এক বছরের মধ্যেই চার টুকরো তৃণমূল! ২১ জুলাইয়ের মঞ্চে দাঁড়িয়েই দলত্যাগী ‘গদ্দারদের’ বিরুদ্ধে ফোঁস উঠলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়!

মাত্র একটা বছর ঘুরেছে, আর এরই মধ্যে ২১ জুলাইয়ের এই ঐতিহাসিক শহিদ মঞ্চ যেন ভেঙে চার টুকরো হয়ে গিয়েছে! এদিন ঠিক এই ভাষাতেই রাজ্য রাজনীতিকে কাঁপিয়ে দিয়ে দলত্যাগী ‘গদ্দার’ ও বিরোধীদের একযোগে বেনজির আক্রমণ করলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। সভামঞ্চে দাঁড়িয়ে তিনি স্পষ্ট ভাষায় দলীয় সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে জোরালো আর্জি জানিয়ে বলেন, “যারা দল ছেড়ে চলে গেছে, আমি নেত্রীকে হাতজোড় করে অনুরোধ করব, দয়া করে তাদের একটাাকেও আর দলে ফেরত নেবেন না।” অভিষেকের এই কড়া ও অনমনীয় বার্তার পরই শাসক দলের অন্দরে এবং রাজনৈতিক মহলে তীব্র শোরগোল শুরু হয়েছে।

এদিন ধর্মতলার ঐতিহাসিক সভামঞ্চে উঠেই অভিষেক সবার আগে সভাস্থলের আশপাশের গাছের মগডালে ও উঁচু জায়গাতে চড়ে বসা হাজার হাজার কর্মী-সমর্থকদের নিরাপত্তার খাতিরে দ্রুত নিচে নেমে আসার অনুরোধ জানান। বক্তব্যের শুরুতেই ২১ জুলাইয়ের এই মহাসমাবেশ সফলভাবে আয়োজন করতে দেওয়ার জন্য কলকাতা হাইকোর্টকে বিশেষ ধন্যবাদ জানান তিনি। এর পরই সরাসরি বিরোধীদের আক্রমণ করে তিনি বলেন, “যারা এতদিন ২১শে জুলাইয়ের এই কর্মসূচি আটকাতে চেয়েছিল, সেই বিজেপি সরকার, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ, শুভেন্দু অধিকারী কিংবা কলকাতা পুলিশ—কেউ কি পেরেছে এই জনস্রোত আটকাতে? আজ দিনের আলোর মতো পরিষ্কার হয়ে গেছে যে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কোনো বিকল্প নেই, থাকতেও পারে না। মেয়ো রোডে যাঁরা আলাদা সভা করছেন, তাঁরা নিজেদের অনেক বড় কেউকেটা ভাবছেন। গদ্দারি ও বেইমানি করে কেউ যদি ভাবে সে আলোর রোশনাই ছড়াবে, তা হয় না। তারা আসলে পাঁচ ওয়াটের একটা ছোট বাল্ব, অথচ নিজেদের হ্যালোজেন ভাবার ভুল করছে! যে মানুষ নিজের রাজনৈতিক মা’কে ত্যাগ করে, তাঁকে সর্বশক্তিমান ঈশ্বরও কোনোদিন ক্ষমা করেন না।”

এদিনের এই মেগা মঞ্চ থেকে দলত্যাগী ও বিদ্রোহী নেতাদের চরম নিশানা করে অভিষেক আরও বলেন, “যারা আমাদের ছেড়ে চলে গেছেন, তাদের প্রতি মমতা না দেখিয়ে চিরতরে দূরে সরিয়ে রাখতে হবে। মিথ্যে মামলা দিয়ে আমাদের কর্মীদের জেলে পোরা হচ্ছে, বাড়ি ভাঙচুর করা হচ্ছে। কিন্তু আমরা ভয় পেয়ে পিছিয়ে যাব না। প্রয়োজনে ফুটপাতে রাত কাটাব, তবুও আমাদের এই মেরুদণ্ড কোনোদিন ফর সেল বা বিক্রির জন্য নয়!” এরপর উপস্থিত তৃণমূল কর্মীদের উদ্দীপ্ত করে তিনি এক বিশেষ বার্তা দেন এবং বলেন, “আমি কর্মীদের বলব একটু ধৈর্য ধরতে। আপনারা প্রত্যেকে নিজেদের পকেটে একটা করে ছোট নোটবুক রাখবেন এবং অন্যায়কারীদের নাম-ঠিকানা সব টুকে রাখবেন। আমরা ঠিক সঠিক সময় এলে এই সমস্ত হিসাব চুকিয়ে নেব। যারা যে ভাষা বোঝে, তাদের ঠিক সেই ভাষাতেই কড়া জবাব দেওয়া হবে।”

বক্তব্যের শেষ পর্বে নাম না করে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় ও সম্প্রতি দলত্যাগ করা একাধিক হেভিওয়েট নেতার উদ্দেশ্যে অত্যন্ত তীব্র ও আক্রমণাত্মক ভাষা প্রয়োগ করেন অভিষেক। তিনি বলেন, “ওদের কেউ যেন ভুলেও তৃণমূল বলবেন না, ওদের আসল পরিচয় হলো এরা একেকজন বালিশ চাটা! আগামী দিনের রাজনৈতিক লড়াইয়ের ময়দানে এদের সবার সঙ্গে আমাদের দেখা হবে। যারা নিজেদের ব্যক্তিগত চামড়া বাঁচাতে এবং পিঠ বাঁচাতে অন্য শিবিরে চলে গেছেন, আমরা সেই সমস্ত বিধানসভা কেন্দ্রে গিয়ে সাধারণ মানুষের কাছে গিয়ে হাত জোড় করে ক্ষমা চেয়ে আসব।” এরপর কেন্দ্রীয় এজেন্সি ও প্রতিপক্ষদের সমস্ত হুমকিকে সপাটে উড়িয়ে দিয়ে অভিষেক হুংকার ছেড়ে বলেন, “তৃণমূল কংগ্রেসকে এভাবে ধমকে চমকে কোনো লাভ হবে না। আমাকে তো ইতিমধ্যেই অসংখ্য রাজনৈতিক ও পুলিশি কেস দেওয়া হয়েছে। এর পরেও যেদিন আমার জীবন শেষ হবে এবং আমাকে শ্মশানে নিয়ে যাওয়া হবে, সেদিনও যদি কেউ আমার বুকের ওপর কান পাতে, তবে শুনতে পাবে একটাই শব্দ—‘জয় বাংলা’!”