এই মন্দিরে পিণ্ডদান করলে পিতৃপুরুষেরা মোক্ষলাভ করেন, জেনে নিন কেন এই মন্দিরের মহিমা এত বেশি!

দক্ষিণ ভারতের তামিলনাড়ুতে অবস্থিত তিলতর্পণপুরী নামের এক মন্দিরে আজও হাজার হাজার ভক্ত পিতৃপুরুষের শ্রাদ্ধ ও তর্পণ করতে আসেন। এই মন্দিরের সঙ্গে জড়িয়ে আছে এক অলৌকিক কাহিনি, যার মূল চরিত্র স্বয়ং শ্রীরামচন্দ্র।

পৌরাণিক কাহিনি অনুসারে, শ্রীরামচন্দ্র যখন তার পিতা দশরথের শ্রাদ্ধকর্ম করছিলেন, তখন তার তৈরি করা চালের পিণ্ডগুলো বারবার পোকায় পরিণত হচ্ছিল। এই অদ্ভুত ঘটনা থেকে মুক্তি পেতে তিনি মহাদেবের কাছে প্রার্থনা করেন। মহাদেব তখন তাকে এই মন্দিরে এসে পূজা করার নির্দেশ দেন।

মহাদেবের আদেশ মেনে রামচন্দ্র যখন আদি বিনায়ক মন্দিরে পূজা করেন, তখনই তার হাতে থাকা চারটি পিণ্ড চারটি শিবলিঙ্গে পরিণত হয়। বর্তমানে সেই অলৌকিক শিবলিঙ্গগুলো পাশেই অবস্থিত মুক্তেশ্বর মন্দিরে রাখা আছে।

এই অলৌকিক ঘটনার কারণেই দেশের মধ্যে একমাত্র এই মন্দিরে আজও পিতৃপুরুষের শান্তি ও স্বস্ত্যয়নের কাজ করা হয়। ভক্তদের বিশ্বাস, এখানে শ্রাদ্ধ করলে পিতৃপুরুষেরা মোক্ষ লাভ করেন এবং পরিবারের উপর থেকে ‘পিতৃদোষ’ কেটে যায়।

তামিলনাড়ুর তিরুবারুর জেলার কুটনুর থেকে মাত্র ২ কিলোমিটার দূরে এই মন্দিরটি অবস্থিত। এখানকার আদি বিনায়ক মন্দিরে ভগবান গণেশের একটি দুর্লভ রূপ দেখা যায়, যেখানে তার মুখ মানুষের মতো। কথিত আছে, দেবী পার্বতী নিজেই সপ্তম শতাব্দীতে গণেশের এই রূপ তৈরি করেছিলেন। গণেশের এই অদ্বিতীয় রূপ দর্শনের জন্য প্রতি বছর হাজার হাজার ভক্তের সমাগম হয়।

প্রসঙ্গত, পিতৃপুরুষের তর্পণ ও পিণ্ডদানের জন্য দক্ষিণ ভারতের আরেকটি বিখ্যাত স্থান হলো কাঞ্চিপুরম, যাকে ‘দক্ষিণের কাশী’ বলা হয়। সেখানেও একাদশী এবং অমাবস্যায় ভক্তরা তর্পণ ও পিণ্ডদান করে থাকেন।