উপরাষ্ট্রপতি পদে জগদীপ ধনখড়ের ইস্তফা, দিল্লির মসনদে কে বসবেন, জল্পনায় যে নাম?

দেশের উপরাষ্ট্রপতি জগদীপ ধনখড়ের আকস্মিক পদত্যাগ ভারতের রাজনৈতিক মহলে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে। রাষ্ট্রপতির কাছে জমা দেওয়া তার পদত্যাগপত্র গৃহীত হওয়ার পর থেকেই প্রশ্ন উঠেছে—কে হতে চলেছেন দেশের পরবর্তী উপরাষ্ট্রপতি? ক্ষমতাসীন বিজেপি নেতৃত্বাধীন এনডিএ-র সংসদীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকায়, তাদের পছন্দের প্রার্থীর জয় প্রায় নিশ্চিত। তাই নতুন উপরাষ্ট্রপতি নির্বাচনের প্রক্রিয়া শুরুর আগেই শুরু হয়েছে জল্পনা।

বিজেপির অন্দরে চলছে খোঁজ

সূত্র মারফৎ খবর, বিজেপি নেতৃত্ব নিজেদের জোটসঙ্গী নয়, বরং দলেরই কোনো শক্তিশালী এবং অভিজ্ঞ নেতাকে এই পদের জন্য বেছে নিতে চাইছে। অতীতেও এই ধারা দেখা গেছে, যখন এম. বেঙ্কাইয়া নাইডু (প্রাক্তন বিজেপি সভাপতি ও কেন্দ্রীয় মন্ত্রী) এবং জগদীপ ধনখড় (প্রাক্তন রাজ্যপাল ও সুপরিচিত আইনজীবী) উপরাষ্ট্রপতি পদে আসীন হয়েছিলেন। এই পদের জন্য এমন একজন ব্যক্তিত্বকে খোঁজা হচ্ছে, যিনি সাংগঠনিক দক্ষতা এবং প্রশাসনিক অভিজ্ঞতা দুয়েরই অধিকারী।

জল্পনার কেন্দ্রে রামনাথ ঠাকুর

উপরাষ্ট্রপতি পদের জন্য একাধিক নাম নিয়ে আলোচনা চললেও, সম্প্রতি একটি নাম বিশেষ ভাবে উঠে এসেছে— বিহারের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী কর্পুরী ঠাকুরের পুত্র এবং জেডিইউ নেতা রামনাথ ঠাকুর। বুধবার বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি জে.পি. নাড্ডার সঙ্গে তার বৈঠকের পর এই জল্পনা আরও জোরালো হয়। যদিও সূত্র বলছে, এই বৈঠকটি ছিল বিহারের এসআইআর (SIR) ইস্যু নিয়ে একটি সৌজন্যমূলক সাক্ষাৎ, উপরাষ্ট্রপতি পদ নিয়ে কোনো আলোচনা হয়নি।

আগামী দিনে কী হতে পারে?

বিজেপির একজন শীর্ষ নেতার মতে, দল থেকে একজন অভিজ্ঞ কেন্দ্রীয় মন্ত্রী অথবা প্রাক্তন কোনো রাজ্যপালকে এই গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক পদে বসানো হতে পারে। এটি শুধুমাত্র দলের মধ্যে থেকে একটি শক্তিশালী মুখ তুলে ধরা নয়, বরং সরকারের কৌশলগত সিদ্ধান্তের প্রতিফলনও হবে। উপরাষ্ট্রপতির পদ যেহেতু রাজ্যসভার চেয়ারম্যানের দায়িত্বও বহন করে, তাই রাজ্যসভায় সরকারের কাজ সুচারুভাবে পরিচালনা করার মতো ক্ষমতা যার রয়েছে, এমন কাউকেই এই পদে বসানো হবে বলে মনে করা হচ্ছে।

জগদীপ ধনখড় ২০২২ সালে দেশের ১৪তম উপরাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নিয়েছিলেন এবং তার মেয়াদ ২০২৭ সালের আগস্ট পর্যন্ত ছিল। তার এই অপ্রত্যাশিত পদত্যাগ দেশের রাজনৈতিক মহলে একটি বড় শূন্যস্থান তৈরি করেছে। এখন দেখার, বিজেপি শেষ পর্যন্ত কার হাতে এই গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বভার তুলে দেয়।