এক লক্ষ টাকা মাসিক ভাতা! পশ্চিমবঙ্গের বিধায়কদের ভাতাকে ছাপিয়ে বড় ঘোষণা তামিলনাড়ুর?

একদিকে রাজ্যের তীব্র আর্থিক চাপ এবং বিপুল ঋণের বোঝা, আর অন্যদিকে জনপ্রতিনিধিদের কাজের পরিকাঠামো মজবুত করার তাগিদ—সব মিলিয়ে রাজনৈতিক ময়দানে শুরু হয়েছে নতুন চর্চা। পশ্চিমবঙ্গে ক্ষমতায় আসার পর মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সরকার বিধায়কদের অফিস পরিচালনার খরচ বাবদ প্রতি মাসে ৩০ হাজার টাকা করে বরাদ্দ করেছে। কিন্তু এই সিদ্ধান্তের মাঝেই তামিলনাড়ুর নতুন মুখ্যমন্ত্রী তথা জনপ্রিয় অভিনেতা থলপতি বিজয় এমন এক ঘোষণা করলেন, যা নিয়ে এখন জাতীয় রাজনীতিতে তুমুল আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে। রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, এই বড় পদক্ষেপের মাধ্যমে তামিলনাড়ু যেন পরোক্ষভাবে বাকি রাজ্যগুলোকে অনেকটাই পেছনে ফেলে দিল।
তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী বিজয় সম্প্রতি এক ঐতিহাসিক ঘোষণা করে জানিয়েছেন যে, রাজ্যের প্রতিটি বিধানসভা কেন্দ্রের বিধায়কদের যাতায়াত এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগের জন্য সম্পূর্ণ নতুন গাড়ি প্রদান করা হবে। শুধু তাই নয়, সেই গাড়ির চালকের বেতন এবং রক্ষণাবেক্ষণের খরচ বাবদ প্রতি মাসে ৭৫ হাজার টাকা এবং বিধায়কের নিজস্ব দপ্তরে একজন সহকারী রাখার জন্য অতিরিক্ত ২৫ হাজার টাকা দেওয়ার কথা ঘোষণা করা হয়েছে। অর্থাৎ, গাড়ির আসল খরচ বাদ দিলেও শুধুমাত্র চালক ও অফিস সহকারীর জন্য রাজ্যের প্রতিটি বিধায়কের পেছনে প্রতি মাসে সরাসরি ১ লক্ষ টাকা বরাদ্দ করা হচ্ছে।
এই বিশাল আর্থিক বরাদ্দের সঙ্গে পশ্চিমবঙ্গের সাম্প্রতিক সিদ্ধান্তের তুলনা টানলে ছবিটা একেবারেই স্পষ্ট হয়ে যায়। পশ্চিমবঙ্গে বিধায়কদের অফিস চালানোর জন্য মাসে ৩০ হাজার টাকা দেওয়া হয়, যার উদ্দেশ্য নিজ এলাকায় পরিকাঠামো উন্নত করা। কিন্তু দুই রাজ্যের অর্থনৈতিক বাস্তবতায় আকাশ-পাতাল তফাত রয়েছে। পশ্চিমবঙ্গ দীর্ঘকাল ধরেই রাজস্ব ঘাটতি, বিশাল ঋণের বোঝা এবং চড়া সুদের চাপে জর্জরিত। ফলে এখানে সরকারি খরচের প্রতিটি ক্ষেত্রে কঠোর আর্থিক সংযম বজায় রাখা বাধ্যতামূলক। অন্যদিকে, তামিলনাড়ুর রাজস্বভিত্তি তুলনামূলকভাবে অনেকটাই শক্তিশালী এবং উন্নত। ফলে সেখানে বিধায়কদের জন্য এই ধরনের রাজকীয় ভাতা ঘোষণা করার আর্থিক সক্ষমতা ও অবকাশ দুটোই রয়েছে।
মূলত এই বিশাল ভাতার নেপথ্যে রয়েছে স্থানীয় বিধায়কদের বাস্তব কিছু সমস্যার কথা। কিছুদিন আগেই তামিলনাড়ুর এক মহিলা বিধায়ক জোথিমণি প্রকাশ্যে অভিযোগ করেছিলেন যে, সরকারি গাড়ি না থাকার কারণে নতুন বিধায়কদের নিজ এলাকায় ঘোরাফেরা করতে এবং সরকারি আমলাদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখতে চরম ভোগান্তির শিকার হতে হয়। এমনকি যাতায়াতের পেছনেই তাঁদের বেতনের একটা বড় অংশ খরচ হয়ে যায়। এই যৌক্তিক দাবির পরেই মুখ্যমন্ত্রী বিজয় দ্রুত এই সিদ্ধান্ত নেন। জনপ্রতিনিধিদের কাজ তো কেবল বিধানসভায় বসে আইন তৈরি করা নয়, বরং নিজের কেন্দ্রের সাধারণ মানুষের অভাব-অভিযোগ শোনা এবং উন্নয়নমূলক কাজের তদারকি করার জন্য একটি ন্যূনতম পরিকাঠামো যে অত্যন্ত জরুরি, তা এই পদক্ষেপে আবারও প্রমাণিত হলো।