“ইস্টবেঙ্গল, মোহনবাগান নিয়ে লড়াই!”-জেনেনিন কোন দলকে সমর্থন করেন CM শুভেন্দু?

কলকাতা ডার্বি মানেই ময়দানের বাইরেও বাঙালির ঘরে ঘরে আবেগের জোয়ার। ইস্টবেঙ্গল বনাম মোহনবাগান লড়াই যে শুধু ৯০ মিনিটের ফুটবল ম্যাচ নয়, তা আবার প্রমাণ হলো শুভেন্দু অধিকারীর পরিবারে। জাতীয় ক্রীড়া দিবস উপলক্ষে নবান্নে আয়োজিত এক বিশেষ অনুষ্ঠানে নিজের পরিবার নিয়ে কথা বলতে গিয়ে ডার্বির এই চেনা আবেগের কথা তুলে ধরেন তিনি। তিনি জানান, একই ছাদের নিচে থেকেও দল সমর্থনের ক্ষেত্রে রয়েছে মজার বিভাজন— যেখানে তাঁর নিজের মন জুড়ে রয়েছে মোহনবাগান, আর তাঁর মায়ের হৃদয়ে বিশেষ জায়গা দখল করে রয়েছে ইস্টবেঙ্গল। বাঙালির হাজারো পরিবারের মতোই এই ঘরের অন্দরের খুনসুটি ডার্বির দিন অন্য মাত্রা নেয়।

তবে কেবল ফুটবল আবেগেই আটকে থাকেননি তিনি, বাংলার সামগ্রিক ক্রীড়াক্ষেত্রকে এগিয়ে নিয়ে যেতে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পরিকল্পনার কথাও জানান। তাঁর মতে, পরিকাঠামোর অভাব, প্রশাসনিক জটিলতা এবং অতীতে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপের কারণে বাংলার খেলাধুলা কিছুটা পিছিয়ে পড়েছিল। সেই অচলাবস্থা কাটিয়ে নতুন করে উদ্যোগ নিতে আগামী আট মাসের বাজেটে ক্রীড়া দফতরের জন্য ৪০০ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। রাজ্যের ২৯৪টি বিধানসভা কেন্দ্রেই মিনি ইন্ডোর স্টেডিয়াম তৈরির পরিকল্পনা হাতে নেওয়া হয়েছে, যার প্রথম ধাপে ১০০টি স্টেডিয়াম তৈরি করা হবে। এই কেন্দ্রগুলিতে ব্যাডমিন্টন, টেবিল টেনিস ও শরীরচর্চার মতো আধুনিক সুযোগ-সুবিধা রাখা হবে। পাশাপাশি, দীর্ঘদিন ধরে বেহাল বা অব্যবহৃত পড়ে থাকা ক্রীড়া পরিকাঠামো গুলিকে পুনরুজ্জীবিত করার কাজও শুরু হয়েছে।

খেলোয়াড়দের পাশে দাঁড়াতে আর্থিক সহায়তার নীতিতেও বড় পরিবর্তনের কথা ঘোষণা করা হয়েছে। এতদিন সাধারণত পদক জয়ের পরেই পুরস্কৃত করার রেওয়াজ ছিল, কিন্তু এখন থেকে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় যোগ্যতা অর্জনের প্রাথমিক পর্যায় থেকেই ক্রীড়াবিদদের আর্থিক সাহায্য করা হবে। একই সঙ্গে পুলিশসহ বিভিন্ন সরকারি দপ্তরে খেলোয়াড়দের জন্য বিশেষ ক্রীড়া কোটা চালুর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে এবং জাতীয় স্তরের ক্লাবগুলিকে বছরে এক কোটি টাকা করে আর্থিক অনুদান দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। এদিনের এই অনুষ্ঠানে রাজ্যের মোট ১৪৫ জন কৃতি খেলোয়াড়কে সংবর্ধনা জানিয়ে তাঁদের হাতে ৪ কোটি ৩১ লক্ষ ৫০ হাজার টাকার আর্থিক সাহায্য তুলে দেওয়া হয়। পাশাপাশি ক্রীড়াজগতের বিশিষ্টদের সম্মান জানাতে নতুন ‘অটল খেলরত্ন খেল সম্মান’ চালুর কথাও ঘোষণা করা হয়েছে।