এক্সপ্রেসওয়েতে সাক্ষাৎ যমদূত! নিমেষে ছাই শৌখিন গাড়ি, ৫ কঙ্কাল উদ্ধারের ঘটনায় স্তম্ভিত রাজস্থান

দিল্লি-মুম্বই এক্সপ্রেসওয়েতে ঘটে গেল এক হৃদয়বিদারক ও ভয়াবহ দুর্ঘটনা। বুধবার রাতে রাজস্থানের আলওয়ার জেলার লক্ষ্মণগড় থানা এলাকার মৌজপুরের কাছে একটি চলন্ত চারচাকা গাড়িতে হঠাৎ আগুন লেগে যাওয়ায় একই পরিবারের পাঁচজন সদস্য জীবন্ত দগ্ধ হয়ে মারা গেছেন। মৃতদের মধ্যে তিন মহিলা, একজন পুরুষ এবং এক নাবালিকা রয়েছেন। এই ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড থেকে কেবলমাত্র গাড়ির চালক কোনোক্রমে প্রাণে বেঁচে ফিরলেও তাঁর শরীরের ৮০ শতাংশ পুড়ে গিয়েছে।

পুলিশ ও প্রশাসনিক সূত্রে জানা গেছে, দুর্ভাগা এই পরিবারটি মধ্যপ্রদেশের শেওপুর জেলার চেইনপুরা গ্রামের বাসিন্দা। তাঁরা জম্মুর বৈষ্ণোদেবী মন্দির দর্শন করে নিজেদের গ্রামে ফিরছিলেন। পথেই মৌজপুরের কাছে দ্রুতগামী গাড়িটিতে আগুন ধরে যায়। চারচাকাটি সিএনজি (CNG) চালিত হওয়ায় আগুন মুহূর্তের মধ্যে বিধ্বংসী আকার ধারণ করে। গাড়ির ভেতরে থাকা যাত্রীরা বেরিয়ে আসার কোনো সুযোগই পাননি। আগুনের তীব্রতা এতটাই বেশি ছিল যে মৃতদেহগুলি কঙ্কালে পরিণত হয়েছে।

খবর পেয়েই ঘটনাস্থলে পৌঁছায় লক্ষ্মণগড় থানার পুলিশ এবং দমকল বাহিনী। এসএসবি (SSB) প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের কর্মীরাও উদ্ধারকাজে ঝাঁপিয়ে পড়েন। আলওয়ারের পুলিশ সুপার সুধীর চৌধুরী এবং অতিরিক্ত পুলিশ সুপার প্রিয়াঙ্কা রঘুবংশী জানান, ১৫ মিনিটের মধ্যে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হলেও ততক্ষণে গাড়িটি সম্পূর্ণ ভস্মীভূত হয়ে গিয়েছিল। পুলিশ জানিয়েছে, মৃতদের পরিচয় নিশ্চিত করতে ডিএনএ (DNA) পরীক্ষার সাহায্য নেওয়া হবে।

গাড়ির চালক বিনোদ কুমার মেহার চলন্ত গাড়ি থেকে লাফ দিয়ে বেরিয়ে আসতে সক্ষম হন। গুরুতর জখম অবস্থায় তাঁকে প্রথমে স্থানীয় স্বাস্থ্যকেন্দ্রে এবং পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য জয়পুরে স্থানান্তরিত করা হয়েছে। ডিএসপি কৈলাশ জিন্দাল জানান, প্রাথমিক তদন্তে মনে করা হচ্ছে বৈদ্যুতিক শর্ট-সার্কিট থেকেই এই বিপত্তি। তবে সিএনজি কিট বিস্ফোরণ হয়েছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এই দুর্ঘটনার জেরে এক্সপ্রেসওয়েতে বেশ কিছুক্ষণ যান চলাচল ব্যাহত হয়। বৈষ্ণোদেবী দর্শন সেরে ফেরার পথে এমন মর্মান্তিক পরিণতিতে গোটা গ্রামে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy