ইস্কনকে মিড-ডে মিলের দায়িত্ব, ডিম বনাম নিরামিষ বিতর্কে উত্তাল রাজ্য রাজনীতি, কী বলছে সরকার?

রাজ্য বাজেটে এক বড়সড় ঘোষণা করলেন অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্ত। কলকাতা পুরসভা এলাকার সরকারি ও সরকারি সাহায্যপ্রাপ্ত স্কুলগুলিতে মিড-ডে মিল সরবরাহের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে ইসকন-কে (ISKCON)। বর্তমানে দিল্লি ও মহারাষ্ট্রের মতো দেশের আটটি রাজ্যে ইসকন তাদের ‘অন্নামৃত ফাউন্ডেশন’-এর মাধ্যমে মিড-ডে মিল সরবরাহ করে থাকে। বাংলায় বিজেপি সরকার গঠনের পর, পাইলট প্রজেক্ট হিসেবে কলকাতার স্কুলগুলোতে এই ব্যবস্থা চালু করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তবে এই ঘোষণার পর থেকেই শুরু হয়েছে রাজনৈতিক ও সামাজিক বিতর্ক। সবথেকে বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে, ইসকনের খাবারে আমিষ বা ডিমের কোনো স্থান নেই, তাহলে পড়ুয়াদের পাতে কি আর ডিম পড়বে?

এই সিদ্ধান্তের তীব্র বিরোধিতা করে তৃণমূল কংগ্রেস বিধায়ক কুণাল ঘোষ বলেন, “আমরা ইসকনকে শ্রদ্ধা করি, কিন্তু মিড-ডে মিলের মেনুতে বৈচিত্র্য ও পড়ুয়াদের পছন্দের দিকটি খেয়াল রাখা জরুরি। ইসকনের নিজস্ব নীতি অনুযায়ী তারা নিরামিষ খাবার পরিবেশন করে। মিড-ডে মিলে ডিম একটি বড় আকর্ষণ ও প্রোটিনের উৎস। ইসকনের নিয়ম মানলে বাচ্চারা ডিম থেকে বঞ্চিত হবে। আমরা সরকারকে এই সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার আবেদন জানাব।” উল্লেখ্য, প্রাথমিক স্তরের পড়ুয়াদের জন্য মধ্যাহ্নভোজের বাজেটও এই বাজেটে উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানো হয়েছে।

অভিভাবক মহলেও এই খবর ছড়িয়ে পড়ার পর শোরগোল পড়ে গিয়েছে। পড়ুয়াদের প্রোটিনের জোগান নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন অনেকেই। এ প্রসঙ্গে ইসকনের ভাইস প্রেসিডেন্ট রাধারমন দাস বলেন, “আমরা ২০০৪ সাল থেকে সারা ভারতে শিশুদের পুষ্টিকর খাবার সরবরাহ করছি। কলকাতার জন্য আমরা ফাইভ-স্টার হোটেলের মতো অত্যাধুনিক ‘নন-টাচ’ বা স্বয়ংক্রিয় রান্নাঘর তৈরি করব।” আমিষ বা ডিমের বিষয়ে তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, ইসকনের মেনুতে ডিম বা কোনো আমিষ খাবার থাকবে না।

রাধারমন দাস আরও ব্যাখ্যা করেন, “আমরা শুধুমাত্র নিরামিষ খাবারই দেব, তবে তাতে পুষ্টির কোনো খামতি থাকবে না। রাজমা, সোয়াবিন ও বিভিন্ন শাকসবজির মাধ্যমে শিশুদের প্রয়োজনীয় প্রোটিন ও ভিটামিনের জোগান দেওয়া হবে। সরকারের কাছ থেকে খুব সামান্য অনুদান পাওয়া যায়, কিন্তু আমাদের বিশ্বব্যাপী দাতা বা ডোনাররা বাকি খরচের জোগান দিয়ে থাকেন।” সরকার ও ইসকনের এই উদ্যোগে প্রযুক্তিনির্ভর রান্না ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার দাবি করা হলেও, মেনুতে ডিমের অনুপস্থিতি এবং নিরামিষ খাবারের এই নতুন মডেল স্কুল পড়ুয়াদের মধ্যে কতটা জনপ্রিয় হয়, এখন সেটাই দেখার।