ইউক্রেনের ড্রোন হামলায় অস্থির রাশিয়া: পুতিনের ওপর বাড়ছে রাজনৈতিক চাপ, সংকটে শাসক দল

রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের দীর্ঘস্থায়ী প্রভাব এখন সরাসরি রাশিয়ার অভ্যন্তরে দৃশ্যমান। ইউক্রেনের ক্রমবর্ধমান ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা রাশিয়ার বিভিন্ন বড় শহরকে নিশানা করায় সাধারণ রুশ নাগরিকদের নিরাপত্তা ও দৈনন্দিন জীবনে গুরুতর সংকট তৈরি হয়েছে। এই পরিস্থিতির মধ্যেই সেপ্টেম্বর মাসে রাশিয়ায় সংসদীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে চলেছে, যা প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ও তাঁর সরকার তথা শাসক দল ‘ইউনাইটেড রাশিয়া’র জন্য এক বড় অগ্নিপরীক্ষা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
ড্রোন হামলার জেরে নাজেহাল জনজীবন সম্প্রতি ইউক্রেনের দূরপাল্লার ড্রোন হামলা রাশিয়ার রাজধানী মস্কো এবং সেন্ট পিটার্সবার্গের মতো প্রধান শহরগুলিতেও আতঙ্ক ছড়িয়েছে। এর ফলে জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থার বিঘ্ন ঘটা, ইন্টারনেট পরিষেবা বিচ্ছিন্ন হওয়া এবং বিদ্যুৎ বিভ্রাটের মতো সমস্যা প্রবল আকার ধারণ করেছে। প্রেসিডেন্ট পুতিন নিজেও জনসমক্ষে স্বীকার করেছেন যে, দেশটি বর্তমানে এক ‘কঠিন সময়ের’ মধ্য দিয়ে যাচ্ছে।
রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ ও জনরোষ নির্বাচনের মুখে দাঁড়িয়ে ক্রেমলিনের জন্য বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে শাসক দল ‘ইউনাইটেড রাশিয়া’-র জনসমর্থন কমে যাওয়া। জরিপ সংস্থাগুলির সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, দলের জনপ্রিয়তার হার প্রায় ৩০ শতাংশের কাছাকাছি নেমে এসেছে। জনরোষ সরাসরি পুতিনের দিকে না থাকলেও, ক্ষমতাসীন দলের প্রতি সাধারণ মানুষের আস্থা কমছে। এমনকি ক্রেমলিন-সমর্থিত জরিপ অনুযায়ী, প্রেসিডেন্ট পুতিনের ওপর জনগণের আস্থা ২০২২ সালে যুদ্ধ শুরুর পর সর্বনিম্ন পর্যায়ে (প্রায় ৬৭-৬৯ শতাংশ) নেমে এসেছে।
কৌশলী অবস্থান পুতিনের এই অভ্যন্তরীণ অস্থিরতা সত্ত্বেও পুতিন নিজের রণকৌশলে অটল। ইউক্রেনের পক্ষ থেকে বারবার সীমিত যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব দেওয়া হলেও, ক্রেমলিন তা দৃঢ়ভাবে প্রত্যাখ্যান করেছে। পুতিনের রাজনৈতিক উপদেষ্টাদের মতে, এই মুহূর্তে কোনো ধরণের সমঝোতা বা যুদ্ধবিরতি রাশিয়াকে বিশ্বমঞ্চে ‘দুর্বল’ হিসেবে উপস্থাপন করবে, যা তাঁর দীর্ঘমেয়াদী যুদ্ধের লক্ষ্যকে ক্ষুণ্ণ করতে পারে।
সেপ্টেম্বরের সংসদীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে এখন শাসক দল ‘পুতিনের দল’—এই পরিচয় ব্যবহার করে হারানো জনপ্রিয়তা ফিরে পাওয়ার আপ্রাণ চেষ্টা করছে। তবে ড্রোন হামলা এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের অগ্নিমূল্য সাধারণ মানুষের ‘যুদ্ধক্লান্তি’ (War Fatigue)-কে কতটা তীব্র করে তোলে, তার ওপরই নির্ভর করছে ক্রেমলিনের ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক সমীকরণ।