নির্বাচনী প্রচারের সময় দেওয়া বিতর্কিত মন্তব্যের জেরে দায়ের হওয়া এক মামলায় মঙ্গলবার ভবানী ভবনে সিআইডির জিজ্ঞাসাবাদের মুখোমুখি হলেন তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। সকাল সাড়ে ১১টা নাগাদ কালীঘাটের বাসভবন থেকে রওনা হয়ে নির্ধারিত সময়ের আগেই ভবানী ভবনে পৌঁছান তিনি। সিআইডির সদর দফতরে হাজিরা খাতায় সই করে সরাসরি তদন্তকারী আধিকারিকদের কক্ষে প্রবেশ করেন সাংসদ।
সূত্রের খবর, বিধানসভা ভোটের প্রচার চলাকালীন ডিজে বাজানো সংক্রান্ত একটি মন্তব্য করেছিলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। সেই মন্তব্যকে কেন্দ্র করেই পরবর্তীকালে অভিযোগ দায়ের হয়। সেই অভিযোগের ভিত্তিতেই তদন্তের জন্য তলব করা হয়েছে তাঁকে। এর আগে সিআইডি আধিকারিকরা তাঁর কালীঘাটের বাড়িতে গিয়ে নোটিশ দিয়ে এসেছিলেন। সেই নোটিশ মেনেই মঙ্গলবার ভবানী ভবনে হাজিরা দিলেন তৃণমূলের এই শীর্ষনেতা।
তৃণমূল সাংসদকে তলব করার এই ঘটনাটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ, কারণ তার ঠিক আগের দিন অর্থাৎ সোমবারই তাঁকে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি) তলব করেছিল। নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় সিজিও কমপ্লেক্সে দীর্ঘ ১১ ঘণ্টা ধরে ইডি তাঁকে জেরা করে। এক দিন ব্যবধানে কেন্দ্রীয় সংস্থার জেরার পরদিন মঙ্গলবারই রাজ্য পুলিশের সিআইডির মুখোমুখি হতে হওয়ায় রাজনৈতিক মহলে নতুন করে শোরগোল পড়েছে। একদিকে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা, অন্যদিকে রাজ্য পুলিশের তদন্ত—দুই সংস্থার মুখোমুখি হয়ে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই ধারাবাহিক হাজিরা রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলে ব্যাপক জল্পনার সৃষ্টি করেছে।
উল্লেখ্য, এর আগে গত ১১ ও ১৪ জুন বিধানসভায় সই-জাল কাণ্ডেও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে ভবানী ভবনে তলব করা হয়েছিল। ওই দুই দিনই সিআইডি আধিকারিকরা তাঁকে দীর্ঘ সময় ধরে জিজ্ঞাসাবাদ করেছিলেন। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, গত কয়েক সপ্তাহে একের পর এক মামলায় অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নাম জড়িয়ে পড়ায় তিনি কার্যত তদন্তকারী সংস্থাগুলোর নজরে রয়েছেন। যদিও মঙ্গলবার ভবানী ভবনে পৌঁছানোর পর সংবাদমাধ্যমের কোনো প্রশ্নের উত্তর দেননি অভিষেক। সরাসরি তদন্তকারীদের মুখোমুখি হন তিনি।
এ দিনের জেরায় তদন্তকারীরা মূলত কী কী প্রশ্নের উত্তর জানতে চেয়েছেন এবং জিজ্ঞাসাবাদের শেষে কী তথ্য উঠে আসে, তা নিয়ে রাজ্য রাজনীতিতে কৌতূহল তুঙ্গে। একদিকে নিয়োগ দুর্নীতির তদন্তে ইডির চাপ, অন্যদিকে ডিজে বিতর্ক নিয়ে সিআইডির সক্রিয়তা—সব মিলিয়ে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ওপর রাজনৈতিক চাপ যে ক্রমশ বাড়ছে, তা স্পষ্ট। তদন্ত কোন দিকে মোড় নেয় এবং এই জিজ্ঞাসাবাদের পর পরবর্তী পদক্ষেপ কী হয়, সেদিকেই এখন নজর রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের।





