কক্ষপথে বাজিমাত ভারতীয় ইঞ্জিনিয়ারদের! স্কাইরুট-এর বিক্রম-১ উৎক্ষেপণে নতুন যুগের সূচনা

ভারতের মহাকাশ গবেষণার ইতিহাসে আজ এক অবিস্মরণীয় দিন। প্রযুক্তির উৎকর্ষতা আর অদম্য জেদকে সম্বল করে হায়দ্রাবাদ-ভিত্তিক মহাকাশ প্রযুক্তি সংস্থা ‘স্কাইরুট অ্যারোস্পেস’ আজ এক নতুন মাইলফলক স্পর্শ করল। অন্ধ্রপ্রদেশের শ্রীহরিকোটার সতীশ ধাওয়ান মহাকাশ কেন্দ্র থেকে সাফল্যের সাথে উৎক্ষেপণ করা হলো ভারতের প্রথম বেসরকারি কক্ষপথীয় রকেট— ‘বিক্রম-১’। সম্পূর্ণ দেশীয় প্রযুক্তিতে ভারতীয় প্রকৌশলীদের হাতে গড়া এই রকেটটি আজ যখন মহাকাশের উদ্দেশ্যে পাড়ি দিল, তখন গোটা দেশের চোখ ছিল শ্রীহরিকোটার দিকে।
উৎক্ষেপণের এই যাত্রা অবশ্য মসৃণ ছিল না। নির্ধারিত সময়সূচী অনুযায়ী সকাল ১১:৩০ মিনিটে বিক্রম-১-এর উৎক্ষেপণ হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু শেষ মুহূর্তে প্রযুক্তিগত খুঁটিনাটি যাচাইয়ের স্বার্থে বিকেল ৫:০০টার আগে কাউন্টডাউন সাময়িকভাবে থামিয়ে দেওয়া হয়। তবে স্কাইরুট টিমের কঠোর পরিশ্রম ও ধৈর্যের কাছে হার মানে বাধা। নতুন করে কাউন্টডাউন শুরু হয় এবং ঠিক দুপুর ১২:০৫ মিনিটে আকাশ চিরে মহাকাশের দিকে রওনা দেয় বিক্রম-১।
এই ঐতিহাসিক সাফল্যের খবর পৌঁছাতেই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী স্কাইরুট অ্যারোস্পেস-এর দলকে ব্যক্তিগতভাবে ফোন করে অভিনন্দন জানান। কথোপকথনের এক পর্যায়ে স্কাইরুট টিমের সদস্যরা আবেগাপ্লুত কণ্ঠে প্রধানমন্ত্রীকে বলেন, “স্যার, আপনার ‘বন্দে মাতরম’ এখন মহাকাশে!” এই মন্তব্যে প্রধানমন্ত্রী আপ্লুত হয়ে সাড়া দেন, “হ্যাঁ, আমি পুরো উৎক্ষেপণটি দেখেছি।” প্রধানমন্ত্রী মোদী এই সাফল্যকে ভারতের তরুণ প্রজন্মের মেধা ও সংকল্পের জয় হিসেবে উল্লেখ করে পুরো দলের নিরলস পরিশ্রমের ভূয়সী প্রশংসা করেছেন।
স্কাইরুট-এর এই জয় কেবল একটি রকেট উৎক্ষেপণ নয়, বরং এটি ভারতের মহাকাশ শিল্পে বেসরকারি উদ্যোগের একটি নতুন ও সম্ভাবনাময় যুগের সূচনা। বিশ্ববাজারে ভারতের মহাকাশ প্রযুক্তির সক্ষমতাকে নতুন করে প্রতিষ্ঠিত করল এই বিক্রম-১। দেশের মহাকাশ বিজ্ঞানী এবং তরুণ স্টার্টআপ উদ্যোক্তাদের কাছে আজকের এই দিনটি এক উজ্জ্বল অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে।