ভরতপুরে তৃণমূল কর্মীকে কুপিয়ে খুন! গোষ্ঠীদ্বন্দ্বই কী কারণ? তদন্তে পুলিশ

মুর্শিদাবাদের ভরতপুর থানার আলুগ্রাম পঞ্চায়েত এলাকার সেহালাই গ্রামে ফের রক্তপাত! বুধবার রাতে দুষ্কৃতীদের ধারালো অস্ত্রের কোপে খুন হলেন তৃণমূল কর্মী ষষ্ঠী ঘোষ (৫৫)। শুনিয়া গ্রামের কাছে কুয়ে নদীর বাঁধের ধার থেকে তার রক্তাক্ত দেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এই ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে এবং স্থানীয়দের একাংশ তৃণমূলের গোষ্ঠীদ্বন্দ্বকেই এই খুনের কারণ হিসেবে দুষছেন।

যদিও মুর্শিদাবাদ জেলা পুলিশ সুপার কুমার সানি রাজ প্রাথমিক তদন্তের ভিত্তিতে জানিয়েছেন, “ঘটনায় কোনো রাজনৈতিক সম্পর্ক জড়িয়ে নেই বলেই উঠে এসেছে। ব্যক্তিগত কারণেই এই খুন।” পুলিশ সূত্রে আরও জানা গেছে, নিহত ষষ্ঠী ঘোষের বিরুদ্ধে অস্ত্র আইন-সহ একাধিক ধারায় মামলা ছিল এবং তাকে প্রতিদিন থানায় হাজিরা দিতে হতো। এই ঘটনায় পুলিশ ইতিমধ্যেই দু’জন সন্দেহভাজনকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেছে।

কীভাবে ঘটলো এই মর্মান্তিক ঘটনা?

স্থানীয়দের একাংশের দাবি, ভরতপুর বিধানসভা এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে তৃণমূলের দুটি গোষ্ঠীর মধ্যে চাপা উত্তেজনা বিরাজ করছে। মৃতের পরিবারের সদস্যরা অভিযোগ করেছেন, এর আগেও ষষ্ঠী ঘোষকে দু’বার খুনের চেষ্টা করা হয়েছিল। নিহত ষষ্ঠী ঘোষের স্ত্রী শ্যামলী ঘোষ জানান, বুধবার বিকেল ৪টে নাগাদ তার স্বামী মাঠের কাজের জন্য লোক দেখতে বাড়ি থেকে বেরিয়েছিলেন। এরপর রাত আটটা নাগাদ খবর আসে যে, বাড়ি থেকে প্রায় ৩০০ মিটার দূরে কুয়ে নদীর বাঁধের ধারে তার মৃতদেহ পড়ে আছে। স্থানীয়রা দ্রুত পুলিশে খবর দিলে, ভরতপুর থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে দেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য কান্দি মহকুমা হাসপাতালে পাঠায়।

স্থানীয় সূত্রে আরও জানা গেছে, ষষ্ঠী ঘোষ এলাকায় একজন সক্রিয় তৃণমূল কর্মী হিসেবে পরিচিত ছিলেন। তবে তার বিরুদ্ধে চুরি, ছিনতাই, ডাকাতি, অস্ত্র আইন-সহ একাধিক ধারায় ভরতপুর থানায় মামলা ছিল। একটি নির্দিষ্ট মামলায় তাকে প্রতিদিন থানায় হাজিরা দিতে হতো।

পরিবার ও বিধায়কের ভিন্ন সুর:

মৃতের পরিবারের দাবি, ষষ্ঠী ঘোষের বিরুদ্ধে আনা এই সব অভিযোগই চক্রান্ত করে করা হয়েছিল। মৃতের জামাই ভীমদেব পাল দাবি করেছেন, এর আগেও তাকে কয়েকবার খুনের চেষ্টা করা হয়েছিল। যদিও এই খুনের পিছনে প্রকৃত কারণ এখনও পুরোপুরি স্পষ্ট নয়। ভরতপুর থানার পুলিশ ঘটনার তদন্তে নেমেছে এবং আটক দু’জনকে জিজ্ঞাসাবাদ করে খুনের কিনারা করার চেষ্টা করছে।

ভরতপুরের তৃণমূল বিধায়ক হুমায়ুন কবীর অবশ্য পুলিশের সুরেই কথা বলেছেন। তিনি বলেন, “এই ঘটনার পিছনে কোনো রাজনৈতিক কারণ নেই। পুলিশ ঘটনার তদন্ত শুরু করে প্রকৃত দোষীদের খোঁজার চেষ্টা করছে।”

ষষ্ঠী ঘোষের এই নৃশংস হত্যাকাণ্ড ভরতপুরে আবারও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন তুলে দিয়েছে। পুলিশ এই ঘটনাকে ব্যক্তিগত শত্রুতার জের বললেও, স্থানীয়দের একাংশ রাজনৈতিক বা গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের যোগসূত্র নিয়ে সংশয়ে রয়েছেন। তদন্তের চূড়ান্ত রিপোর্টই এই খুনের প্রকৃত কারণ উন্মোচন করবে।