সংসদে বড় ধাক্কা উদ্ধব ঠাকরের! দপ্তর হারানোর মুখে শিবসেনা (ইউবিটি), কী হতে চলেছে ভবিষ্যৎ?

লোকসভা সাংসদদের পরপর বিদ্রোহে জর্জরিত শিবসেনা (ইউবিটি) দল এখন এক অস্তিত্ব সংকটের মুখে। সম্প্রতি দলের নয়জন সাংসদের মধ্যে ছয়জনই একনাথ শিন্ডের নেতৃত্বাধীন শিবসেনা শিবিরে যোগ দিয়েছেন, যা উদ্ধব ঠাকরের শিবিরের জন্য এক বিরাট বড় রাজনৈতিক ধাক্কা। এই দলবদলের ফলে সংসদ ভবন চত্বরে শিবসেনা (ইউবিটি)-র নিজস্ব দপ্তর থাকা নিয়ে এখন চরম অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
সংসদীয় নিয়ম অনুযায়ী, লোকসভায় কোনো রাজনৈতিক দলের নিজস্ব দপ্তর পাওয়ার জন্য কমপক্ষে পাঁচজন সাংসদ থাকা বাঞ্ছনীয়। এই নতুন দলবদলের ফলে উদ্ধব ঠাকরের দলের সাংসদ সংখ্যা কমে দাঁড়িয়েছে মাত্র চারজনে। লোকসভার স্পিকার ওম বিরলা যদি এই দলবদলকে আনুষ্ঠানিকভাবে অনুমোদন দেন, তবে স্বাভাবিক নিয়মেই শিবসেনা (ইউবিটি) সংসদ ভবন চত্বরে তাদের বর্তমান অফিসটি হারানোর পথে এগিয়ে যাবে। বর্তমানে তাদের কার্যালয়টি পুরাতন সংসদ ভবনের বা সংবিধান ভবনের ১২৮এ নম্বর কক্ষে অবস্থিত। অফিস খোয়ানোর পাশাপাশি, এই ছোট সাংসদ সংখ্যার কারণে ভবিষ্যতে গুরুত্বপূর্ণ সব সর্বদলীয় বৈঠকে তাদের আমন্ত্রণ পাওয়া নিয়েও বড় প্রশ্নচিহ্ন উঠে গেল, কারণ পাঁচজনের কম সাংসদ থাকা দলগুলোকে সাধারণত এই ধরনের বৈঠকে ডাকা হয় না।
সোমবার উদ্ধব ঠাকরের বিশ্বস্ত ছয়জন সাংসদ শিন্ডে শিবিরে যোগ দেওয়ায় মহারাষ্ট্রের রাজনীতিতে এক নতুন সমীকরণ তৈরি হয়েছে। এই ছয় বিদ্রোহী সাংসদ হলেন—সঞ্জয় দিনা পাতিল (মুম্বাই উত্তর পূর্ব), নাগেশ পাতিল অষ্টিকর (হিঙ্গোলি), ওমরাজে নিম্বালকার (ধারাশিব), ভৌসাহেব ওয়াকচোর (শিরডি), সঞ্জয় যাদব (পারভানি) এবং সঞ্জয় উত্তমরাও দেশমুখ (ইয়াভাতমাল-ওয়াশিম)। এই দলবদলের ফলে একনাথ শিন্ডের শিবসেনার শক্তি লোকসভায় বহুগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। আগে শিন্ডে গোষ্ঠীর সাতজন লোকসভা সাংসদ থাকলেও, এখন তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৩ জনে।
শিন্ডের দাবি, এই লড়াই কেবল ক্ষমতার নয়, বরং বালাসাহেব ঠাকরের আদর্শকে রক্ষা করার। তাঁর মতে, উদ্ধব শিবিরের সাংসদরাই স্বতঃস্ফূর্তভাবে তাঁর আদর্শে বিশ্বাসী হয়ে যোগ দিয়েছেন। অন্যদিকে, উদ্ধব ঠাকরের জন্য এই পরিস্থিতি অত্যন্ত প্রতিকূল। দলের শীর্ষ নেতৃত্ব থেকে সাধারণ স্তরে কর্মীদের মনোবল এখন চাপের মুখে। সংসদের ভেতরে এবং বাইরে দুই জায়গাতেই শিবসেনা (ইউবিটি)-র কণ্ঠস্বর ক্রমশ ক্ষীণ হয়ে আসছে। শিন্ডের এই কৌশলী পদক্ষেপ যে ঠাকরে পরিবারের রাজনৈতিক আধিপত্যকে বড়সড় চ্যালেঞ্জের মুখে ঠেলে দিয়েছে, তা বলার অপেক্ষা রাখে না। এখন স্পিকারের সিদ্ধান্তের দিকে তাকিয়ে রাজনৈতিক মহল। যদি দপ্তর হাতছাড়া হয়, তবে উদ্ধব শিবিরের জন্য এটি হবে চরম অপমানের ও রাজনৈতিক একাকীত্বের এক নতুন অধ্যায়। শিন্ডে গোষ্ঠী তাদের এই জয়ের ধারা বজায় রেখে উদ্ধব ঠাকরের বাকি অবশিষ্ট প্রভাবটুকুও শেষ করে দিতে চায় কি না, সেটাই এখন দেখার বড় বিষয়।