আসানসোলে আবারও চমক, ২১ দিনে SIR-এর কাজ শেষ করে জেলা প্রশাসনের প্রশংসা কুড়োলেন শিক্ষিকা বিএলও করুণা মাজি

এসআইআর (SIR) বা ভোটার তালিকার নিবিড় সংশোধনী প্রক্রিয়া নিয়ে যখন রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে বিএলও (BLO)-দের বিক্ষোভ, হতাশা এবং চাপের ছবি দেখা যাচ্ছে, ঠিক তখনই নজির গড়লেন পশ্চিম বর্ধমান জেলার আসানসোলের এক শিক্ষিকা।

২০ দিনের মাথায় সালানপুর ব্লকের বিএলও বিনীতা কুমারীর সাফল্য দেখানোর একদিন পরেই এবার চমক দেখালেন আসানসোল পুরনিগমের ৫৩ নম্বর ওয়ার্ডের ৪৭ নম্বর বুথের বিএলও করুণা মাজি। তিনি মাত্র ২১ দিনের মাথায় এসআইআর-এর সমস্ত কাজ শেষ করে জেলা প্রশাসনের প্রশংসা কুড়োলেন।

সাফল্যের পেছনের রহস্য:

আসানসোলের রাধানগর রোডের শ্যামাদেবী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষিকা করুণা মাজি জানিয়েছেন, পুঙ্খানুপুঙ্খ হোমওয়ার্ক এবং পরিকল্পনামাফিক কাজ করার ফলেই তিনি এত দ্রুততার সঙ্গে কাজ শেষ করতে পেরেছেন। তাঁর বুথে ভোটারের সংখ্যা ছিল ৬৭১।

করুণা মাজি বলেন, “গত ১৫ বছর ধরে আমি ওই এলাকায় শিক্ষকতা করছি। তাই এলাকার সব মানুষকে চিনি এবং বুথের সমস্ত ভোটারের সহযোগিতা পেয়েছি। সেই কারণেই দ্রুত কাজ শেষ করতে পেরেছি।”

তিনি আরও বলেন:

“আমি স্কুটি নিয়েই বুথের সব জায়গা ঘুরেছি। দু’বেলা কাজ করেছি। আগের থেকে পরিকল্পনা করে নিয়েছিলাম এবং হোম ওয়ার্ক করেছি। তাই দ্রুত কাজ শেষ করতে পেরেছি।”

অন্যান্য বিএলও-দের জন্য বার্তা:

যেখানে অনেক বিএলও চাপ ও হতাশায় ভুগছেন, সেখানে করুণা মাজি অন্যান্যদের উদ্দেশ্যে ধৈর্য ও ইতিবাচক বার্তা দিয়েছেন:

“অযথা হতাশ হবেন না। ধীরে সুস্থে কাজ করুন। প্রয়োজনে প্রশাসন অ্যাসিস্ট্যান্ট বিএলও দিচ্ছেন। তাই কাজটি যখন করতেই হবে ধৈর্য ধরে করুন।”

বিএলও করুণা মাজি এবং অন্যান্য সফল বিএলও-দের এই সাফল্যে সন্তুষ্ট আসানসোলের মহকুমা শাসক তথা এআরও বিশ্বজিৎ ভট্টাচার্য। তিনি বলেন, “ওঁদের শুভেচ্ছা জানাই। অনেকে ৮০-৯০ শতাংশ কাজ করে ফেলেছেন। আশা রাখি বাকিরাও নির্দিষ্ট সময়েই কাজ সেরে ফেলবেন।”