য সরকারের এই সিদ্ধান্ত রাজ্যের প্রতিটি ছাত্রছাত্রীর মধ্যে জাতীয়তাবোধকে আরও সুদৃঢ় করবে বলেই মনে করছেন সংশ্লিষ্ট দপ্তরের আধিকারিকরা।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy