হাসিনা ভারতে! তবুও পূর্ব ঘোষণা মতো ঢাকাকে ২০০ ব্রডগেজ রেলকোচ দিচ্ছে মোদি সরকার

রাজনৈতিক পটপরিবর্তন ও শেখ হাসিনার ভারতে আশ্রয় নেওয়ার ঘটনার পরেও দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যে বড় পদক্ষেপ নিল নরেন্দ্র মোদি সরকার। চুক্তি অনুযায়ী বাংলাদেশকে ২০০টি আধুনিক ব্রডগেজ রেলকোচ দিচ্ছে ভারত। ২০২৪ সালের রাজনৈতিক অস্থিরতার জেরে কাজ সাময়িকভাবে থমকে গেলেও, সমস্ত শর্ত মেনেই এখন পুরোদমে এগোচ্ছে এই মেগা প্রকল্প।
প্রকল্পের খুঁটিনাটি ও সময়সীমা
ভারত ও বাংলাদেশের পূর্বের চুক্তি অনুযায়ী, পাঞ্জাবের কাপুরথালায় রেল কারখানায় কোচ ও লোকোমোটিভ তৈরির কাজ এখন জোরকদমে চলছে। এই রেলকোচ সরবরাহের মূল বিষয়গুলো একনজরে:
সরবরাহের সময়সীমা: চলতি বছরের আগস্ট মাসের শুরু থেকে ২০২৭ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত ধাপে ধাপে এই কোচগুলো বাংলাদেশে সরবরাহ করা হবে।
চুক্তির মূল্য ও অর্থায়ন: ২০২৪ সালে তৎকালীন আওয়ামি লিগ সরকারের আমলে ভারতের রেল মন্ত্রকের অধীনস্থ সংস্থা ‘রাইটস’ (RITES)-এর সঙ্গে প্রায় ৯১৫ কোটি টাকার এই চুক্তি হয়েছিল। এই প্রকল্পে অর্থায়ন করছে ইউরোপিয়ান ইনভেস্টমেন্ট ব্যাংক (EIB)।
প্রথম চালান: প্রাথমিক পর্যায়ে ২০টি অত্যাধুনিক কোচ খুব শীঘ্রই বাংলাদেশে পাঠানো হবে। রাইটসের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক রাহুল মিথাল জানিয়েছেন, বাংলাদেশ রেলওয়ের আধুনিকীকরণে এই কোচগুলি মাইলফলক হয়ে থাকবে।
বড় সুখবর মৈত্রী এক্সপ্রেস নিয়ে
শুধু রেলকোচ সরবরাহ হওয়াই নয়, ভারত-বাংলাদেশের যোগাযোগ ব্যবস্থার আরও উন্নতি ঘটাতে চলতি বছরের সেপ্টেম্বর মাসে কলকাতা-ঢাকা রুটে জনপ্রিয় মৈত্রী এক্সপ্রেস পুনরায় চালু করার বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা শুরু হতে পারে। প্রসঙ্গত, ২০০৮ সালে উদ্বোধনের পর থেকেই এই ট্রেনটি দুই বাংলার যাতায়াতে অত্যন্ত জনপ্রিয় ছিল, যা রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে বন্ধ হয়ে গিয়েছিল।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, প্রতিবেশী দেশের সঙ্গে কূটনৈতিক সমীকরণে পরিবর্তন এলেও রেল ও যোগাযোগ পরিকাঠামোর মতো কৌশলগত ও অর্থনৈতিক চুক্তিগুলি বজায় রেখে ভারত বুঝিয়ে দিল যে দুই দেশের সাধারণ মানুষের বাণিজ্যিক ও সামাজিক সম্পর্ককে তারা বরাবরই অগ্রাধিকার দিচ্ছে।