ইমামের ৩ জনের নৃশংস খুন! ৬ ঘণ্টার মধ্যে পর্দাফাঁস, খুনি পেশাদার নয়, প্রতিশোধ নিতে ঘটিয়েছে ‘ভয়ংকর’ কাণ্ড

ইমামের স্ত্রী ও ২ মেয়েকে নৃশংসভাবে খুন করল দুই নাবালক ছাত্র! ৬ ঘণ্টার মধ্যে ভয়ঙ্কর হত্যাকাণ্ডের পর্দাফাঁস, প্রতিশোধ নিতেই চরম কাণ্ড

বাগপথ: (DailyHunt বাংলা)

উত্তরপ্রদেশের বাগপথ জেলার একটি মসজিদের ভেতরে তিনজনের নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় পুলিশ মাত্র ছয় ঘণ্টার মধ্যে পর্দাফাঁস করেছে। পুলিশি তদন্তে সামনে এসেছে যে, এই ভয়াবহ কাজটি কোনো পেশাদার অপরাধী নয়, বরং মসজিদের মৌলবীর (ইমাম) দু’জন নাবালক ছাত্র ঘটিয়েছে।

মৌলবীর মারের প্রতিশোধ নিতেই ওই দুই নাবালক তাঁর স্ত্রী এবং দুই নিষ্পাপ কন্যাকে নির্মমভাবে খুন করেছে। পুলিশ দুই অভিযুক্তকে আটক করেছে এবং আইনানুগ ব্যবস্থা শুরু করেছে।

প্রতিশোধের আগুনে নৃশংস খুন
এই মর্মান্তিক ঘটনাটি বাগপথ জেলার দোঘট থানা এলাকার গাঁগনৌলি গ্রামের। গত শনিবার মসজিদের ভেতরে ইমামের স্ত্রী এবং তাঁর দুই মেয়ের মৃতদেহ উদ্ধার হওয়ায় গোটা এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্য ছড়ায়। নিহতরা হলেন ইসরানা (৩০ বছর), তাঁর মেয়ে সোফিয়া (৫) এবং কনিষ্ঠ কন্যা সুমাইয়া (২)। ঘটনার সময় ইমাম ইব্রাহিম সাহারানপুর জেলার দেওবন্দ-এ গিয়েছিলেন।

জেরার মুখে দুই নাবালকই তাদের অপরাধ স্বীকার করেছে। তারা জানিয়েছে, কিছুদিন আগে এবং শনিবার সকালেও পড়াশোনার সময় ভুল করায় ইমাম ইব্রাহিম তাদের বকাবকি ও মারধর করেছিলেন। সেই ক্ষোভ থেকেই তারা ইমামের ওপর প্রতিশোধ নেওয়ার পরিকল্পনা করে।

সুযোগ বুঝে ‘প্ল্যানিং’
ইমাম সাহেব দেওবন্দ যাওয়ায় শনিবার দুপুরে তাঁর পরিবার বাড়িতে ঘুমাচ্ছিল। সেই সময় মসজিদে অন্য কেউ ছিল না। এই সুযোগকে কাজে লাগিয়েই ওই নাবালক ছাত্ররা ইমামের স্ত্রী ও দুই মেয়েকে প্রথমে হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে এবং পরে ছুরি মেরে হত্যা করে।

পুলিশ অভিযুক্তদের দেখানো জায়গা থেকে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত হাতুড়ি ও ছুরি উদ্ধার করেছে। কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, পুরো অপরাধটি অত্যন্ত সুপরিকল্পিতভাবে করা হয়েছিল। কিন্তু প্রযুক্তিগত নজরদারি এবং পুলিশের টিমওয়ার্কের কারণে মাত্র ছয় ঘণ্টার মধ্যেই পুলিশ এই হত্যাকাণ্ডের কিনারা করতে সক্ষম হয়।

এসপি সুরাজ কুমার রায় জানিয়েছেন, দু’জন অভিযুক্তই নাবালক এবং তাদের হেফাজতে নিয়ে দোঘট থানায় নিহতের পরিবারের লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে আইনি প্রক্রিয়া শুরু করা হয়েছে।