পশ্চিমবঙ্গে রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের রেশ এবার সরাসরি আছড়ে পড়ল টলিউডের অন্দরে। ইস্টার্ন ইন্ডিয়া মোশন পিকচার্স অ্যাসোসিয়েশন বা ইম্পা (EIMPA) এখন কার্যত রণক্ষেত্র। দীর্ঘদিনের চেয়ারপার্সন পিয়া সেনগুপ্তর পদত্যাগ এবং সংস্থাকে ‘রাজনৈতিক রংমুক্ত’ করার দাবিতে গত তিন দিন ধরে নজিরবিহীন বিক্ষোভ চালাচ্ছেন প্রযোজক ও পরিবেশকদের একাংশ। পরিস্থিতি এতটাই ঘোরালো যে, বুধবার ইম্পা অফিসে পুলিশ তো বটেই, নামাতে হয়েছে কেন্দ্রীয় বাহিনীও। জারি করা হয়েছে ১৪৪ ধারা।
ঘটনার সূত্রপাত সরকার বদলের দিন থেকেই। সেদিন একদল প্রযোজক ও পরিবেশক ইম্পা অফিসে হাজির হয়ে পিয়া সেনগুপ্তর পদত্যাগ দাবি করেন। তাঁদের অভিযোগ, বিগত কয়েক বছর ধরে ইম্পাকে একটি বিশেষ রাজনৈতিক দলের আখড়া বানিয়ে ফেলা হয়েছিল। ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ হিসেবে তাঁরা ইম্পার প্রতিটি ঘরে গঙ্গাজল ছিটিয়ে ‘শুদ্ধিকরণ’ করেন এবং গেরুয়া আবির খেলে বিজয়োল্লাস করেন। এরপর গত ৫ মে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়। পিয়া সেনগুপ্তর সঙ্গে আলোচনায় বসতে চাইলেও তিনি সাধারণ সদস্যদের সঙ্গে কথা বলতে অস্বীকার করেন। এর ফলে দু’পক্ষের মধ্যে তীব্র কথা কাটাকাটি শুরু হয়।
বিক্ষুব্ধ প্রযোজক-পরিবেশকরা তড়িঘড়ি বৌবাজার থানায় পিয়া সেনগুপ্তর বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করেন। তাঁদের আশঙ্কা, পিয়া সেনগুপ্ত যে কোনও সময় অফিসের গুরুত্বপূর্ণ নথি ও ফাইল রাতারাতি সরিয়ে ফেলতে পারেন। প্রশাসনের কাছে তাঁদের স্পষ্ট দাবি ছিল—তদন্ত চলাকালীন ইম্পা অফিস সিল করে দেওয়া হোক। অন্যদিকে, পালটা জিডি করেন পিয়া সেনগুপ্তও। সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি বলেন, “আমি ইম্পা অফিসে নিজেকে নিরাপদ বোধ করছি না।” তাঁর পুত্র অভিনেতা বনি সেনগুপ্ত জানান, তাঁর মায়ের ওপর আক্রমণাত্মক আচরণ করা হয়েছে বলেই আইনি সাহায্য নিতে হয়েছে।
বুধবার উত্তেজনার পারদ চরমে উঠলে পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনী এলাকা ঘিরে ফেলে। গুঞ্জন ছড়ায় যে বেশ কয়েকজন বিক্ষোভকারীকে গ্রেফতার করা হতে পারে। তবে শেষ পর্যন্ত কাউকেই গ্রেফতার করা হয়নি। এরই মাঝে ইম্পার তরফে ঋতব্রত ভট্টাচার্য একটি বড় ঘোষণা করেন। তিনি জানান, “এরপর থেকে প্রযোজকরা নিজেদের পছন্দমতো টেকনিশিয়ান বা ক্যামেরাম্যান নিয়ে কাজ করতে পারবেন। ইম্পা কোনও হস্তক্ষেপ করবে না।” যা টলিপাড়ার দীর্ঘদিনের ‘ব্যান কালচার’ ও ‘থ্রেট কালচার’ বন্ধ হওয়ার ইঙ্গিত দিচ্ছে।
পরিবেশক শতদীপ সাহা সাফ জানিয়েছেন, আগামী ৮ মে উভয় পক্ষ বৈঠকে বসবে। তবে তাঁদের মূল দাবি একটাই—পিয়া সেনগুপ্তর পদত্যাগ এবং গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে নতুন, অরাজনৈতিক কমিটি গঠন। টলিউডের এই অস্থিরতা শেষ পর্যন্ত কোন দিকে মোড় নেয়, এখন সেদিকেই তাকিয়ে গোটা ইন্ডাস্ট্রি।





