‘উড়ন্ত কফিন’ কেন বলা হয়? ৪০০-র বেশি দুর্ঘটনা, তবুও মিগ-২১ ভারতের বায়ুসেনার মেরুদণ্ড! জেনে নিন অবাক করা তথ্য!

ভারতীয় বায়ুসেনার (IAF) ইতিহাসে মিগ-২১ (MiG-21) যুদ্ধবিমানটির ভূমিকা শুধু গৌরবময় নয়, বরং কিংবদন্তীতুল্য। ভারত ছিল বিশ্বের সবচেয়ে বড় মিগ অপারেটর। $১৯৬১ সালে পাকিস্তানকে মাথায় রেখে এই বিমান কেনার পরিকল্পনা করা হয় এবং $১৯৬৪ সালে এটি IAF-এর প্রথম সুপারসনিক ফাইটার জেট হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হয়।

যুদ্ধক্ষেত্রে মিগ-২১-এর অপ্রতিরোধ্য দাপট
১৯৭১-এর যুদ্ধ: বিজয়ের টার্নিং পয়েন্ট: $১৯৬৫ সালের যুদ্ধে এর ব্যবহার কম হলেও, $১৯৭১ সালের যুদ্ধে এর প্রভাব ছিল মারাত্মক। এই বিমান পূর্ব পাকিস্তানে (বর্তমান বাংলাদেশ) ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ চালায় এবং যুদ্ধ দ্রুত শেষ করতে সাহায্য করে। $১৪ ডিসেম্বর ১৯৭১-এ গুয়াহাটি এয়ার বেস থেকে উড়ে আসা চারটি মিগ-২১ ঢাকার গভর্নর হাউস-এ হামলা চালিয়ে এটিকে গুঁড়িয়ে দেয়। এটিই ছিল $১৯৭১-এর যুদ্ধের সবচেয়ে বড় টার্নিং পয়েন্ট।

কার্গিল যুদ্ধ (১৯৯৯): কার্গিল যুদ্ধেও মিগ-২১ তার ক্ষমতা দেখিয়েছে, পাকিস্তানি সেনাদের হিমালয়ের চূড়া থেকে হটাতে সাহায্য করেছিল। এই অপারেশনে একটি মিগ-২১ হারানো গেলেও, অভিযান সফল হয়েছিল।

বালাকোট সাহস: বালাকোট এয়ার স্ট্রাইকের পর পাকিস্তানি এয়ারফোর্স যখন $F-১৬ ও $JF-১৭ নিয়ে ভারতীয় এলাকায় প্রবেশের চেষ্টা করে, তখন উইং কমান্ডার অভিনন্দন বর্তমান একটি মিগ-২১ বাইসন (MiG-21 Bison) নিয়ে উড়ে যান এবং একটি শক্তিশালী $F-১৬ বিমানকে গুলি করে নামান। এই অসামান্য কীর্তি বিশ্বজুড়ে আলোচিত হয়।

‘উড়ন্ত কফিন’ থেকে বিদায়: মিগ-২১-এর শেষ ফ্লাইট
দীর্ঘ $৪০ থেকে $৪২ বছরের পরিষেবা এবং $১৬ লাখ ঘণ্টারও বেশি উড়ানের ইতিহাস রয়েছে মিগ-২১-এর। এই সময়ে IAF বহু সংখ্যক মিগ ভ্যারিয়েন্ট ব্যবহার করেছে, যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল মিগ-২১ টাইপ $৭৭, মিগ-২১ বীজ, মিগ-২১ বাইসন ইত্যাদি।

দুর্ঘটনা ও নাম: $১৯৭০ সাল থেকে এখন পর্যন্ত $৪০০টিরও বেশি মিগ বিমান বিধ্বস্ত হয়েছে এবং বহু পাইলট প্রাণ হারিয়েছেন। এই কারণে এটিকে ‘ফ্লাইং কফিন’ নামেও ডাকা হয়।

অবসর: মিগ-২১ বাইসন এখন অবসর নিচ্ছে। তবে, মিগ পরিবারের অন্য সদস্য মিগ-২৯-কে সম্প্রতি আপগ্রেড করা হয়েছে এবং এটি $২০৩০ সাল পর্যন্ত IAF-এর বহরে থাকবে বলে আশা করা হচ্ছে। একসময় IAF-এর ২৪টি স্কোয়াড্রন ছিল, এখন দুটি স্কোয়াড্রনে প্রায় $৩১টি বিমান সক্রিয় আছে।

ইতিহাসের পাতায় মিগ-এর চাঞ্চল্যকর চুরি
ষাট-এর দশকে মিগ-২১-এর প্রযুক্তি অর্জন করতে বিশ্বের বহু দেশ মরিয়া ছিল, যার মধ্যে আমেরিকা ও ইসরায়েলও ছিল। $১৯৬৬ সালের $১৬ আগস্ট, ইসরায়েলের গুপ্তচর সংস্থা মোসাদ (Mossad) একটি চাঞ্চল্যকর গোয়েন্দা অভিযান চালায়, যার নাম ছিল ‘অপারেশন ডায়মন্ড’। ইরাকি পাইলট মুনির রেডফা-এর সহায়তায় প্রথম মিগ-২১ চুরি করা হয়। এই চুরি বিশ্বের সবচেয়ে আলোচিত সামরিক চুরির একটি। চুরি যাওয়া সেই মিগ-২১ আজও ইসরায়েলে রয়েছে।