জুলাইয়ের মন্দা কাটিয়ে ফের ঘুরে দাঁড়াল বাজার! অগস্টে হু হু করে বাড়ল কোন কোন খাতে বিনিয়োগ?

আগস্ট মাসটি মিউচুয়াল ফান্ড বিনিয়োগকারীদের জন্য এক বিরাট পরিবর্তনের বার্তা নিয়ে এসেছে। শেয়ার বাজারের উথাল-পাতাল গতির সঙ্গে তাল মিলিয়ে সাধারণ বিনিয়োগকারীরা ইক্যুইটি স্কিমগুলিতে দুহাতে অর্থ বিনিয়োগ করেছেন। যেখানে জুলাই মাসে বিনিয়োগকারীদের উৎসাহ কিছুটা থিতিয়ে গিয়েছিল, ঠিক সেখানেই আগস্ট মাসে বাজারে নতুন করে জোয়ার এসেছে। তবে এই পুরো পরিসংখ্যানের সবচেয়ে বড় চমকটি সামনে এসেছে ডেথ ফান্ড থেকে বিপুল পরিমাণ টাকা তুলে নেওয়ার ঘটনার জেরে।
এএমএফআই (AMFI)-এর সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, আগস্ট মাসে ইক্যুইটি-সংযুক্ত স্কিমগুলিতে মোট ২৯,৩২৮.৬২ কোটি টাকার নিট বিনিয়োগ এসেছে। যা জুলাই মাসের ২৪,৬৯৭.৩৯ কোটি টাকার তুলনায় প্রায় ১৯ শতাংশ বেশি। এমনকি জুলাই মাসে যেখানে ১৫ শতাংশ পতন লক্ষ্য করা গিয়েছিল, আগস্টে সেই খরা কাটিয়ে বিনিয়োগের গ্রাফ জুন মাসের রেকর্ডকেও ছাড়িয়ে গেছে। জুন মাসে ইক্যুইটিতে ২৮,৯৭৩ কোটি টাকার বিনিয়োগ এসেছিল। বাজারের এই লাগাতার ফান্ড ইনফেকাশনের জেরে ইক্যুইটি স্কিমগুলির মোট অ্যাসেটস আন্ডার ম্যানেজমেন্ট বা এউএম ২.২ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ৩৯.২১ লাখ কোটি টাকায় গিয়ে ঠেকেছে।
ইক্যুইটি বাজারে যেখানে টাকার উপচে পড়া ভিড় দেখা গেছে, ঠিক তার উল্টো ছবি ধরা পড়েছে ডেথ মিউচুয়াল ফান্ডগুলিতে। জুলাই মাসে ডেথ ফান্ডে বিপুল বিনিয়োগ হলেও আগস্টে ঠিক উল্টো ঘটনা ঘটে এবং বিনিয়োগকারীরা হাত গুটিয়ে নেন। এএমএফআই-এর তথ্য বলছে, আগস্টে ডেথ ফান্ড থেকে ৮,১২৭.৩২ কোটি টাকার নিট আউটফ্লো হয়েছে। তুলনামূলকভাবে জুলাই মাসে এই ফান্ডগুলিতে ১,৮৭,৫১১.৩২ কোটি টাকার ভারী নিট ইনফ্লো দেখা গিয়েছিল, যা মূলত লিক्वিডিটি-ভিত্তিক ক্যাটাগরিতে অতিরিক্ত টাকা ফেলার কারণে হয়েছিল। এত বড় অঙ্কের টাকা বেরিয়ে যাওয়ার পরেও ডেথ ফান্ডগুলির সামগ্রিক এউএম ১৯.৩৩ লাখ কোটি টাকার কাছাকাছি শক্ত ভিতের ওপর টিকে রয়েছে।
অন্যদিকে, সোনা বা প্রেশিয়াস মেটালের প্রতি ভারতীয় বিনিয়োগকারীদের চিরাচরিত আস্থাও এই মাসে আরও একবার প্রমাণিত হয়েছে। আগস্টে গোল্ড ইটিএফ-এ বিনিয়োগের গতি ছিল অবিশ্বাস্য। জুলাই মাসে যেখানে মাত্র ১,৫৫৮.৭৫ কোটি টাকা এসেছিল, আগস্টে তা প্রায় ৬৭ শতাংশ লাফিয়ে ২,৫৯৬.৭০ কোটিতে পৌঁছায়। তবে এর বিপরীত ছবি দেখা গেছে হাইব্রিড স্কিমগুলিতে, যেখানে ১১,৪৯০.৫৬ কোটির তুলনায় ইনফ্লো ১৩ শতাংশ কমে ১০,০৪৫.৩৪ কোটিতে নেমে এসেছে। পাশাপাশি এএমএফআই তাদের ডেটা উপস্থাপনের পদ্ধতিতে বড় পরিবর্তন এনে ইটিএফ, ইনডেক্স ফান্ড এবং ওভারসিজ ফান্ডের হিসাব আরও স্বচ্ছ করেছে।