ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র নয়: ট্রাম্পের সঙ্গে চুক্তির গুঞ্জনের মাঝেই হুঙ্কার নেতানিয়াহুর

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ইরানকে ঘিরে তৈরি হওয়া সম্ভাব্য পারমাণবিক চুক্তি নিয়ে বিশ্ব রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ তৈরি হয়েছে। এই চুক্তির আবহে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এক কঠোর বার্তা দিয়ে জানিয়েছেন, তাঁর শাসনামলে ইরান কোনোভাবেই পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করতে পারবে না।

নেতানিয়াহুর স্পষ্ট বার্তা: প্রধানমন্ত্রী কার্যালয় থেকে জারি করা এক বিবৃতিতে নেতানিয়াহু বলেন, “যতদিন আমি ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী থাকব, ততদিন ইরানের হাতে পারমাণবিক অস্ত্র পৌঁছাবে না।” তিনি আরও জানান, এই বিষয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সঙ্গে তাঁর পূর্ণ সম্মতি রয়েছে। দীর্ঘ তিন দশক ধরে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির বিরুদ্ধে তিনি যে আন্তর্জাতিক লড়াই চালিয়ে আসছেন, তা অব্যাহত থাকবে বলেও দৃঢ়প্রতিজ্ঞ নেতানিয়াহু। তাঁর দাবি, এই লড়াই না থাকলে ইরান অনেক আগেই ইসরায়েলকে ধ্বংসের জন্য পারমাণবিক বোমা তৈরি করে ফেলত।

ইরানের অবস্থান: চুক্তির সম্ভাবনার পাশাপাশি তেহরানও তাদের কঠোর শর্তগুলো স্পষ্ট করে দিয়েছে। ইরানের সংবাদ সংস্থা ‘ইরনা’ সূত্রে খবর, ওয়াশিংটন ও তেহরান আগামী ৬০ দিন তিনটি জটিল বিষয়ে আলোচনা করবে: শান্তিপূর্ণ পারমাণবিক কর্মসূচির ভবিষ্যৎ, নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং ক্ষতিপূরণ ব্যবস্থা। ইরান স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, তাদের জব্দকৃত তহবিলের অর্ধেক মুক্তি না হওয়া এবং তেলের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা পুরোপুরি না সরানো পর্যন্ত চূড়ান্ত কোনো চুক্তিতে পৌঁছানো অসম্ভব।

লেবানন পরিস্থিতি ও যুদ্ধের ছায়া: চুক্তির খসড়ায় লেবাননে ইসরায়েলি হামলা বন্ধের প্রতিশ্রুতি দিলেও বাস্তব চিত্র ভিন্ন। সমঝোতার আলোচনার মাঝেই দক্ষিণ লেবাননের তিনটি গ্রামের বাসিন্দাদের এলাকা খালি করার নির্দেশ দিয়েছে ইসরায়েলি বাহিনী। বিশেষ করে সারাফান্দ, তুফাহা ও মাজরাতের মতো অঞ্চলে বাসিন্দাদের বাস্তুচ্যুত করার নতুন সতর্কতা নতুন করে উত্তেজনার জন্ম দিয়েছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে চুক্তির সম্ভাবনা তৈরি হলেও, মধ্যপ্রাচ্যের এই জটিল যুদ্ধ পরিস্থিতি এবং ইসরায়েলের আগ্রাসী মনোভাব কি শেষ পর্যন্ত এই শান্তি প্রক্রিয়াকে সফল করবে? এখন সেটাই বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy