ইরানকে বিশেষ প্রস্তাব ট্রাম্পের! আব্রাহাম অ্যাকর্ডসে সই করলেই বিশ্বজোটের অংশ?

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিতে এক বড় ধরনের চাঞ্চল্য তৈরি করেছেন। ইরানের সঙ্গে একটি সম্ভাব্য শান্তিচুক্তির শর্ত হিসেবে তিনি বিশ্বের সব দেশকে অবিলম্বে ‘আব্রাহাম অ্যাকর্ডস’-এ স্বাক্ষর করার আহ্বান জানিয়েছেন। ২০২০ সালে ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদে ইসরায়েল এবং কয়েকটি আরব রাষ্ট্রের মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্ক স্বাভাবিক করার লক্ষ্যে এই চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছিল।

সম্প্রতি ট্রুথ সোশ্যালে এক পোস্টে ট্রাম্প স্পষ্ট করেন, “আমি বাধ্যতামূলকভাবে অনুরোধ করছি যেন সব দেশ অবিলম্বে আব্রাহাম অ্যাকর্ডসে স্বাক্ষর করে। যদি ইরান আমার সঙ্গে বা যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট হিসেবে চুক্তিতে স্বাক্ষর করে, তবে তাদেরও এই অভূতপূর্ব বিশ্বজোটের অংশ হওয়াটা সম্মানের হবে।” সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার, তুরস্ক, মিশরসহ একাধিক দেশের রাষ্ট্রপ্রধানদের সঙ্গে ফোনালাপের পরই ট্রাম্প এই কঠোর অবস্থান নেন। বুধবার মন্ত্রিসভার বৈঠকেও তিনি উপসাগরীয় দেশগুলোকে ইসরায়েলের সাথে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার জন্য পুনরায় চাপ প্রয়োগ করেন।

তবে ট্রাম্পের এই আহ্বানে সাড়া পাওয়া দূরের কথা, পাকিস্তান সরাসরি তা প্রত্যাখ্যান করেছে। দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, পাকিস্তান এমন কোনো চুক্তিতে যোগ দেবে না যা তাদের “মৌলিক আদর্শের” সঙ্গে সাংঘর্ষিক। তিনি ইসরায়েলের ওপর অনাস্থা প্রকাশ করে সাফ বলেছেন, তাদের বিশ্বাস করা সম্ভব নয়।

ফিলিস্তিন ইস্যু এই চুক্তির পথে সবচেয়ে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। গাজায় ইসরায়েলি সামরিক অভিযানের ফলে বর্তমান পরিস্থিতি চরম আকার ধারণ করেছে। গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, যুদ্ধের শুরু থেকে সেখানে ৭২,৩০০ জনেরও বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন। ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের হামলার পর থেকে ইসরায়েলের এই অভিযান কূটনৈতিক সম্পর্ককে আরও জটিল করে তুলেছে। ফিলিস্তিনি প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাস এই পরিকল্পনাকে বরাবরই “শতাব্দীর চপেটাঘাত” বলে অভিহিত করে আসছেন। তাঁর মতে, জেরুজালেম বা ফিলিস্তিনিদের অধিকার কোনো দর-কষাকষির পণ্য নয়।

আব্রাহাম অ্যাকর্ডস ২০২০ সালে বাহরাইন, মরক্কো, সুদান এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের সঙ্গে ইসরায়েলের কূটনৈতিক সম্পর্কের দুয়ার খুলে দিয়েছিল। এরপর ২০২৫ সালে কাজাখস্তান এই জোটে যোগ দেয়। তৎকালীন ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু একে “শতাব্দীর সুযোগ” বলে আখ্যায়িত করলেও ফিলিস্তিনি নেতৃত্ব একে ষড়যন্ত হিসেবেই দেখেছে। ট্রাম্পের বর্তমান উদ্যোগ সফল হবে কি না, তা নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে ঘোর সংশয় দেখা দিয়েছে। একদিকে যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজা, অন্যদিকে ইরানের মতো শক্তিশালী দেশের সঙ্গে সমঝোতার চ্যালেঞ্জ—সব মিলিয়ে মধ্যপ্রাচ্য এখন এক চরম সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy