এক পুরুষ সহকর্মীর লালসার শিকার ২৪ নারী! স্কুলের অন্দরেই ভয়াবহ হেনস্থা, ব্যবস্থা না নেওয়ায় ক্ষোভ

শিক্ষাঙ্গনের পবিত্রতা নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন উঠে গেল। চণ্ডীগড়ের একটি সরকারি স্কুলে ২৪ জন মহিলা কর্মীকে এক পুরুষ সহকর্মী কর্তৃক হেনস্থা করার অভিযোগ ঘিরে তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়েছে। অভিযোগ দায়ের হওয়ার দুই মাস পার হয়ে গেলেও প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো দৃষ্টান্তমূলক পদক্ষেপ না নেওয়ায় ক্ষোভে ফুঁসছেন নির্যাতিতারা।

অভিযোগের পাহাড়: কী ঘটেছিল স্কুলের ভেতর?

গত ১২ ফেব্রুয়ারি স্কুলের অভ্যন্তরীণ অভিযোগ কমিটির (ICC) কাছে লিখিতভাবে নিজেদের ভয়াবহ অভিজ্ঞতার কথা জানান ওই ২৪ জন মহিলা কর্মী। তাঁদের অভিযোগ অনুযায়ী, অভিযুক্ত পুরুষ সহকর্মী:

  • দীর্ঘ দিন ধরে তাঁদের সঙ্গে অভব্য ও কুরুচিকর ভাষায় কথা বলতেন।

  • সুযোগ পেলেই শারীরিক নিগ্রহ ও অশালীন অঙ্গভঙ্গি করতেন।

  • প্রতিবাদ করলে চাকরি খেয়ে নেওয়ার বা ফল ভোগ করার হুমকি দিতেন।

  • কর্মক্ষেত্রে এক অসহনীয় এবং ভীতিপ্রদ পরিবেশ তৈরি করে রেখেছিলেন।

প্রশাসনের নীরবতা নিয়ে প্রশ্ন

সবচেয়ে আশ্চর্যের বিষয় হলো, অভিযোগকারী ২৪ জন হওয়া সত্ত্বেও অভিযুক্ত ওই ব্যক্তিকে এখনও স্কুল থেকে সরানো হয়নি। তিনি আগের মতোই নিয়মিত স্কুলে আসছেন এবং অভিযোগকারী মহিলাদের সামনেই ঘুরে বেড়াচ্ছেন। এতে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন নির্যাতিতারা। তাঁদের দাবি, অবিলম্বে অভিযুক্তকে বরখাস্ত করতে হবে অথবা অন্তত অন্য কোথাও বদলি করতে হবে।

আইনি ব্যবস্থা ও আগামী পদক্ষেপ

পশ (POSH) আইনের আওতায় অভিযোগ জানানো হলেও শিক্ষা দপ্তরের এই ঢিলেমি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন মানবাধিকার কর্মীরা। ক্ষুব্ধ মহিলারা জানিয়েছেন, প্রশাসন যদি দ্রুত পদক্ষেপ না নেয়, তবে তাঁরা আদালতের দ্বারস্থ হতে বাধ্য হবেন এবং প্রয়োজনে বড়সড় আন্দোলনে নামবেন। প্রশাসনের এই উদাসীনতা অপরাধীকে আরও প্রশ্রয় দিচ্ছে বলে তাঁদের মত।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy