‘আরশোলাদের’ আন্দোলনে জামাতের চিঠি! দিল্লির ছাত্র বিক্ষোভে আইসিআই যোগের জল্পনায় কেঁপে উঠল রাজনৈতিক মহল!

ভারতের রাজধানী দিল্লির যন্তর মন্তরে নিট-ইউজি (NEET-UG) পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস বিতর্ক এবং শিক্ষাব্যবস্থায় দুর্নীতির অভিযোগকে কেন্দ্র করে চলা ‘সংসদ চলো’ আন্দোলন এখন নতুন ও বিস্ফোরক মোড় নিয়েছে। কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে চলা এই বিক্ষোভের সমর্থনে এবার সরাসরি আসরে নেমেছে বাংলাদেশের চরমপন্থী সংগঠন জামায়াতে ইসলামী। মঙ্গলবার বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে একটি আনুষ্ঠানিক খোলা চিঠি প্রকাশ করে ভারতের এই ছাত্র আন্দোলনের সঙ্গে সম্পূর্ণ ও শর্তহীন সংহতি প্রকাশ করা হয়েছে। জামাতের কেন্দ্রীয় কার্যালয় থেকে জারি করা এই চিঠির পরেই ভারতের রাজনৈতিক এবং কূটনৈতিক মহলে তীব্র চাঞ্চল্য ও গভীর উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে।

জামাতের প্রকাশিত ওই খোলা চিঠিতে ভারতের আন্দোলনরত ‘সাহসী ছাত্রদের’ উদ্দেশে অকুণ্ঠ প্রশংসা করা হয়েছে। চিঠিতে ছাত্র আন্দোলনকে অভিবাদন জানিয়ে লেখা হয়েছে, “আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহ। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে আমরা ভারতে চলতে থাকা ছাত্র আন্দোলনের সঙ্গে পূর্ণ ও শর্তহীন সংহতি জ্ঞাপন করছি। ন্যায়বিচার, শিক্ষা, অধিকার ও মানবিক মর্যাদার জন্য আপনাদের সাহসী সংগ্রাম আমাদের হৃদয় স্পর্শ করেছে এবং লক্ষ লক্ষ মানুষকে অনুপ্রাণিত করেছে।” এই চিঠিতে আরও দাবি করা হয়েছে যে, ভারতের এই ছাত্র আন্দোলন নাকি বর্তমানে গোটা উপমহাদেশজুড়ে যুব অধিকারের এক অনন্য প্রতীক হয়ে উঠেছে। জামাতের এই প্রকাশ্য ও সরাসরি সমর্থনের পরই ভারতের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা এবং সার্বভৌমত্ব নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।

গোয়েন্দা ও কূটনৈতিক মহলের একাংশ আগেই আশঙ্কা প্রকাশ করেছিল যে, ভারতের অভ্যন্তরে অস্থিরতা তৈরি করার জন্য এই ধরনের ছাত্র আন্দোলনের আড়ালে বিদেশি অর্থায়ন এবং আন্তর্জাতিক উস্কানি থাকতে পারে। জামায়াতে ইসলামীর এই আনুষ্ঠানিক চিঠি প্রকাশের পর সেই সন্দেহ আরও জোরালো হয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, এই তথাকথিত আন্দোলনের আগুনে নিজেদের রাজনৈতিক রুটি সেঁকতে চাইছে জামাতের মতো উগ্রপন্থী শক্তি। শুধু তাই নয়, এই পুরো ঘটনার নেপথ্যে পাকিস্তানের গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআই (ISI)-এর সরাসরি যোগ থাকতে পারে বলেও প্রবল আশঙ্কা প্রকাশ করা হচ্ছে। জামাত যেভাবে ছাত্রদের বিরুদ্ধে যেকোনো প্রশাসনিক পদক্ষেপ বা দমনপীড়নের তীব্র নিন্দা জানিয়েছে, তা দেশের সার্বভৌমত্বের পরিপন্থী বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

এই চাঞ্চল্যকর চিঠি প্রকাশ্যে আসার সঙ্গে সঙ্গেই ভারতের রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক মহলে চরম উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে। গোয়েন্দাদের একাংশের দাবি, দেশের অভ্যন্তরীণ কিছু শক্তি এবং বাইরের শত্রু দেশের যৌথ ষড়যন্ত্রের ফলেই এই ধরনের আন্দোলনগুলোর চরিত্র বদলে যাচ্ছে। আন্দোলনকে ঢাল করে দেশের রাজধানী তথা সংবেদনশীল এলাকাগুলোতে পরিকল্পিতভাবে অস্থিতিশীলতা তৈরি করাই এদের মূল উদ্দেশ্য। বিশেষ করে সোনম ওয়াংচুক সহ এই আন্দোলনের বিভিন্ন মুখ ও তাঁদের ভূমিকা নিয়ে শুরু থেকেই যে সমস্ত প্রশ্ন ও সন্দেহ দানা বেঁধেছিল, জামাতের এই চিঠির পর তা যেন এক প্রকার স্পষ্ট হয়ে গেল। দেশের নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, জাতীয় স্বার্থেই এই বৈদেশিক হস্তক্ষেপ এবং দেশবিরোধী যোগসাজশের বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।