উত্তরবঙ্গে প্রলয়ংকরী বৃষ্টির অশনি সংকেত, জারি ‘লাল সতর্কতা’, ভাসতে পারে ডুয়ার্স!

রাতভর অবিরাম বর্ষণ, তার ওপর পাহাড়ে ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস—সব মিলিয়ে ফের একবার দুর্যোগের মেঘ উত্তরবঙ্গের আকাশে। শনিবার রাত থেকেই ধূপগুড়ি, বানারহাট-সহ ডুয়ার্সের বিস্তীর্ণ এলাকায় শুরু হয়েছে মুষলধারে বৃষ্টিপাত। এই লাগাতার বৃষ্টির জেরে জলপাইগুড়ি, দার্জিলিং, কালিম্পং, কোচবিহার ও আলিপুরদুয়ার—এই পাঁচ জেলায় জারি করা হয়েছে ‘লাল সতর্কতা’ (Red Alert)। আবহাওয়া দপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, সোমবার পর্যন্ত এই জেলাগুলিতে ২০০ মিলিমিটার পর্যন্ত বৃষ্টি হতে পারে।

পাহাড় ও সমতলে টানা বৃষ্টির ফলে ডুয়ার্সের ডায়না, জলঢাকা, তিস্তা, তোর্সা ও মূর্তির মতো নদীগুলোর জলস্তর দ্রুত বাড়তে শুরু করেছে। পাহাড়ি নদীগুলোর এই আচমকা জলস্ফীতি নদী তীরবর্তী জনপদগুলোতে বন্যার আতঙ্ক ছড়িয়েছে। প্রশাসন সূত্রে খবর, পরিস্থিতি মোকাবিলায় নাগরাকাটা ও বানারহাটের নদী সংলগ্ন এলাকায় লাগাতার মাইকিং চালানো হচ্ছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের নিরাপদ দূরত্বে সরে থাকতে এবং সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। গত বছরের ৫ অক্টোবরের ভয়াবহ বন্যার স্মৃতি এখনও দগদগে, তাই কোনো ঝুঁকি নিতে রাজি নয় প্রশাসন।

এদিকে, উত্তর দিনাজপুর জেলায় ভারী বৃষ্টির ‘কমলা সতর্কতা’ (Orange Alert) জারি করা হয়েছে। দক্ষিণ দিনাজপুর ও মালদহে বজ্রবিদ্যুৎসহ ঝড়-বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। আবহাওয়া দপ্তর স্পষ্ট জানিয়েছে, বুধবারের আগে উত্তরবঙ্গে বৃষ্টির হাত থেকে রেহাই পাওয়ার কোনো সম্ভাবনা নেই। পাহাড়ে একটানা বৃষ্টির ফলে নতুন করে ভূমিধস বা ধসের আশঙ্কাও উড়িয়ে দিচ্ছেন না বিশেষজ্ঞরা। রাস্তাঘাট ও জনজীবন বিপর্যস্ত হওয়ার প্রবল সম্ভাবনা থাকায় সাধারণ মানুষকে প্রয়োজন ছাড়া বাইরে না বেরোনোর আবেদন জানানো হয়েছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে জেলা প্রশাসন এখন হাই-অ্যালার্টে রয়েছে। যেকোনো জরুরি অবস্থায় উদ্ধারকাজ চালানোর জন্য প্রস্তুত রাখা হয়েছে এনডিআরএফ (NDRF) ও বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনীকে। প্রকৃতির এই রুদ্রমূর্তি থেকে বাঁচতে এখন শুধু উত্তরের বাসিন্দাদেরই নয়, সতর্ক গোটা রাজ্য।