এক ঝটকায় বন্ধ পিৎজার দোকান! ডোমিনোস ও কেএফসি নিয়ে বিরাট কাণ্ডে ঘুম ওড়াল এফডিএ

খাবারের গুণমান ও স্বাস্থ্যবিধি বজায় রাখার ক্ষেত্রে অত্যন্ত কঠোর অবস্থান নিল মহারাষ্ট্রের ফুড অ্যান্ড ড্রাগ অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (FDA)। সম্প্রতি ফুড সেফটি ও হাইজিন সংক্রান্ত একাধিক কঠোর নিয়ম লঙ্ঘনের অভিযোগে মুম্বইয়ের জনপ্রিয় পিজ্জা জায়ান্ট Domino’s Pizza-র তিনটি প্রধান আউটলেটের ব্যবসায়িক লাইসেন্স সাসপেন্ড করা হয়েছে। এর পাশাপাশি মহারাষ্ট্রের সাতারা জেলার করাডের মালকাপুরে Domino’s-এর আরও একটি আউটলেটের লাইসেন্স বাতিলের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। একই সঙ্গে কেএফসি এবং পিজ্জা হাট পরিচালনাকারী সংস্থা স্যাফায়ার ফুডস ইন্ডিয়া লিমিটেডের একটি আউটলেটের বিরুদ্ধেও কড়া পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে, যা নিয়ে দেশজুড়ে গ্রাহকদের মধ্যে চরম চাঞ্চল্য ও উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে।

এফডিএ সূত্রে জানা গেছে, গত ১০ জুলাই থেকে ১১ অগাস্ট ২০২৬ পর্যন্ত মহারাষ্ট্রজুড়ে একটি বিশেষ পরিদর্শন অভিযান চালানো হয়। এই আকস্মিক তল্লাশির পরই প্রকাশ্যে আসে মারাত্মক সব গাফিলতির চিত্র। মুম্বইয়ের ভিলে পার্লে (পশ্চিম), বোরিভলি (পশ্চিম) এবং ঘাটকোপরের বিখ্যাত আর-সিটি মল (R-City Mall)-এ অবস্থিত ডোমিনোসের তিনটি আউটলেটে খাবারের সংরক্ষণ, পরিচ্ছন্নতা, পেস্ট কন্ট্রোল, তাপমাত্রা পর্যবেক্ষণ এবং স্যানিটেশনের মতো অতি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলিতে মারাত্মক ত্রুটি ধরা পড়ে। ভিলে পার্লের আউটলেটে পানীয় জল সংরক্ষণ ও হাত ধোয়ার যথাযথ ব্যবস্থা না থাকা এবং হিমায়িত খাবারের সঠিক তাপমাত্রা বজায় না রাখার মতো ഗുരുতর অভিযোগ সামনে এসেছে। অন্যদিকে, আর-সিটি মল আউটলেটে পরিচ্ছন্নতার নির্দিষ্ট শিডিউল, পেস্ট কন্ট্রোলের রেকর্ড এবং খাদ্যের সংস্পর্শে আসা উপকরণের ফুড-গ্রেড সার্টিফিকেশনের বালাই ছিল না।

শুধু ডোমিনোসই নয়, মহারাষ্ট্র এফডিএ-র এই সাঁড়াশি অভিযানে কেএফসি (KFC), পিজ্জা হাট (Pizza Hut) এবং ট্যাকো বেল (Taco Bell)-এর মতো জনপ্রিয় ব্র্যান্ড পরিচালনাকারী সংস্থা Sapphire Foods India Ltd.-এর করাডের একটি আউটলেটের লাইসেন্সও স্থগিত করা হয়েছে। ওই নির্দিষ্ট আউটলেটটিতে নিরামিষ ও আমিষ পিৎজা তৈরির জন্য আলাদা ওভেন বা পৃথকীকরণ ব্যবস্থার চরম অভাব দেখা গেছে। এমনকি পিৎজা বেক করার প্যানগুলি আলাদা না রাখা এবং ব্যবহৃত সস ও টপিংসের প্যাকেজিংয়ে সঠিক মেয়াদ উত্তীর্ণের (Expiry Date) তারিখ না থাকার মতো গুরুতর অপরাধের হদিশ মিলেছে।

খাদ্য নিয়ন্ত্রক সংস্থার এই সাঁড়াশি পদক্ষেপের পর স্পষ্ট বার্তা দেওয়া হয়েছে যে, জনস্বাস্থ্যের সঙ্গে আপস করলে কোনো সংস্থাকেই রেয়াত করা হবে না। মহারাষ্ট্রে ফুড সেফটি ও হাইজিন নিশ্চিত করতে এই ধরনের বিশেষ অভিযান ভবিষ্যতেও আরও জোরদার করা হবে এবং নিয়মভঙ্গকারী প্রতিটি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে কঠোরতম আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে। তবে সাধারণ মানুষের অবগতির জন্য জানানো হচ্ছে যে, এই আইনি পদক্ষেপ ডোমিনোসের গোটা ব্যবসার বিরুদ্ধে নেওয়া হয়নি, বরং নির্দিষ্ট কিছু আউটলেটে স্বাস্থ্যবিধি লঙ্ঘনের সুনির্দিষ্ট প্রমাণ পাওয়ার পরেই এই শাস্তিমূলক ব্যবস্থা কার্যকর করা হয়েছে।