এক্সপ্রেসওয়েতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড! চলন্ত বাসে ট্রাকের ধাক্কায় জীবন্ত দগ্ধ ৮, মৃত্যুমিছিলে শোকের ছায়া

রাজস্থানের দিল্লি-মুম্বই এক্সপ্রেসওয়েতে এক মর্মান্তিক পথ দুর্ঘটনায় মৃত্যু হলো আটজনের। বুধবার ভোরে দৌসা জেলার কোলওয়া থানা এলাকার ধনওয়াড় জিরো পয়েন্টে ঘটে এই ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড। সূত্রের খবর, ঋষিকেশ থেকে ইন্দোরগামী একটি যাত্রীবাহী স্লিপার বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সামনে থাকা একটি ট্রাকের পেছনে সজোরে ধাক্কা মারে। সংঘর্ষের তীব্রতা এতটাই ভয়াবহ ছিল যে মুহূর্তে বাসটিতে আগুন ধরে যায়।

দুর্ঘটনার সময় বাসের অধিকাংশ যাত্রীই গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন ছিলেন। সংঘর্ষের ফলে বাসটির সামনের অংশ দুমড়ে-মুচড়ে যায় এবং যাত্রীরা ভিতরেই আটকে পড়েন। ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় ছয়জনের, যারা আগুনে জীবন্ত দগ্ধ হন। অন্য দুজনের মৃত্যু হয় মাথায় গুরুতর আঘাতের কারণে। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, বাসটি ইন্দোরের ‘হ্যান্স ট্রাভেলস’-এর মালিকানাধীন ছিল।

ঘটনার খবর পেয়েই স্থানীয় গ্রামবাসী ও পথচারীরা ছুটে আসেন এবং আর্তনাদ শুনতে পান। যদিও তাঁদের অভিযোগ, দমকল বাহিনীকে খবর দেওয়ার প্রায় এক ঘণ্টা পর তারা ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। স্থানীয়দের ক্ষোভ, সঠিক সময়ে উদ্ধারকাজ শুরু হলে বাসের ভেতরে আটকে থাকা যাত্রীদের হয়তো বাঁচানো সম্ভব হতো। পুলিশ প্রশাসন ও উদ্ধারকারী দল দ্রুত পৌঁছালেও আগুনের লেলিহান শিখা নিয়ন্ত্রণে আনতে বেগ পেতে হয়।

দৌসা জেলা হাসপাতালের সুপার পীযূষ দীক্ষিত জানান, এই দুর্ঘটনায় শিশুসহ প্রায় ২৯ জন আহত হয়েছেন। তাঁদের দ্রুত দৌসার জেলা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। প্রাথমিক তদন্তে পুলিশের ধারণা, বাসচালক হয়তো দীর্ঘ যাত্রায় ক্লান্ত হয়ে ঘুমিয়ে পড়েছিলেন, যার জেরেই এই নিয়ন্ত্রণহীনতা। দৌসার জেলাশাসক সৌম্য ঝা জানিয়েছেন, দুর্ঘটনার পর প্রায় ২৪-২৫ জন যাত্রী কোনোমতে প্রাণে বেঁচে বেরিয়ে আসতে সক্ষম হন। অগ্নিকাণ্ডের পর বাসের ভেতর থেকে কিছু দেহাবশেষ উদ্ধার করা হয়েছে, যা ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে।

রাজস্থানের মুখ্যমন্ত্রী ভজনলাল শর্মা এই ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। এক্স হ্যান্ডলে তিনি লিখেছেন, “দৌসায় দিল্লি-মুম্বই এক্সপ্রেসওয়েতে সড়ক দুর্ঘটনার খবরটি অত্যন্ত বেদনাদায়ক। শোকসন্তপ্ত পরিবারগুলোর প্রতি আমার সমবেদনা। আহতদের দ্রুত আরোগ্যের জন্য সব ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।” এই দুর্ঘটনা কীভাবে ঘটল, তা খতিয়ে দেখতে বিস্তারিত তদন্ত শুরু করেছে প্রশাসন। দিল্লি-মুম্বই এক্সপ্রেসওয়ের মতো আধুনিক সড়কে এই ধরনের ভয়াবহ দুর্ঘটনা নিরাপত্তা নিয়েও বড় প্রশ্ন তুলে দিল।