রাজধানীর পল্লবীতে সাত বছরের এক নিষ্পাপ শিশুকে ধর্ষণের পর নৃশংসভাবে হত্যা ও দেহ খণ্ডবিখণ্ড করার ঘটনায় তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে সারাদেশে। এই হত্যাকাণ্ডের তদন্ত কার্যক্রম দ্রুত সম্পন্ন করতে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনারকে সাত কার্যদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দিয়েছেন আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। বৃহস্পতিবার আইন মন্ত্রণালয়ের এক দায়িত্বশীল কর্মকর্তা বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান জানিয়েছেন, এটি একটি অত্যন্ত স্পর্শকাতর ও বর্বরোচিত ঘটনা। অপরাধীদের দ্রুত বিচারের আওতায় আনতে সরকার সব ধরনের আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করবে। তিনি দৃঢ়তার সাথে ঘোষণা দিয়েছেন, দ্রুততম সময়ের মধ্যে এই মামলার বিচারিক প্রক্রিয়া শেষ করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা হবে।
মামলার বিবরণে জানা যায়, অভিযুক্ত সোহেল রানা (৩৪) আদালতে নিজের দোষ স্বীকার করে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছেন। জবানবন্দিতে তিনি লোমহর্ষক তথ্য প্রকাশ করেছেন। সোহেল জানান, শিশুটিকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়। এরপর অপরাধ ধামাচাপা দিতে ও আলামত নষ্ট করার উদ্দেশ্যে তিনি অত্যন্ত ঠান্ডা মাথায় শিশুটির মরদেহ খণ্ডবিখণ্ড করার চেষ্টা করেন। আদালত জবানবন্দি গ্রহণ শেষে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন। এছাড়াও, ঘটনায় জড়িত সন্দেহে সোহেলের স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকেও জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।
গত মঙ্গলবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে পল্লবীর একটি ভবনের তৃতীয় তলার ফ্ল্যাট থেকে শিশুটির খণ্ডিত দেহ উদ্ধার করে পুলিশ। মর্মান্তিক এই ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় শোক ও ক্ষোভের ছায়া নেমে আসে। শিশুটিকে হত্যার পর মূল অভিযুক্ত সোহেল রানা ভবনের জানালার গ্রিল ভেঙে কৌশলে পালিয়ে যান। ঘটনাস্থল থেকেই তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে পুলিশ প্রাথমিকভাবে আটক করে। পরবর্তীতে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় একই দিন সন্ধ্যায় নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থেকে মূল অভিযুক্ত সোহেল রানাকে গ্রেফতার করা হয়।
নিহত শিশুটির বাবা পল্লবী থানায় সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে আসামি করে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা দায়ের করেছেন। মামলার এজাহারে তিনি উল্লেখ করেছেন, তার ধারণা শিশুটিকে পরিকল্পিতভাবে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে। বর্তমানে এলাকাবাসীসহ সচেতন মহল এই পৈশাচিক হত্যাকাণ্ডের দ্রুত ও কঠোর বিচারের দাবি জানিয়েছেন। ডিএমপি কমিশনারকে দেওয়া আইনমন্ত্রীর এই বিশেষ নির্দেশ মামলার গতিপথ ত্বরান্বিত করবে বলে আশা করছেন আইন বিশেষজ্ঞরা।





