‘আসল’ তৃণমূল কে? নাম ও প্রতীক নিয়ে দুই শিবিরের লড়াইয়ে উত্তাল রাজ্য রাজনীতি!

রাজ্যের শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেসের নাম ও প্রতীক ব্যবহারকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক সংঘাত এখন চরম আকার ধারণ করেছে। ‘কালীঘাট তৃণমূল’ বনাম ‘ঋতব্রত তৃণমূল’-এর এই দ্বৈরথ কেবল দলীয় কোন্দল নয়, বরং একটি বড় আইনি লড়াইয়ের রূপ নিয়েছে। তৃণমূল কংগ্রেসের নাম, প্রতীক ও পরিচয় ব্যবহার করে সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করার অভিযোগে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে কালীঘাট, নিউটাউন, প্রগতি ময়দান এবং সাইবার ক্রাইম থানায় একাধিক অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। কালীঘাট শিবিরের দাবি, এটি নিছক সাংগঠনিক বিবাদ নয়, বরং একটি পরিকল্পিত জালিয়াতি।

যদিও ঋতব্রত শিবিরের দাবি, তারাই প্রকৃত তৃণমূল কংগ্রেস। তাদের এই দাবি ইতিমধ্যেই নির্বাচন কমিশনের নজরে আনা হয়েছে এবং তারা কমিশনের সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় রয়েছে। রাজনৈতিক মহলের মতে, এই সংঘাতের তীব্রতা এতটাই যে তা রাজ্য রাজনীতির সমীকরণ বদলে দিতে পারে। এদিকে, এই টানাপোড়েনের মধ্যেই কলকাতার তপসিয়ার একটি ব্যাঙ্কোয়েট হলে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক করেন। সেখানে কলকাতা পুরসভার প্রাক্তন কাউন্সিলর এবং রাসবিহারীর প্রাক্তন বিধায়ক দেবাশিস কুমার, অরূপ চক্রবর্তীর মতো প্রভাবশালী প্রাক্তন জনপ্রতিনিধিদের উপস্থিতি নতুন করে জল্পনা উসকে দিয়েছে। পর্যবেক্ষকদের মতে, এই প্রাক্তন নেতাদের উপস্থিতি ঋতব্রত শিবিরের সাংগঠনিক শক্তি প্রদর্শনের একটি কৌশল মাত্র।

এই সংঘাতের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ এখন একুশে জুলাইয়ের শহীদ দিবসকে ঘিরে। ভিক্টোরিয়া হাউসের সামনে সভা করার অনুমতি চেয়ে ‘কালীঘাট তৃণমূল’ এবং ‘ঋতব্রত তৃণমূল’—উভয় পক্ষই কলকাতা পুলিশের কাছে পৃথকভাবে আবেদন জানিয়েছে। প্রশাসন এখন দ্বিধাদ্বন্দ্বে পড়েছে যে, একই রাজনৈতিক পরিচয়ে দুটি ভিন্ন পক্ষকে কীভাবে সমাবেশের অনুমতি দেওয়া যায়। এই পরিস্থিতি আগামী দিনে আইনি ও রাজনৈতিক লড়াইকে আরও জটিল করে তুলবে বলেই মনে করা হচ্ছে। এখন নির্বাচন কমিশন ও প্রশাসন এই দাবির নিষ্পত্তি কীভাবে করে, সেদিকেই তাকিয়ে আছে রাজ্যের সাধারণ মানুষ ও রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।