ইউনানে ভারতীয় সুরের মূর্ছনা! চীন-দক্ষিণ এশিয়া ফোরামে নজর কাড়ল ভারতীয় প্রতিনিধিদল

চীনের ইউনান প্রদেশে অনুষ্ঠিত সপ্তম ‘চীন-দক্ষিণ এশিয়া সহযোগিতা ফোরাম’-এ ভারতীয় সংস্কৃতির এক উজ্জ্বল প্রতিচ্ছবি ফুটে উঠল। অর্কো মুখার্জীর নেতৃত্বে ১০ সদস্যের এক তরুণ ভারতীয় শিল্পী ও সাংবাদিক দল এই আন্তর্জাতিক মঞ্চে দেশের প্রতিনিধিত্ব করে ভারত ও চীনের মধ্যে বন্ধুত্বের সেতুবন্ধন তৈরি করল।
ফোরামের বিশেষত্ব ১৬টি দেশের ঊর্ধ্বতন প্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে কুনমিং-এর হাইকাং কনফারেন্স হলে আয়োজিত এই ফোরাম এক অনন্য অভিজ্ঞতার সাক্ষী থাকল। অনুষ্ঠানের শুরুতেই এক অত্যাধুনিক রোবট প্রতিনিধিদলের সদস্যদের সঙ্গে করমর্দন করে তাঁদের স্বাগত জানায়, যা প্রযুক্তি ও সংস্কৃতির এক মেলবন্ধন তৈরি করে। ভারত ছাড়াও বাংলাদেশ, নেপাল, পাকিস্তান ও আফগানিস্তানসহ দক্ষিণ এশিয়ার বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিরা এই গুরুত্বপূর্ণ আলোচনায় অংশ নেন।
শিল্পের ভাষায় ভারত-চীন বন্ধুত্ব সঙ্গীতশিল্পী অর্কো মুখার্জীর নেতৃত্বে পূর্ব ও উত্তর-পূর্ব ভারতের প্রতিভাবান শিল্পীদের এই দলটি শিল্পের মাধ্যমে সম্পর্কের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে। প্রতিনিধিদলের পারফরম্যান্সে ছিল বৈচিত্র্যের ছোঁয়া:
নৃত্যকলা: নিলয় সেনগুপ্ত, অনুস্মিতা ভট্টাচার্য এবং ওডিসি নৃত্যশিল্পী সাগরিকা মোহান্তি তাঁদের পরিবেশনার মাধ্যমে দর্শকদের মুগ্ধ করেছেন।
সঙ্গীত ও সাহিত্য: কবি-গায়ক ফুলোরা মুখোপাধ্যায় এবং মণিপুরি গায়ক তঞ্জামং কিপগেনের পরিবেশনা ছিল অনুষ্ঠানের অন্যতম আকর্ষণ।
শিল্পকর্ম: চিত্রশিল্পী যুগল সরকার তুলির টানে ফুটিয়ে তুলেছেন ভারতের ঐতিহ্য।
সাংস্কৃতিক সফর কেবল কনফারেন্স হল নয়, দলটি কুনমিং থেকে শুরু করে প্রত্যন্ত আনি মো গ্রাম পর্যন্ত তাঁদের শিল্পকলা প্রদর্শন করেছে। সাংবাদিক রবি শঙ্কর দত্ত, অর্কময় দত্ত মজুমদার এবং অন্যান্যদের উপস্থিতিতে এই সফর কেবল একটি কূটনৈতিক কর্মসূচি ছিল না, বরং তা ছিল দুই দেশের সাধারণ মানুষের হৃদয়ের কাছাকাছি পৌঁছানোর এক প্রচেষ্টা।
এই সফর ভারত-চীন কূটনৈতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে এক ইতিবাচক বার্তা বয়ে আনল বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষকরা। সংস্কৃতির এই আদান-প্রদান আগামী দিনে দক্ষিণ এশীয় দেশগুলোর মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতার ক্ষেত্রকে আরও প্রসারিত করবে।