ইউরোপের আকাশ জুড়ে রুশ ড্রোন রহস্য.’মিউনিখে ১৭টি বিমান বাতিল, ডেনমার্কের প্রধানমন্ত্রীর নিশানায় রাশিয়া, নড়েচড়ে বসল ন্যাটো

বৃহস্পতিবার গভীর রাতে ড্রোন হানার জেরে জার্মানির মিউনিখ বিমানবন্দরে পরিষেবা সাময়িকভাবে বন্ধ করে দিতে বাধ্য হওয়ায় ইউরোপীয় বিমান পরিবহন কেন্দ্রে ফের একবার বড়সড় ধাক্কা লাগল। এই ঘটনার জেরে প্রায় ৩,০০০ যাত্রী ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন, ১৭টি বিমান বাতিল হয়েছে এবং ১৫টি বিমান অন্য বিমানবন্দরে ঘুরিয়ে দেওয়া হয়েছে।

রাত ১০টার কিছু পরে এয়ারস্পেসের কাছে ড্রোন দেখা যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ উড়ান পরিষেবা বন্ধ করে দেয়। বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ এক বিবৃতিতে জানায়, “যখনই একটি ড্রোন দেখা যায়, যাত্রীদের নিরাপত্তাই সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার পায়।” এর ফলে মিউনিখ থেকে বিমান চলাচল সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয় এবং উড়ানগুলিকে স্টুটগার্ট, নুরেমবার্গ, ভিয়েনা এবং ফ্রাঙ্কফুর্টে ঘুরিয়ে দেওয়া হয়।

ইউরোপ জুড়ে রহস্যময় ড্রোন আতঙ্ক:

এই ঘটনাটি এমন সময়ে ঘটল যখন কয়েক দিন আগেই ডেনমার্ক এবং নরওয়েতে একই ধরনের ড্রোন দেখার কারণে বিমানবন্দর সাময়িকভাবে বন্ধ করতে হয়েছিল। যদিও ডেনমার্ক প্রকাশ্যে এই হানার জন্য কাউকে দায়ী করেনি, তবে দেশটির প্রধানমন্ত্রী মেটে ফ্রেডেরিকসেন স্পষ্ট করে বলেছেন, “আমরা অন্তত এই সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে পারি যে ইউরোপের নিরাপত্তার জন্য প্রধানত একটি দেশ হুমকি সৃষ্টি করছে—আর তা হল রাশিয়া।”

এই অভিযোগের পর, ইইউ নেতারা সন্দেহভাজন রুশ ড্রোন কার্যকলাপ মোকাবিলায় বিমান প্রতিরক্ষা সহযোগিতা জোরদার করতে সম্মত হয়েছেন। ন্যাটোর সদস্য পোল্যান্ড ও রোমানিয়াও তাদের আকাশসীমা লঙ্ঘনের খবর দিয়েছে, অন্যদিকে এস্তোনিয়া রাশিয়ার বিরুদ্ধে যুদ্ধবিমান দিয়ে তাদের আকাশসীমা লঙ্ঘনের অভিযোগ এনেছে।

উল্লেখ্য, লুফথানসার একটি প্রধান কেন্দ্র এই মিউনিখ বিমানবন্দর, যা চলতি বছরের প্রথমার্ধে প্রায় ২ কোটি যাত্রী সামলেছে। সম্প্রতি, মিউনিখে অক্টোবরফেস্ট চলাকালীন বোমা হুমকির পর তা সাময়িকভাবে বন্ধ ছিল এবং শহরের একটি আবাসিক ভবনে বিস্ফোরক উদ্ধারের পর এই সপ্তাহে সেখানে নিরাপত্তা আরও বাড়ানো হয়েছে।

এদিকে, ইউরোপীয় দেশগুলির অভিযোগের জবাবে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন বৃহস্পতিবার রসিকতা করে বলেছেন যে, তিনি “আর ডেনমার্কের ওপর দিয়ে ড্রোন ওড়াবেন না।” তবে মস্কো এই ড্রোন ঘটনাগুলিতে জড়িত থাকার বিষয়টি অস্বীকার করেছে।