আসানসোলের রেলপাড় এলাকায় ঘটে যাওয়া একটি ছোটখাটো পথ দুর্ঘটনাকে কেন্দ্র করে উত্তাল সোশ্যাল মিডিয়া। তবে এই উত্তাপের পেছনে রয়েছে একগুচ্ছ ভুয়ো তথ্য এবং ভয়ংকর সাম্প্রদায়িক উস্কানি। গুজব ছড়ানো হচ্ছে যে, মদ্যপ অবস্থায় সিআইএসএফ জওয়ান আসানসোলে ১২ জন বাঙালিকে পিষে মেরে ফেলেছে। এই খবর হু হু করে ছড়িয়ে পড়তেই নড়েচড়ে বসেছে আসানসোল-দুর্গাপুর পুলিশ কমিশনারেট। পুলিশের পক্ষ থেকে স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, এই তথ্য সম্পূর্ণ মিথ্যা এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।
আসল ঘটনা কী ছিল?
গত তিনদিন আগে রাজ্য পুলিশের স্টেট আর্মড পুলিশের (SAP) সেভেন ব্যাটালিয়নের একটি বাস আসানসোল রেলপাড় এলাকায় ঢুকে পড়ে একটি দাঁড়িয়ে থাকা অটোকে ধাক্কা মারে। বাসের ধাক্কায় একটি কবরস্থানের পাঁচিল ভেঙে যায়। স্থানীয়রা দাবি করেছিলেন এক কিশোরী সহ কয়েকজন আহত হয়েছেন। উত্তেজিত জনতা বাসটিতে ভাঙচুরও চালায়। আসানসোল উত্তর থানার পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে বাসের চালককে আটক করে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
পুলিশের হুঁশিয়ারি ও পদক্ষেপ:
মঙ্গলবার থেকে এই ঘটনাটিকে বিকৃত করে সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রচার শুরু হয়। দাবি করা হয়, ১২ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং এর পেছনে কেন্দ্রীয় বাহিনী রয়েছে। এই গুজবের মোকাবিলায় আসানসোল-দুর্গাপুর পুলিশ কমিশনারেটের ডিসি (হেড কোয়ার্টার) অরবিন্দ কুমার আনন্দ একটি বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছেন, “এই দুর্ঘটনায় কারও মৃত্যু হয়নি। কেবল একজন পুরুষ সামান্য আহত হয়েছেন। একটি ছোটখাটো দুর্ঘটনাকে কেন্দ্র করে কিছু ব্যক্তি ভ্রান্ত তথ্য ছড়াচ্ছেন।”
ইতিমধ্যেই এই ভুয়ো খবর ছড়ানোর অভিযোগে পুলিশ নির্দিষ্ট ধারায় মামলা রুজু করেছে এবং দু’জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। পুলিশের পক্ষ থেকে সাধারণ মানুষকে অনুরোধ জানানো হয়েছে যে, যাচাই না করে কোনো তথ্য সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করবেন না। গুজব রটনাকারীদের চিহ্নিত করতে সাইবার সেল নজরদারি চালাচ্ছে এবং দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।





