উত্তরাখণ্ডে ফের দুর্যোগ, মেঘভাঙা বৃষ্টিতে বিধ্বস্ত চামোলি, নিখোঁজ ১০

মাত্র ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে ফের দুর্যোগের কবলে পড়ল উত্তরাখণ্ড। দেরাদুনের পর এবার মেঘভাঙা বৃষ্টি ও হড়পা বানে বিধ্বস্ত হয়েছে চামোলি জেলা। বুধবার ভোররাতে এই প্রাকৃতিক বিপর্যয়ে নন্দন নগর পঞ্চায়েতের একটি ওয়ার্ড সম্পূর্ণরূপে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এখনও পর্যন্ত ১০ জন নিখোঁজ এবং ৬টি বাড়ি পুরোপুরি ধসে পড়েছে।
সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, এই ভয়াবহ দুর্যোগে বহু বাড়ি, হোটেল, দোকান এবং কৃষিজমি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। প্রশাসন দ্রুত উদ্ধার অভিযান শুরু করেছে এবং এখন পর্যন্ত দু’জনকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে।
উত্তরাখণ্ডের মুখ্যমন্ত্রী পুষ্কর সিং ধামি এই ঘটনাকে ‘অত্যন্ত দুঃখজনক’ বলে মন্তব্য করেছেন। তিনি জানান, স্থানীয় প্রশাসনিক কর্মকর্তা, পুলিশ ও উদ্ধারকারী দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধারকাজ শুরু করেছে।
উত্তরাখণ্ডে প্রাকৃতিক বিপর্যয় যেন থামছেই না। গত মঙ্গলবার ভোররাতের মেঘভাঙা বৃষ্টি ও হড়পা বানে শুধু দেরাদুনেই ২১ জনের মৃত্যু হয়েছে, যাদের মধ্যে আটজন উত্তরপ্রদেশের বাসিন্দা। এছাড়াও, নৈনিতালে একজন এবং উধম সিং নগরে আরও একজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। এখনও পর্যন্ত ১৭ জন নিখোঁজ রয়েছেন এবং ২৫০০-এর বেশি পর্যটক বিভিন্ন স্থানে আটকে পড়েছেন।
চলতি বছরের এপ্রিল থেকে উত্তরাখণ্ডে প্রাকৃতিক দুর্যোগে এখন পর্যন্ত ৮৫ জনের মৃত্যু হয়েছে, আহত হয়েছেন ১২৮ জন এবং নিখোঁজ রয়েছেন ৯৪ জন। গত ১১ সেপ্টেম্বর প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শনে এসে ১,২০০ কোটি টাকার বিশেষ আর্থিক সাহায্যের ঘোষণা করেছিলেন।
এর আগে আগস্ট মাসে উত্তরকাশীর ধারালি-হরশিল এলাকায় মেঘভাঙা বৃষ্টি ও ভূমিধসে ৫০ জনেরও বেশি মানুষ নিখোঁজ হয়েছিলেন। সেই ঘটনায় গঙ্গোত্রী ধামের সঙ্গে সমস্ত রাস্তার যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গিয়েছিল। পর্যটকদের তোলা ভিডিওতে দেখা গিয়েছিল, কীভাবে পাহাড় থেকে নেমে আসা জলের তোড়ে বাড়ি, গাছপালা ভেসে যাচ্ছিল। সেই বিপর্যয়ে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছিল ৫, এবং ১০০ জনেরও বেশি নিখোঁজ ছিলেন।