দীর্ঘ এক দশকের দমবন্ধ করা পরিবেশ কাটিয়ে আজ গণতন্ত্রের উৎসবের সাক্ষী হলো দক্ষিণ ২৪ পরগনার ১৪৪ নম্বর ফলতা বিধানসভা কেন্দ্র। পুনর্নির্বাচনের আবহে আজ যেন এক অন্য ফলতাকে দেখল রাজ্য। বিশেষ করে খন্দালিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের ২৫২ নম্বর বুথের চিত্রটি ছিল চোখ ধাঁধানো। দীর্ঘদিনের সন্ত্রাস, রাজনৈতিক হুমকি আর ভয়কে জয় করে সাধারণ মানুষ আজ নির্ভয়ে নিজেদের গণতান্ত্রিক অধিকার প্রয়োগ করলেন।
সকাল থেকেই বুথের বাইরে ভোটারদের স্বতঃস্ফূর্ত লাইন। কারও মুখে তৃপ্তির হাসি, কারও চোখে জল। ভোটারদের সাথে কথা বললে এক করুণ অথচ আশাব্যাঞ্জক চিত্র উঠে আসে। অনেকেই আবেগের সাথে জানালেন, গত দশটি বছর তারা যে ভয়ের বাতাবরণে কাটিয়েছেন, তাতে স্বাধীনভাবে ভোট দেওয়ার কথা ভাবাও ছিল বিলাসিতা। বুথের দিকে পা বাড়ালেই থাকত হুমকির মুখে পড়ার ভয়। কিন্তু আজকের দিনটি ছিল যেন সম্পূর্ণ আলাদা।
জনৈক প্রবীণ ভোটার লাইনে দাঁড়িয়ে জানালেন, “এবারের ভোট আমাদের কাছে উৎসবের মতো। গত দশ বছর আমাদের স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ করা হয়েছিল, আজ সেই শৃঙ্খল ভাঙার দিন।” ভোট দিয়ে বেরিয়ে আসা অধিকাংশ মানুষই একবাক্যে স্বীকার করলেন যে, আজকের এই স্বচ্ছ পরিবেশ তাদের মধ্যে দীর্ঘদিনের জমে থাকা আতঙ্ক দূর করেছে। ২৫২ নম্বর বুথের এক ভোটার বললেন, “আমরা তো ভোট দেওয়া ভুলেই গিয়েছিলাম, আজ স্বাধীনভাবে ভোট দিতে পেরে মনে হচ্ছে যেন গণতন্ত্রের প্রকৃত স্বাদ পেলাম।”
খন্দালিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের এই বুথটিতে আজ কার্যত মানুষের ঢল নেমেছে। নারী-পুরুষ নির্বিশেষে সকলেই দীর্ঘ অপেক্ষায় দাঁড়িয়েও অধৈর্য হননি, বরং তাদের উৎসাহ ছিল চোখে পড়ার মতো। পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনীর কড়া নজরদারিতে গোটা এলাকা আজ নিশ্চিন্ত। প্রশাসন সূত্রে খবর, ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়া একদম শান্তিপূর্ণ এবং সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হচ্ছে। সাধারণ মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ এবং নির্ভীক উপস্থিতি এটাই প্রমাণ করছে যে, গণতন্ত্রের মূল চালিকাশক্তি আসলে জনগণই।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ফলতার এই পুনর্নির্বাচন শুধুমাত্র একটি প্রশাসনিক প্রক্রিয়া নয়, এটি মানুষের মানসিক মুক্তির প্রতীক হয়ে দাঁড়িয়েছে। দীর্ঘদিন পর যে মানুষগুলো বুথমুখী হতে পেরেছেন, তা এক বড় জয়। সন্ত্রাসমুক্ত পরিবেশে অবাধ ভোটদানের এই চিত্রটি রাজ্য রাজনীতির প্রেক্ষাপটে নিঃসন্দেহে তাৎপর্যপূর্ণ। দিনশেষে ভোটারদের এই আনন্দ এবং স্বতঃস্ফূর্ততাই প্রমাণ করে যে, ভয়ের দেওয়াল ভেঙে গণতন্ত্রের জয়যাত্রা অব্যাহত। আজ ফলতা শুধু ভোট দেয়নি, ভয়ের সংস্কৃতিকে বিদায় জানিয়ে উৎসবের মেজাজে নতুন ইতিহাসের সূচনা করেছে।





