ইঞ্জিনিয়ারের ২৮ পাতার সুইসাইড নোটে নাম! Ola CEO-সহ আধিকারিকদের হয়রানি না করার নির্দেশ কর্ণাটক হাইকোর্টের

বেঙ্গালুরুতে ওলা ইলেকট্রিক (Ola Electric)-এর এক ইঞ্জিনিয়ারের আত্মহত্যার ঘটনা ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়াল। মৃত কর্মীর সুইসাইড নোটে মানসিক হয়রানি ও আর্থিক শোষণ-এর অভিযোগ ওঠায় সংস্থার সিইও ভাবিশ আগরওয়াল এবং অন্যান্য উচ্চপদস্থ আধিকারিকদের বিরুদ্ধে FIR দায়ের করা হয়েছে। তবে, মামলার তদন্ত চলাকালীন কর্ণাটক হাইকোর্ট পুলিশকে ভাবিশ আগরওয়াল-সহ অভিযুক্তদের হয়রানি না করার নির্দেশ দিয়েছে।২৮ পাতার নোটে গুরুতর অভিযোগ: কী ঘটেছিল?গত মাসে বেঙ্গালুরুর কোরামঙ্গলায় ওলা ইলেকট্রিক-এ কর্মরত কে অরবিন্দ (৩৮) নামে এক হোমোলোগেশন ইঞ্জিনিয়ার বিষ খেয়ে আত্মহত্যা করেন বলে অভিযোগ। মৃত্যুর পর তাঁর বাড়ি থেকে ২৮ পাতার একটি হাতে লেখা সুইসাইড নোট উদ্ধার হয়।অরবিন্দের ভাই অশ্বিন কান্নান পুলিশকে জানান, ওই নোটে তাঁর ভাই সরাসরি সিইও ভাবিশ আগরওয়াল এবং হোমোলোগেশন অ্যান্ড রেগুলেশন বিভাগের প্রধান সুব্রত কুমার দাস-এর বিরুদ্ধে মানসিক নির্যাতন, অতিরিক্ত কাজের চাপ এবং বেতন ও অন্যান্য পাওনা টাকা আটকে রাখার অভিযোগ আনেন।মৃত্যুর পর সন্দেহজনক আর্থিক লেনদেনঅরবিন্দের পরিবার আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য তুলে ধরেছে। তাদের দাবি, মৃত্যুর দু’দিন পর অর্থাৎ ৩০ সেপ্টেম্বর সংস্থার তরফ থেকে অরবিন্দের অ্যাকাউন্টে $\text{Rs 17,46,313}$ টাকা জমা করা হয়। পরিবারের অভিযোগ, এই লেনদেনটি ‘আর্থিক অসঙ্গতি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা’র ইঙ্গিত দেয় এবং সন্দেহ আরও বাড়িয়ে তোলে।FIR দায়ের ও হাইকোর্টের হস্তক্ষেপঅরবিন্দের ভাইয়ের অভিযোগের ভিত্তিতে গত ৬ অক্টোবর বেঙ্গালুরুর সুব্রমণ্যাপুরা পুলিশ স্টেশন ভাবিশ আগরওয়াল-সহ অন্যান্য অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আত্মহত্যায় প্ররোচনা দেওয়ার অভিযোগে মামলা (FIR) রুজু করে।অন্যদিকে, এফআইআর বাতিলের আবেদন জানিয়ে ওলা ইলেকট্রিক এবং অভিযুক্তরা কর্ণাটক হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন। হাইকোর্ট এই আবেদন শুনে অন্তর্বর্তীকালীন নির্দেশ জারি করে সুব্রমণ্যাপুরা পুলিশকে নির্দেশ দেয় যে, তদন্ত চলাকালীন ওলা প্রতিষ্ঠাতা ভাবিশ আগরওয়াল এবং সুব্রত কুমার দাসকে যেন হয়রানি না করা হয়। আদালত রাজ্য সরকার ও অভিযোগকারীকে নোটিশ জারি করারও নির্দেশ দিয়েছে।ওলা-র বক্তব্য: ‘কখনোই অভিযোগ করেননি’এই বিষয়ে ওলা ইলেকট্রিক তাদের বিবৃতিতে জানিয়েছে, মৃত কর্মী তাঁর চাকরির সময়কালে কখনোই হয়রানি বা অন্য কোনো অভিযোগ জানাননি।সংস্থার মুখপাত্র বলেন, “আমরা আমাদের সহকর্মী অরবিন্দের দুর্ভাগ্যজনক প্রয়াণে গভীরভাবে শোকাহত এবং এই কঠিন সময়ে তাঁর পরিবারের প্রতি আমাদের সমবেদনা রয়েছে।”বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, “তাঁর কাজের প্রকৃতি এমন ছিল না যে তাঁকে প্রবর্তক-সহ কোম্পানির শীর্ষ ব্যবস্থাপনার সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ রাখতে হতো।” ওলা জানায়, পরিবারকে ‘তাৎক্ষণিক সহায়তা’ প্রদানের জন্য তারা অরবিন্দের সব পাওনা দ্রুত মিটিয়ে দিয়েছে।