দক্ষিণবঙ্গে কি ফের দুর্যোগের কালো মেঘ? কোন কোন জেলায় জারি হল চরম সতর্কতা?

আজ, ১৯ আগস্ট দক্ষিণবঙ্গে সামগ্রিকভাবে বৃষ্টির পরিমাণ কিছুটা কম মনে হলেও আবহাওয়া দপ্তর বা আলিপুর আবহাওয়া অফিসের পূর্বাভাস অনুযায়ী দুর্যোগের মেঘ এখনও পুরোপুরি কাটেনি। বরং আজ পুরুলিয়া, বাঁকুড়া এবং পশ্চিম বর্ধমান জেলার কিছু নির্দিষ্ট অংশে ভারী বৃষ্টির চরম সতর্কতা জারি করা হয়েছে। পাশাপাশি ঝাড়গ্রাম, পূর্ব মেদিনীপুর, পশ্চিম মেদিনীপুর, উত্তর ২৪ পরগনা, দক্ষিণ ২৪ পরগনা, হাওড়া ও কলকাতাতেও হলুদ সতর্কতা জারি করা হয়েছে। অন্যদিকে উত্তরবঙ্গের দার্জিলিং, জলপাইগুড়ি ও আলিপুরদুয়ারেও ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় আলিপুর, দমদম, উলুবেড়িয়া, ডায়মন্ড হারবার, মেদিনীপুর, দীঘা ও কৃষ্ণনগরে উল্লেখযোগ্য বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে, যার জেরে তাপমাত্রা সামান্য কমলেও বাতাসে আর্দ্রতাজনিত চরম অস্বস্তি বহাল রয়েছে।
টানা বৃষ্টি ও নদীগুলির জলস্তর বৃদ্ধির কারণে দক্ষিণবঙ্গের বিভিন্ন প্রান্তের গ্রামীণ ও শহুরে জনজীবন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে। বিশেষ করে কেলেঘাই ও বাগুই নদীর জলে পটাশপুর এবং ভগবানপুর বিধানসভার বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়ে পড়েছে। অন্যদিকে, সুবর্ণরেখা নদীর উপচে ওঠা জলের জেরে রামনগরের একাধিক অঞ্চল জলমগ্ন। ঝাড়গ্রামের নদীগুলিও প্রবল বেগে ফুঁসছে, যার জেরে কজওয়ে সহ বহু গুরুত্বপূর্ণ রাস্তা জলের নিচে তলিয়ে গেছে এবং সাধারণ মানুষ চরম দুর্ভোগের শিকার হয়েছেন। তারাফেনি নদীর জল উপচে পড়ে ঢোলভাঙা এলাকা প্লাবিত করেছে, এবং ডুলুং নদীর জলস্তর বৃদ্ধি পাওয়ায় জামবনির চিল্কিগড় কজওয়ে পুরোপুরি জলের তলায় চলে গেছে। এছাড়া কাথুয়া খালের জল উপচে ফেকো-গোপীবল্লভপুর রাজ্য সড়কও জলমগ্ন হয়ে পড়েছে।
পরিস্থিতি আরও জটিল করে তুলেছে ঝাড়খণ্ডের গালুডি ব্যারাজ থেকে ছাড়া জল। প্রশাসন সূত্রে প্রাপ্ত খবর অনুযায়ী, ব্যারাজ থেকে ৪ হাজার ৬০ কিউসেক জল ছাড়ার ফলে নদী তীরবর্তী নিচু এলাকাগুলিতে প্লাবনের আশঙ্কা বহুলাংশে বৃদ্ধি পেয়েছে। অন্যদিকে, মাত্র চার ঘণ্টার ভারী বৃষ্টিতে আসানসোল পৌর এলাকা পুরোপুরি জলমগ্ন হয়ে পড়েছে। রেলপাড় এলাকার অন্তত পাঁচটি ওয়ার্ডের বিস্তীর্ণ অঞ্চলে জল জমে যাওয়ায় কালভার্টগুলি জলের তলায় চলে গেছে এবং স্বাভাবিক যাতায়াত ব্যবস্থা কার্যত স্তব্ধ হয়ে পড়েছে। রেলপাড়ের জলমগ্ন এলাকায় ঘরে আটকে পড়া অন্তত ৩০ জন বাসিন্দাকে উদ্ধারের জন্য তৎপরতার সঙ্গে সিভিল ডিফেন্স নামানো হয় এবং বোট বা নৌকা করে তাঁদের নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। রাজ্য প্রশাসনের পক্ষ থেকে গোটা পরিস্থিতির ওপর কড়া নজরদারি রাখা হচ্ছে যাতে বড় ধরণের কোনো বিপর্যয় এড়ানো যায়।