পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে ফের নতুন করে যুদ্ধের দামামা বেজে উঠেছে। হরমুজ প্রণালীর কাছে ইরানের রাডার এবং আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে লক্ষ্য করে বড় ধরনের সামরিক হামলা চালিয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নিশ্চিত করেছেন যে, ইরানের ছোড়া ড্রোন হামলায় আমেরিকার একটি অ্যাপাচে হেলিকপ্টার ধ্বংস হওয়ার পরেই এই অপারেশন শুরু করা হয়। ট্রাম্পের দাবি, এটি কোনো উসকানিমূলক পদক্ষেপ নয়, বরং আত্মরক্ষামূলক ব্যবস্থা।
মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের (সেন্টকম) বিবৃতি অনুযায়ী, মার্কিন বাহিনীর এই বিশেষ সামরিক অভিযান আপাতত সম্পন্ন হয়েছে। হামলার লক্ষ্য ছিল ইরানের সামরিক সক্ষমতাকে দুর্বল করা। স্থানীয় সূত্র থেকে পাওয়া খবরে জানা গেছে, দক্ষিণ ইরানের বিভিন্ন প্রান্তে একাধিক ভয়াবহ বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। বিশেষ করে হরমুজগান প্রদেশের পূর্বাঞ্চল, বন্দর আব্বাস, সিরিক শহর এবং কেশম দ্বীপ এলাকা মার্কিন মিসাইল ও বিমান হামলার কবলে পড়েছে। সিরিক শহরের গুরুত্বপূর্ণ টেলিযোগাযোগ টাওয়ারগুলোও এই হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে খবর।
ঘটনার সূত্রপাত হয় যখন ইরানের বিপ্লবী গার্ডস বাহিনী বাহরিনে মোতায়েন মার্কিন পঞ্চম নৌবহরকে লক্ষ্য করে ড্রোন হামলা চালায়। ট্রাম্পের দাবি অনুযায়ী, ওই ড্রোন হামলায় মার্কিন বাহিনীর অ্যাপাচে হেলিকপ্টারটি ধ্বংস হয়। তবে সৌভাগ্যবশত, হেলিকপ্টারে থাকা দুই মার্কিন পাইলট অক্ষত রয়েছেন। এই ঘটনায় সরাসরি ইরানকে দায়ী করে মার্কিন প্রেসিডেন্ট হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যে, আমেরিকার কোনো সম্পদের ওপর হামলা বরদাস্ত করা হবে না।
এই উত্তপ্ত পরিস্থিতির প্রতিক্রিয়ায় ইরানের বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তিনি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, পারস্য উপসাগরে কোনো বিদেশি শক্তির টিকে থাকা অসম্ভব এবং তাদের ভাগ্য সবসময় খারাপ হয়। তিনি বিদেশি বাহিনীকে অবিলম্বে ওই এলাকা থেকে সরে যাওয়ার জন্য কড়া সতর্কতা জারি করেছেন। আরাঘচির মতে, ভুল বোঝাবুঝি বা বৃহত্তর যুদ্ধের ঝুঁকি এড়াতেই এই চরম পদক্ষেপ জরুরি।
এদিকে, দুই দেশের মধ্যে এই সংঘাতের জেরে আন্তর্জাতিক বাজারে অশোধিত তেলের দাম বাড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। বিশ্বজুড়ে এই মুহূর্তে পারস্য উপসাগরের পরিস্থিতি নিয়ে চরম উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। যদিও মার্কিন বাহিনী তাদের সামরিক অপারেশন শেষ হওয়ার কথা ঘোষণা করেছে, তবুও পরিস্থিতির ওপর কড়া নজর রাখছে হোয়াইট হাউস। একদিকে ট্রাম্পের কঠোর হুঙ্কার, অন্যদিকে ইরানের পালটা হুমকির জেরে মধ্যপ্রাচ্যে এখন চরম অস্থিরতা বিরাজ করছে। সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, দুই দেশের এই সংঘাত এবার কোন দিকে মোড় নেয়, সেটাই এখন দেখার বিষয়।





