ইভিএম থেকে বন্যপ্রাণীর দেহাংশ— আলিপুর অগ্নিকাণ্ডে নষ্ট গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ, কি বলছে সিট?

আলিপুরের জেলা পরিষদ ভবনে ঘটে যাওয়া ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনার তদন্তে দানা বাঁধছে রহস্য। সরকারি এই গুরুত্বপূর্ণ ভবনে আগুন লাগার কারণ খতিয়ে দেখতে লালবাজারের তরফে বিশেষ তদন্তকারী দল (সিট) গঠন করা হয়েছে। আগুনের উৎসস্থল, বিস্তারের কারণ এবং এর পেছনে কোনো নাশকতার যোগসূত্র রয়েছে কি না, তা নিয়ে ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে জোরদার তল্লাশি। ফরেনসিক বিশেষজ্ঞদের একটি দল শুক্রবার ফের ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে নমুনা সংগ্রহ করেছে। উল্লেখ্য, বুধবার অত্যধিক তাপমাত্রার কারণে তারা ভেতরে প্রবেশ করতে পারেননি, যা আগুনের ভয়াবহতারই ইঙ্গিতবাহী।

এই অগ্নিকাণ্ডের ফলে যে পরিমাণ সরকারি সম্পদ ও গুরুত্বপূর্ণ নথি নষ্ট হয়েছে, তাতে প্রশাসনিক মহলে প্রবল উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। প্রাথমিক তদন্তে জানা গিয়েছে, ভবনের যে অংশে অগ্নিকাণ্ড ঘটেছে, সেখানে দক্ষিণ ২৪ পরগনার প্রায় ৪০০০ ইভিএম (ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন) এবং ভিভিপ্যাট সংরক্ষিত ছিল। দমকল প্রতিমন্ত্রী কৌশিক চৌধুরীর দাবি অনুযায়ী, আগুনের লেলিহান শিখায় এই ভোটযন্ত্রগুলির একটি বড় অংশ সম্পূর্ণ ভস্মীভূত হয়ে গিয়েছে। ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনা করে শুক্রবার মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের দফতরের অতিরিক্ত মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক অরিন্দম নিয়োগী ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতির পর্যালোচনা করেন। নির্বাচন কমিশনও এই ঘটনায় বিস্তারিত রিপোর্ট তলব করেছে।

তবে শুধু ইভিএমই নয়, এই অগ্নিকাণ্ডে বন দফতরের হেফাজতে থাকা একাধিক চাঞ্চল্যকর তথ্য ও প্রমাণ লোপাট হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। চোরাশিকারিদের কাছ থেকে উদ্ধার করা বিভিন্ন বন্যপ্রাণীর দেহাংশ এবং বহু গুরুত্বপূর্ণ মামলার নথি ওই ভবনেই সংরক্ষিত ছিল, যা আগুনের তাপে ভস্মীভূত হয়েছে। এর ফলে বিচারাধীন একাধিক গুরুত্বপূর্ণ মামলার ভবিষ্যৎ এখন প্রশ্নের মুখে।

তদন্তকারীরা এখন শর্ট সার্কিট থেকে আগুন লেগেছে, নাকি এর পেছনে অন্য কোনো অন্তর্ঘাত রয়েছে— তা খতিয়ে দেখছেন। দীর্ঘ সময় ধরে দমকলের একাধিক ইঞ্জিন অক্লান্ত পরিশ্রমের পর আগুন নিয়ন্ত্রণে আনলেও, ভবনের কাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ বিশাল। বুধবার ও শুক্রবার দফায় দফায় ফরেনসিক তদন্ত এবং পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে উঠে আসছে একের পর এক নতুন তথ্য।

এই অগ্নিকাণ্ড কি স্রেফ একটি দুর্ভাগ্যজনক দুর্ঘটনা, নাকি কোনো নির্দিষ্ট নথিপত্র বা প্রমাণ ধ্বংস করার জন্যই পরিকল্পিতভাবে এই নাশকতা চালানো হয়েছে? সেই প্রশ্নই এখন রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলে ঘুরপাক খাচ্ছে। ফরেনসিক বিশেষজ্ঞদের রিপোর্ট এবং সিট-এর তদন্ত শেষ হলেই প্রকৃত সত্য উদঘাটন হবে বলে আশা করা হচ্ছে। ততদিন পর্যন্ত আলিপুরের এই অগ্নিকাণ্ডকে ঘিরে ধোঁয়াশা ও সন্দেহের বাতাবরণ কাটছে না।