“একটা আসনে হারলে বিজেপি মাছ খাওয়া বন্ধ করবে!” ২০২৬-এর মহাযুদ্ধে দাঁত দিয়ে মাটি কামড়ে লড়ার ডাক মমতার

২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের নির্ঘণ্ট প্রকাশ হওয়ার পর থেকেই জেলা সফর শুরু করেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সোমবার পশ্চিম মেদিনীপুরের বেলদা ও ডেবরা এবং পূর্ব মেদিনীপুরের পাঁশকুড়ায় নির্বাচনী জনসভা থেকে বিরোধীদের কার্যত ধুয়ে দিলেন তৃণমূল নেত্রী। এদিন তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দেন, “বাংলায় জোড়াফুলের কোনও বিকল্প নেই।” তাঁর দাবি, তৃণমূল সরকার ক্ষমতায় না থাকলে রাজ্যের মানুষ সামাজিক সুরক্ষার সমস্ত সুযোগ-সুবিধা হারাবে।

পাঁশকুড়ার সভা থেকে বিজেপি-কে আক্রমণ করে মমতা বলেন, “বিজেপি দেশটাকে যে ভাবে চালাচ্ছে, দু-মাসের মধ্যে ওদের দিল্লি ছেড়ে পালাতে হবে। ওরা লুটেরার দল, ওরা ভোট কাটার দল।” সাধারণ ভোটারদের সতর্ক করে তিনি আরও বলেন, “যদি একটা আসনেও আমরা হারি, তবে বিজেপি আপনাদের মাছ-মাংস খাওয়া বন্ধ করে দেবে। ওদের সংস্কৃতি বাংলায় চলবে না।” এদিন তিনি কমিশনের অফিসার বদলি এবং ভোটার তালিকা নিয়ে ‘চক্রান্তের’ অভিযোগ তুলে বলেন, “যতই চক্রান্ত করো, সব ব্যর্থ হবে। জয়ী হবে বাংলাই।”

প্রার্থী পদ নিয়ে দলের অন্দরে থাকা ছোটখাটো ক্ষোভ প্রশমিত করতে এদিন মমতার গলায় শোনা যায় পুরনো সেই রণকৌশল। তিনি বলেন, “কে কোথায় প্রার্থী তা ভুলে যান। মনে রাখবেন ২৯৪টি আসনেই আমি প্রার্থী। জোড়াফুলে ভোট দেওয়া মানে আমাকে ভোট দেওয়া।” লক্ষ্মীর ভাণ্ডার থেকে শুরু করে স্বাস্থ্যসাথী— জনকল্যাণমূলক প্রকল্পগুলো যে তাঁর সরকারই টিকিয়ে রাখতে পারে, এদিন সেই বার্তাই ছিল তাঁর ভাষণের মূল উপজীব্য।