আমজনতার মাসিক বাজেটে ফের বড়সড় ধাক্কা দিল রাষ্ট্রায়ত্ত তেল সংস্থাগুলি। দেশজুড়ে এক ধাক্কায় প্রতি লিটার পেট্রোল ও ডিজেলের দাম ৩ টাকা বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। এই মূল্যবৃদ্ধির পর জাতীয় রাজধানী দিল্লিতে আজ পেট্রোলের দাম লিটার প্রতি ৯৭.৭৭ টাকায় গিয়ে ঠেকেছে। স্বাভাবিকভাবেই এই সিদ্ধান্তের জেরে সাধারণ মানুষের পকেটে টান পড়তে চলেছে। বিশেষ করে যাঁরা প্রতিদিন অফিস বা ব্যবসার কাজে নিজেদের গাড়ি ব্যবহার করেন, তাঁদের ওপর খরচের বোঝা একধাক্কায় অনেকটাই বেড়ে গেল। আপনিও যদি প্রতিদিন গাড়ি নিয়ে বের হন, তবে এই নতুন দামে আপনার পকেট থেকে ঠিক কত টাকা অতিরিক্ত খসবে, তার একটি বাস্তব হিসাব নিচে দেওয়া হলো।
প্রতিদিনের যাতায়াতে পকেটে কতটা কোপ?
দিল্লিতে আগে প্রতি লিটার পেট্রোলের দাম ছিল ৯৪.৭৭ টাকা, যা ৩ টাকা বেড়ে এখন হয়েছে ৯৭.৭৭ টাকা। ধরুন, আপনি প্রতিদিন গাড়ি নিয়ে গড়ে ২০ কিলোমিটার পথ যাতায়াত করেন এবং আপনার গাড়ির গড় মাইলেজ প্রতি লিটারে ১৫ কিলোমিটার।
আগের খরচ: পুরনো দাম অনুযায়ী প্রতিদিন আপনার জ্বালানি বাবদ খরচ হতো প্রায় ১২৬ টাকা। সেই হিসাবে মাসে (৩০ দিনে) খরচ দাঁড়াত ৩,৭৮0 টাকা।
বর্তমান খরচ: নতুন দাম কার্যকর হওয়ার পর এখন প্রতিদিনের খরচ বেড়ে দাঁড়াচ্ছে প্রায় ১৩0 টাকা। অর্থাৎ, মাস শেষে আপনার পকেট থেকে উধাও হবে ৩,৯০০ টাকা।
সব মিলিয়ে প্রতি মাসে সোজা ১২০ টাকা অতিরিক্ত খরচ করতে হবে মধ্যবিত্তকে, যা বছরের হিসাবে একটা বড় অঙ্কে গিয়ে দাঁড়ায়।
গাড়ির মডেলভেদে খরচের তারতম্য: সুইফট বনাম ক্রিয়েটা
অবশ্যই এই খরচের হিসাবটি সম্পূর্ণ নির্ভর করে আপনি কোন গাড়ি চালাচ্ছেন এবং তার মাইলেজ কেমন, তার ওপর। উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, আপনার কাছে যদি একটি Maruti Swift থাকে, যা প্রতি লিটারে প্রায় ২০ কিমি মাইলেজ দেয়, তবে আপনার দৈনিক এবং মাসিক খরচ তুলনামূলকভাবে অনেকটাই কম হবে। কিন্তু আপনি যদি Hyundai Creta-র মতো কোনো এসইউভি (SUV) ব্যবহার করেন—যার মাইলেজ সাধারণত প্রতি লিটারে ১২ থেকে ১৪ কিলোমিটারের মধ্যে ওঠানামা করে—তবে আপনার জ্বালানি বাবদ মাসিক খরচ কিন্তু একধাক্কায় অনেকটাই বেড়ে যাবে। এই পরিস্থিতিতে পকেটের সাশ্রয় করতে গাড়ি চালানোর কিছু অভ্যাসে বদল আনা জরুরি।
গাড়ির মাইলেজ বাড়িয়ে পকেট বাঁচানোর সহজ টিপস:
জ্বালানির দাম যখন আকাশছোঁয়া, তখন নিজের পকেটের টাকা বাঁচাতে গাড়ির মাইলেজ বাড়ানোর এই কয়েকটি সহজ উপায় মেনে চলতে পারেন:
টায়ারের প্রেশার ঠিক রাখুন: গাড়ির চাকার হাওয়ার চাপ বা টায়ার প্রেশার সবসময় নির্দিষ্ট মাত্রায় রাখা উচিত। হাওয়া কম থাকলে ইঞ্জিনের ওপর চাপ পড়ে এবং তেল বেশি পোড়ে।
নিয়মিত সার্ভিসিং: সময়মতো গাড়ির সার্ভিসিং করানো এবং ইঞ্জিন অয়েল পরিবর্তন করা অত্যন্ত জরুরি।
এয়ার ফিল্টার পরিষ্কার রাখুন: গাড়ির এয়ার ফিল্টারে ধুলো জমলে তা মাইলেজ কমিয়ে দেয়। তাই এটি নিয়মিত পরিষ্কার রাখুন বা প্রয়োজন হলে বদলে ফেলুন।
স্মুথ ড্রাইভিং: আচমকা ব্রেক কষা বা হুট করে গাড়ির স্পিড বাড়িয়ে দেওয়ার অভ্যাস ত্যাগ করুন। একটি নির্দিষ্ট গতিতে (ইকোনমি স্পিড) গাড়ি চালালে জ্বালানি সবচেয়ে কম খরচ হয়।
এই সাধারণ ড্রাইভিং টিপসগুলো মেনে চললে শুধু যে তেলের সাশ্রয় হবে তাই নয়, আপনার সাধের গাড়ির পারফরম্যান্সও থাকবে একদম চাঙ্গা।





