এক ক্লিকেই অন্য জেলায় বদলি করা যাবে অধ্যাপক-শিক্ষাকর্মীদের! বিধানসভার অন্দরে কোন ঐতিহাসিক মাস্টারস্ট্রোক?

আজ বৃহস্পতিবার পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভায় এক অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ও সংক্ষিপ্ত বিশেষ অধিবেশন বসতে চলেছে। সকাল ১১টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত—মাত্র দু’ঘণ্টার এই বিশেষ অধিবেশনে বিধানসভার টেবিলে আনুষ্ঠানিকভাবে পেশ হতে চলেছে বহুল আলোচিত ‘পশ্চিমবঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয় ও মহাবিদ্যালয় প্রশাসন ও নিয়ন্ত্রণ (সংশোধন) বিল, ২০২৬’। এই নতুন ও ঐতিহাসিক বিলটি সামনে আসার পর থেকেই রাজ্যের শিক্ষা মহল ও রাজনৈতিক মহলে তীব্র শোরগোল পড়ে গিয়েছে। বিধানসভায় বিজেপির বর্তমান সংখ্যার নিরিখে এই বিল পাস হওয়া এখন কেবল সময়ের অপেক্ষা মাত্র, এবং রাজ্যপালের স্বাক্ষর পড়লেই তা পাকাপাকিভাবে আইনে পরিণত হবে।
এই নতুন সংশোধনী বিলটি কার্যকর হলে যেকোনো রাজ্য বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক, শিক্ষক এবং শিক্ষাকর্মীদের রাজ্যের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে, অর্থাৎ যেকোনো জেলার যেকোনো বিশ্ববিদ্যালয়ে ইচ্ছামতো বদলি করা সম্ভব হবে। এতদিন ধরে প্রতিটি রাজ্য বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব বিধি বা অটোনমি ছিল। বিশ্ববিদ্যালয়গুলিই নিয়োগকর্তা হিসেবে নিজস্ব প্যানেল বা কমিটির মাধ্যমে যোগ্য প্রার্থী বেছে নিত এবং সরকার তাতে সরাসরি কোনো নাক গলাত না। কংগ্রেস, বাম কিংবা বিগত তৃণমূল—সব আমলেই শিক্ষকরা যে বিশ্ববিদ্যালয়ে চাকরিজীবন শুরু করতেন, সেখানেই আজীবন অধ্যাপনা করে অবসর নিতেন। তাঁদের অন্য বিশ্ববিদ্যালয়ে বদলি করার কোনো আইনি সংস্থান ছিল না। কিন্তু এবার সেই দীর্ঘদিনের নিয়মে এক বিরাট ছেদ টানতে চলেছে সরকার।
বুধবার দক্ষিণ কলকাতার গোলপার্ক থেকে যাদবপুর এইট বি বাসস্ট্যান্ড পর্যন্ত আয়োজিত ‘গেরুয়া সম্মান যাত্রা’র শেষে এক ইঙ্গিতপূর্ণ ও গুরুত্বপূর্ণ জনসভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এই বিল সম্পর্কে বিস্তারিত জানান। তিনি বলেন, আজ বেলা ১১টা থেকে ১টা পর্যন্ত বিধানসভার বিশেষ অধিবেশন বসছে, যেখানে উচ্চশিক্ষা ক্ষেত্রে ইন্টার-ইউনিভার্সিটি অধ্যাপক ও শিক্ষাকর্মী ট্রান্সফারের যুগান্তকারী নীতি চালু করতে চলেছে সরকার। তিনি আরও জানান যে তিনি নিজে পরিষদীয় ও উচ্চশিক্ষা মন্ত্রীকে অনুরোধ করেছেন যাতে তাঁকে ওই বিশেষ অধিবেশনে অন্তত কুড়ি মিনিট বক্তব্য রাখার সুযোগ দেওয়া হয়।
অন্যদিকে, বিধানসভার স্পিকার রথীন্দ্র বসুও এই বিষয়ে মন্তব্য করে বলেছেন যে আজকের অধিবেশন চলাকালীন স্পষ্ট হয়ে যাবে সরকার শিক্ষকদের ঠিক কতটা সম্মান দেয়। ওয়াকিবহাল মহলের মতে, এই নতুন আইন বলবৎ হলে উচ্চশিক্ষা ক্ষেত্রে মানবসম্পদের বণ্টন ও প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণ সম্পূর্ণ বদলে যাবে। তবে চাকরিজীবীদের একাংশের মধ্যে এই বাধ্যতামূলক আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় বদলি নীতি নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়াও তৈরি হয়েছে। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গেই এখন গোটা রাজ্যের নজর রয়েছে বিধানসভার অন্দরে চলা এই বিশেষ অধিবেশনের দিকে, যেখানে উচ্চশিক্ষার ভবিষ্যৎ নির্ধারণকারী এই নতুন আইনটি পাস হওয়ার অপেক্ষায় রয়েছে।